হিফজ বিভাগের জন্য মাদ্রাসা সফটওয়্যার
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে হিফজ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের আলাদা তালিকা রাখা যায়, আর দৈনিক পাঠ মূল্যায়নে প্রতিদিন কে পড়া পেরেছে আর কে পারেনি তা লিখে রাখা যায়। বই বা অংশ অনুযায়ী আলাদা হিসাব রাখা যায়, মাসের ও বছরের গণনা নিজে থেকেই হয়, আর অভিভাবক প্রতিদিন সেটি জানতে পারেন। মাসিক অগ্রগতির রিপোর্ট প্রিন্ট করে অভিভাবকের হাতে দেওয়া যায়, অ্যাপ ও এসএমএসেও জানানো যায়।

হিফজ বিভাগে খাতার হিসাব কেন কঠিন হয়ে যায়?
একজন উস্তাদের অধীনে সাধারণত অনেক ছাত্র থাকে এবং প্রত্যেকের সবক আলাদা, সাবকির অংশ আলাদা, আমুখতার তালিকাও আলাদা। খাতায় লিখলে সেই দিনের কাজ ঠিকই থাকে, কিন্তু মাস শেষে কে কতটুকু এগিয়েছে তা বের করতে অনেক সময় চলে যায়। উস্তাদ বদল হলে আগের খাতা খুঁজে পাওয়া যায় না, আর অভিভাবক জিজ্ঞেস করলে মুখে মুখে আন্দাজে উত্তর দিতে হয়।
সফটওয়্যারে প্রতিদিনের এন্ট্রি একবার দিলেই তা ছাত্রের স্থায়ী রেকর্ডে জমা হয়ে যায়। ফলে যেকোনো দিন, যেকোনো মাসের হিসাব সেকেন্ডের মধ্যে বের করা যায় এবং কোন ছাত্র পিছিয়ে পড়ছে তা আগেভাগেই ধরা পড়ে।
হিফজ ট্র্যাকিংয়ে কী কী পাওয়া যায়?
দৈনিক পাঠের মান
শিক্ষক প্রতিদিন প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নামের পাশে তারিখের ঘরে এক চাপে মান বসান: ভালো, মধ্যম, দুর্বল বা অনুপস্থিত। প্রতিষ্ঠান চাইলে মানের নাম নিজেদের প্রচলিত পরিভাষায় বসিয়ে নিতে পারে।
বই বা অংশ অনুযায়ী আলাদা হিসাব
একই বিষয়ে একাধিক বই বা অংশ থাকলে প্রতিটির জন্য আলাদা হিসাব রাখা যায়। হিফজ বিভাগ চাইলে নিজেদের ভাগ অনুযায়ী নাম দিয়ে আলাদা এন্ট্রি রাখতে পারে।
মাস ও বছরের গণনা
প্রতিটি নামের পাশে পুরো মাসে কয়টি ভালো, মধ্যম, দুর্বল ও অনুপস্থিত তা গোনা অবস্থায় থাকে। বার্ষিক সারাংশে প্রতি মাসের হিসাব এক নজরে দেখা যায়।
হিফজ শ্রেণির আলাদা তালিকা
হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আলাদা শ্রেণি হিসেবে রাখা যায়। ভর্তি, হাজিরা, বেতন ও রিপোর্ট সব হিফজ বিভাগ ধরে আলাদা দেখা যায়।
মাসিক রিপোর্ট ও প্রিন্ট
এক মাসে কত দিন পাঠ ভালো হয়েছে, কত দিন দুর্বল ও কত দিন অনুপস্থিত, তার শীট শ্রেণি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরের ঘরসহ প্রিন্ট করা যায়।
অভিভাবককে জানানো
অভিভাবক অ্যাপে ঢুকে ছেলের অগ্রগতি নিজেই দেখতে পারেন, চাইলে এসএমএসেও জানানো যায়।
প্রতিদিন কীভাবে কাজ করে?
- শিক্ষক নিজের শ্রেণি, বিষয় ও বই বেছে নিলে পুরো মাসের ছক আসে।
- নামের পাশে আজকের তারিখের ঘরে এক চাপে মান বসান।
- ভুল হলে আবার চাপ দিয়ে বদলানো যায়।
- মাসের গণনা তখনই নিজে থেকে হালনাগাদ হয়ে যায়।
- মাস শেষে মুহতামিম এক ক্লিকে পুরো হিফজ বিভাগের অগ্রগতি দেখেন।
খাতা আর সফটওয়্যারে পার্থক্য কোথায়?
| বিষয় | হিফজ খাতা | ছবক সফটওয়্যার |
|---|---|---|
| দৈনিক এন্ট্রি | হয় | হয় |
| মাসের গণনা | হাতে গুনতে হয় | নিজে থেকেই হয় |
| মাসিক রিপোর্ট | আলাদা করে লিখতে হয় | এক ক্লিকে প্রিন্ট |
| উস্তাদ বদল হলে | রেকর্ড হারিয়ে যায় | সব রেকর্ড থেকে যায় |
| অভিভাবক দেখতে পান | পারেন না | অ্যাপে দেখতে পারেন |
আপনার হিফজ বিভাগ কেমন চলছে, এক নজরে দেখতে চান?
ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে বলুন, আমরা আপনার মাদ্রাসার জন্য বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দেব।
হিফজ বিভাগে যে সমস্যাগুলো কমে যায়
- কোন শিক্ষার্থী কয়দিন ধরে দুর্বল বা অনুপস্থিত রয়েছে তা মাসের গণনায় সাথে সাথে চোখে পড়ে।
- দুই উস্তাদের হালকার অগ্রগতি পাশাপাশি রেখে তুলনা করা যায়।
- সালানা জলসা বা হাফেসের তালিকা তৈরির সময় পুরনো খাতা ঘাঁটতে হয় না।
- অভিভাবক ফোন করলে সাথে সাথে সঠিক তথ্য বলা যায়।
- ছাত্র অন্য মাদ্রাসায় গেলেও তার পূর্ণ রেকর্ড প্রিন্ট করে দেওয়া যায়।
- ছুটির পর কোন শিক্ষার্থী কোথায় দাঁড়িয়ে আছে তা আগের মাসের হিসাব দেখেই বোঝা যায়।
মাদ্রাসার শৃঙ্খলা ও পড়াশোনার মান একসাথে ধরে রাখতে হলে তথ্য এক জায়গায় থাকা দরকার। হিফজ ট্র্যাকিং আলাদা কোনো সফটওয়্যার নয়, এটি ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারেরই একটি অংশ। একই সিস্টেমে ভর্তি, বেতন, হাজিরা ও হিসাব থাকায় একজন ছাত্রের সব তথ্য এক পাতাতেই দেখা যায়। নতুন মাদ্রাসা শুরু করলে প্রথম দিকে শুধু হিফজ অংশটি ব্যবহার করেও অভ্যাস করা যায়, পরে ধীরে ধীরে অন্য অংশগুলো চালু করা যায়। শুরু করার আগে বিনামূল্যে ডেমো দেখে নেওয়াই ভালো।
কারা এই ফিচারটি বেশি ব্যবহার করেন?
হিফজখানা ও নূরানী বিভাগ আছে এমন মাদ্রাসাগুলোতে এই অংশটি সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। পুরো হিফজ মাদ্রাসার জন্য কী কী সুবিধা আছে তা হিফজ মাদ্রাসা সফটওয়্যার পাতায় বিস্তারিত দেওয়া আছে। কওমি ধারার মাদ্রাসার জন্য কওমি মাদ্রাসা সফটওয়্যার পাতাটিও দেখতে পারেন।
হিফজের পাশাপাশি ছাত্রের হাজিরা ও পরীক্ষার ফলাফল একই সিস্টেমে থাকায় অভিভাবককে আলাদা করে কিছু জানাতে হয় না। সব ফিচারের তালিকা আছে ফিচার পাতায়।