মাদ্রাসার ওয়েবসাইট ডিজাইন
মাদ্রাসার ওয়েবসাইট থাকলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি, ফলাফল, শিক্ষক পরিচিতি ও দানের আবেদন সব এক ঠিকানায় থাকে। ছবক মাদ্রাসার নামে বাংলা ওয়েবসাইট বানিয়ে দেয়; ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের সাথে একসাথে নিলে সুবিধা বেশি।

ওয়েবসাইটে যা থাকে
- মাদ্রাসার পরিচিতি, ইতিহাস ও মুহতামিমের বাণী
- বিভাগ ও শ্রেণির তালিকা
- ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ও অনলাইন আবেদন
- ফলাফল ও নোটিশ প্রকাশ
- শিক্ষকমণ্ডলী ও মাদ্রাসার ফটো গ্যালারি
- দান ও চাঁদার আবেদন পেজ
- মোবাইলে সুন্দরভাবে দেখায় এমন ডিজাইন
পেজগুলো আপনার মাদ্রাসার প্রয়োজন অনুযায়ী কমবেশি করা যায়। ছোট হিফজখানার জন্য পরিচিতি, যোগাযোগ ও দানের পেজই যথেষ্ট; বড় কওমি বা আলিয়া মাদ্রাসার জন্য বিভাগওয়ারি পেজ, শিক্ষক পরিচিতি, ফলাফল ও ভর্তির আলাদা অংশ রাখা হয়।
মাদ্রাসার ওয়েবসাইট কেন দরকার
দূরের অভিভাবক ও প্রবাসী দাতা
মাদ্রাসার খবর, ছবি ও প্রয়োজন দেখে দূর থেকেও যুক্ত থাকতে পারেন, দানের আবেদন পেজ থেকে যোগাযোগ করতে পারেন।
ভর্তি মৌসুম
ভর্তির তারিখ, যোগ্যতা, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র একবার লিখলে বারবার ফোনে বলতে হয় না।
ফলাফল ও নোটিশ
পরীক্ষার ফলাফল, ছুটির নোটিশ ও অনুষ্ঠানের খবর এক জায়গায়, সবাই একই তথ্য দেখে।
বিশ্বাসযোগ্যতা
নিজস্ব ঠিকানায় পরিচিতি, শিক্ষক তালিকা ও যোগাযোগের তথ্য থাকলে নতুন অভিভাবক ও দাতারা সহজে আস্থা রাখতে পারেন।
সফটওয়্যারের সাবডোমেইন আর পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট: পার্থক্য কী
ছবকের সফটওয়্যার প্যাকেজেই মাদ্রাসার নামে একটি সাবডোমেইন ও হোস্টিং থাকে, যেখানে লগইন করে মাদ্রাসা পরিচালনা করা হয়। আর মাদ্রাসার ওয়েবসাইট হলো সবার জন্য উন্মুক্ত প্রকাশ্য পেজ, যা লগইন ছাড়াই যে কেউ দেখতে পারেন। দুটির কাজ আলাদা, তাই প্যাকেজও আলাদা।
| বিষয় | সফটওয়্যারের সাবডোমেইন | পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট |
|---|---|---|
| উদ্দেশ্য | লগইন করে ভর্তি, হাজিরা, বেতন, হিসাব, ফলাফল পরিচালনা | মাদ্রাসার পরিচিতি, ভর্তি, নোটিশ, ফলাফল ও দানের আবেদন প্রকাশ |
| কে দেখেন | অফিস, শিক্ষক ও অভিভাবক (আইডি দিয়ে) | যে কেউ, ইন্টারনেটে খুঁজে বা লিঙ্ক থেকে |
| ঠিকানা | মাদ্রাসার নামে সাবডোমেইন | মাদ্রাসার নিজস্ব ডোমেইনে নেওয়া যায় |
| খরচ | সফটওয়্যার প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত | আলাদা প্যাকেজ, হোয়াটসঅ্যাপে জেনে নিন |
| একসাথে নিলে | একই প্রতিষ্ঠান থেকে সফটওয়্যার, অ্যাপ, ওয়েবসাইট ও সাপোর্ট, সব এক জায়গায় | |
ওয়েবসাইট বানানোর ধাপ
- হোয়াটসঅ্যাপ বা ফোনে যোগাযোগ করে জানান ওয়েবসাইটে কী কী পেজ চান।
- মাদ্রাসার নাম, লোগো, ছবি, পরিচিতি, শিক্ষক তালিকা ও যোগাযোগের তথ্য পাঠান।
- ডিজাইন ও বাংলা কন্টেন্ট বসিয়ে আপনাকে দেখানো হয়, সংশোধন থাকলে জানান।
- নিজস্ব ডোমেইন চাইলে তা যুক্ত করা হয়।
- ওয়েবসাইট চালু হয়; পরে নোটিশ ও ফলাফল কীভাবে হালনাগাদ হবে তা যোগাযোগের সময়ই জেনে নিন।
ওয়েবসাইট চালু হওয়ার পর গুগলে মাদ্রাসার নাম লিখে খুঁজলে যেন পাওয়া যায়, সেজন্য পরিচিতি, ঠিকানা ও ফোন নম্বর স্পষ্টভাবে লেখা থাকে। মাদ্রাসার ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল থাকলে তার লিঙ্কও যুক্ত করা যায়।
কী কী তথ্য প্রস্তুত রাখবেন
মাদ্রাসার ওয়েবসাইট দ্রুত তৈরি হয় যখন তথ্যগুলো আগে থেকে গোছানো থাকে। নিচের তালিকা ধরে প্রস্তুত করুন:
- মাদ্রাসার পূর্ণ নাম, প্রতিষ্ঠাকাল, ঠিকানা ও ফোন নম্বর
- লোগো ও মাদ্রাসার কয়েকটি ভালো ছবি
- মুহতামিম বা অধ্যক্ষের বাণী ও ছবি
- বিভাগ, শ্রেণি ও শিক্ষকদের তালিকা
- ভর্তির নিয়ম, সময় ও ফি
- দান গ্রহণের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য (যদি প্রকাশ করতে চান)
- নিজস্ব ডোমেইন থাকলে তার তথ্য
সফটওয়্যার ও মাদ্রাসার ওয়েবসাইট একসাথে নিলে যা পাবেন
- একই প্রতিষ্ঠান থেকে সফটওয়্যার, অভিভাবক অ্যাপ ও ওয়েবসাইট, সাপোর্টের জন্য একটি নম্বরই যথেষ্ট
- মাদ্রাসার পরিচিতি ও লোগো সফটওয়্যার, আইডি কার্ড, রশিদ ও ওয়েবসাইটে একই রকম থাকে
- অভিভাবক ওয়েবসাইটে মাদ্রাসাকে চেনেন, আর অ্যাপে সন্তানের হাজিরা, বেতন ও ফলাফল দেখেন
- দানের আবেদন ওয়েবসাইটে, আর দাতার হিসাব ও রশিদ সফটওয়্যারে
- বাংলায় ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ সাপোর্ট, দুটির জন্যই
ভর্তি ও দানের পেজ কীভাবে কাজে লাগে
ভর্তির সময় অভিভাবকরা সবচেয়ে বেশি জানতে চান কোন বিভাগে কত বছর বয়সে ভর্তি নেওয়া হয়, কী কাগজ লাগে, ফি কত এবং আবাসিক ব্যবস্থা আছে কিনা। এই তথ্যগুলো ওয়েবসাইটে থাকলে অফিসে ফোন কম আসে এবং আগ্রহী অভিভাবক অনলাইনে আবেদন করে রাখতে পারেন। দানের পেজে মাদ্রাসার প্রয়োজন, এতিম ও অস্বচ্ছল ছাত্রদের খরচ এবং দান পাঠানোর নিয়ম লেখা থাকলে দূরের ও প্রবাসী দাতারা সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। দান পাওয়ার পর সফটওয়্যারে দাতার নামে রশিদ কাটা যায়, ফলে হিসাব স্বচ্ছ থাকে। কোন মাদ্রাসাগুলো ইতিমধ্যে ছবক ব্যবহার করছে তা মাদ্রাসা তালিকায় দেখতে পারেন।
নমুনা দেখে নিন
অনেক মাদ্রাসা ইতিমধ্যেই আমাদের তৈরি ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে।