মাদ্রাসার পরীক্ষা ও রেজাল্ট সফটওয়্যার
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে পরীক্ষা তৈরি করে বিষয়ওয়ারি নম্বর এন্ট্রি দিলেই মার্কশিট ও মেধাতালিকা নিজে থেকেই তৈরি হয়। হাতে যোগ করা, পুনরায় দেখা বা রেজাল্ট শিট হাতে লেখার প্রয়োজন থাকে না।

পরীক্ষার পর সবচেয়ে বেশি সময় কোথায় যায়?
খাতা দেখা শেষ হওয়ার পর আসল কাজ শুরু হয়: বিষয়ওয়ারি নম্বর এক জায়গায় তোলা, যোগ করা, পাস ফেল ঠিক করা, মেধাতালিকা সাজানো আর প্রত্যেকের মার্কশিট লেখা। বড় মাদ্রাসায় এই কাজে কয়েকজন শিক্ষকের কয়েক দিন চলে যায়, আর হাতে যোগ করতে গিয়ে ভুলও হয়।
সফটওয়্যারে শিক্ষক শুধু নিজের বিষয়ের নম্বর বসান, বাকি হিসাব সিস্টেম করে। মোট নম্বর, শতকরা, গ্রেড, প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থান সব সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়। একটি নম্বর বদলালে মেধাতালিকাও সাথে সাথে বদলে যায়।
পরীক্ষা অংশে কী কী আছে?
পরীক্ষা তৈরি
সামাসিক, বার্ষিক বা সাপ্তাহিক যেকোনো পরীক্ষা নাম দিয়ে তৈরি করা যায়।
বিষয় ও পূর্ণমান
প্রতি শ্রেণির বিষয়, পূর্ণমান ও পাস মার্ক আলাদা করে ঠিক করা যায়।
নম্বর এন্ট্রি
শিক্ষক নিজের বিষয়ের নম্বর এক পাতায় বসাতে পারেন, মোবাইলেও চলে।
মার্কশিট
প্রত্যেক ছাত্রের মার্কশিট মাদ্রাসার নাম ও লোগো সহ প্রিন্ট করা যায়।
মেধাতালিকা
শ্রেণি অনুযায়ী প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় সহ পূর্ণ মেধাতালিকা পাওয়া যায়।
প্রগ্রেস রিপোর্ট
একটি ছাত্রের বছরজুড়ে কয়টি পরীক্ষায় কেমন করল তা এক পাতায় দেখা যায়।
প্রশংসাপত্র
ফলাফল থেকেই পুরস্কার বা প্রশংসাপত্র প্রিন্ট করা যায়।
ফলাফল জানানো
ফলাফল প্রকাশ হলে অভিভাবক অ্যাপে দেখতে পান, এসএমএসও দেওয়া যায়।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধাপগুলো
- পরীক্ষার নাম ও তারিখ দিয়ে নতুন পরীক্ষা খোলা হয়।
- কোন শ্রেণির কোন বিষয়, কত নম্বরে হবে তা ঠিক করা হয়।
- খাতা দেখা শেষ হলে শিক্ষকরা নম্বর এন্ট্রি করেন।
- সব বিষয় শেষ হলে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
- মার্কশিট ও মেধাতালিকা প্রিন্ট করে সমাপনীতে বিতরণ করা হয়।
হাতে রেজাল্ট তৈরি আর সফটওয়্যারে
| কাজ | হাতে | ছবক সফটওয়্যারে |
|---|---|---|
| নম্বর যোগ | হাতে, ভুল হতে পারে | স্বয়ংক্রিয় |
| মেধাতালিকা | আলাদা করে সাজাতে হয় | সঙ্গে সঙ্গে তৈরি |
| মার্কশিট | একেকটি হাতে লেখা | সবার একসাথে প্রিন্ট |
| পুরনো ফলাফল | ফাইল খুঁজতে হয় | যেকোনো সময় দেখা যায় |
| অভিভাবককে জানানো | ডেকে বলতে হয় | অ্যাপ বা এসএমএসে |
প্রগ্রেস রিপোর্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
একটি পরীক্ষার নম্বর দিয়ে ছাত্রকে পুরো বোঝা যায় না। প্রগ্রেস রিপোর্টে একসাথে কয়েকটি পরীক্ষার ফল পাশাপাশি দেখা যায় বলে কোন ছাত্র এগিয়ে যাচ্ছে আর কোন ছাত্র হঠাৎ পিছিয়ে পড়ছে তা সহজে বোঝা যায়। অভিভাবকের সাথে কথা বলার সময় এই এক পাতা রিপোর্টই যথেষ্ট। উপস্থিতি কম হলে ফলাফলে তার প্রভাব পড়ে কি না তাও মিলিয়ে দেখা যায়।
- প্রতিটি বিষয়ে আলাদা পাস মার্ক ঠিক করা যায়।
- মৌখিক ও লিখিত অংশ আলাদা নম্বরে রাখা যায়।
- অনুপস্থিত ছাত্রকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা যায়।
- ফলাফল প্রকাশের আগে যাচাই করে নেওয়া যায়।
- পুরনো বছরের রেজাল্ট পরেও প্রিন্ট করা যায়।
এবারের পরীক্ষার আগেই চালু করতে চান?
ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করুন, আপনার শ্রেণি ও বিষয় ধরে সাজিয়ে দেব।
পরীক্ষা নেওয়ার আগে যে প্রস্তুতি লাগে
প্রথমবার সফটওয়্যারে পরীক্ষা নিতে হলে তিনটি জিনিস আগে ঠিক করতে হয়: শ্রেণির তালিকা, প্রতি শ্রেণির বিষয় আর প্রতি বিষয়ের পূর্ণমান। এই কাজটি একবার করলেই পরের সব পরীক্ষায় আর করতে হয় না, শুধু নতুন পরীক্ষার নাম ও তারিখ দিলেই চলে। কওমি ধারার মাদ্রাসায় বিষয়ের নাম ও পূর্ণমান আলাদা হয় বলে সেটিও নিজের মতো সেট করা যায়।
অনেক মাদ্রাসা পরীক্ষার পর ফলাফল প্রকাশের দিন অভিভাবকদের ডাকেন। সেই সময় হাতে মার্কশিট, মেধাতালিকা ও প্রশংসাপত্র তৈরি থাকলে অনুষ্ঠান গোছালো হয় এবং মাদ্রাসার ব্যবস্থাপনার উপর আস্থা বাড়ে। যাঁরা উপস্থিত থাকতে পারেন না, তাঁদের কাছে ফলাফল অ্যাপ বা এসএমএসে পৌঁছে যায়।
অন্য অংশের সাথে সংযোগ
পরীক্ষার ফলাফল শুধু একটি কাগজ নয়। হাজিরা রেকর্ড এবং হিফজ ট্র্যাকিং এর অগ্রগতি পাশাপাশি দেখলে একজন ছাত্রের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায়। ফলাফল প্রকাশের পর প্রশংসাপত্র ও সনদের ডিজাইন পাবেন আইডি কার্ড ও প্রিন্ট ডিজাইন অংশে।
স্কুল বা স্কুল ও মাদ্রাসা দুটো ধারায় চলা প্রতিষ্ঠানের জন্য দেখুন স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার। সব ফিচার দেখতে ফিচার পাতা এবং খরচ জানতে প্রাইসিং পাতা দেখুন।