মাদ্রাসার হিসাব সফটওয়্যার, আয় ব্যয়ের হিসাব
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে খাত অনুযায়ী প্রতিদিনের আয় ও ব্যয় লেখা হয়, ফলে ক্যাশ ব্যালেন্স সব সময় হালনাগাদ থাকে। শিক্ষকের বেতন ও অগ্রিম সহ মাসের পূর্ণ রিপোর্ট এক ক্লিকে প্রিন্ট করে কমিটির সামনে রাখা যায়।

মাদ্রাসার হিসাব খাতা কেন যথেষ্ট নয়?
অনেক মাদ্রাসায় এখনও মোটা একটি খাতায় হিসাব লেখা হয়। খাতায় লেখা খারাপ নয়, কিন্তু তিনটি বড় ঝুঁকি থেকে যায়। এক, খাতা হারালে, পুড়লে বা পানিতে নষ্ট হলে পুরো বছরের হিসাব শেষ। দুই, খাতায় যোগবিয়োগ হাতে করতে হয় বলে ভুল থেকে যায় এবং পরে সেই ভুল খুঁজে বের করা কষ্ট। তিন, যিনি লেখেন তিনি ছাড়া অন্য কেউ সহজে বুঝতে পারেন না, ফলে তিনি চলে গেলে বড় সমস্যা হয়।
এক্সেল ফাইলেও হুবহু সমস্যা থাকে। একটি ফাইল একজনের কম্পিউটারে পড়ে থাকে, ব্যাকআপ নেওয়া হয় না, সূত্র বা রো মুছে গেলে কেউ টের পায় না, আর কে কবে কী বদলালো তার কোনো রেকর্ড থাকে না। বার্ষিক হিসাব দেওয়ার সময় দেখা যায় কয়েক হাজার টাকার হিসাব মিলছে না, কিন্তু কোথায় ভুল হলো তা ব্যাখ্যা করা যায় না। মাদ্রাসার টাকা মূলত মানুষের দান ও অভিভাবকের কষ্টের টাকা, তাই হিসাবে স্পষ্টতা সবচেয়ে জরুরি।
হিসাব অংশে কী কী আছে?
খাত অনুযায়ী আয়
বেতন, চাঁদা, দান, সাদকা ও অন্যান্য আয় আলাদা খাতে লেখা যায়।
খাত অনুযায়ী ব্যয়
খানা, বিদ্যুৎ, বাজার, মেরামত ও বেতন সহ প্রতিটি খরচ আলাদা খাতে থাকে।
দৈনিক হিসাব
আজ কত টাকা এলো আর কত গেল তা দিন শেষে এক পাতায় দেখা যায়।
ক্যাশ ব্যালেন্স
হাতে বা ব্যাংকে এখন কত টাকা আছে তা সব সময় হালনাগাদ থাকে।
শিক্ষকের বেতন
প্রতি শিক্ষকের মাসিক বেতন, বোনাস ও কাটার হিসাব রাখা যায়।
অগ্রিম ও বকেয়া
কোন শিক্ষক কত অগ্রিম নিয়েছেন এবং কত বাকি আছে তা স্পষ্ট থাকে।
মাসিক রিপোর্ট
মাস বা বছর অনুযায়ী আয় ব্যয়ের পূর্ণ রিপোর্ট প্রিন্ট করা যায়।
ইউজার পারমিশন
কে হিসাব দেখতে পারবেন আর কে এন্ট্রি দিতে পারবেন তা ঠিক করা যায়।
পূর্ণাঙ্গ অ্যাকাউন্টিং মডিউল
যেসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মমাফিক হিসাবরক্ষণ দরকার, তাঁদের জন্য আলাদা অ্যাকাউন্টিং মডিউল চালু করে নেওয়া যায়। এতে উপরের সাধারণ হিসাবের সঙ্গে পেশাদার খাতাপত্র যুক্ত হয়।
হিসাবের তালিকা
হিসাবের পূর্ণ তালিকা তৈরি করে পুরনো তহবিলের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া যায়।
চার রকম ভাউচার
জার্নাল, পেমেন্ট, রিসিট ও কন্ট্রা ভাউচার।
ট্রায়াল ব্যালেন্স
সব খাতের ডেবিট ও ক্রেডিট মিলিয়ে দেখা যায় হিসাব মিলছে কি না।
ব্যালেন্স শিট ও লাভ ক্ষতি
নির্দিষ্ট সময়ের ব্যালেন্স শিট ও লাভ ক্ষতির হিসাব।
খতিয়ান ও নগদ বই
সাধারণ খতিয়ান, দৈনিক বই ও নগদ বই আলাদা করে দেখা যায়।
স্থায়ী সম্পদ
স্থায়ী সম্পদের তালিকা, রেজিস্টার ও অবচয় হিসাব।
আরও যেসব হিসাব আছে
- অডিট রিপোর্ট: সব তহবিল মিলিয়ে বা তহবিল ধরে প্রাপ্তি ও প্রদানের পূর্ণ হিসাব, নিরীক্ষার সময় যা দরকার হয়।
- কালেকশন বাই ইউজার: কোন কর্মী কত টাকা আদায় করেছেন এবং তাঁর হাত দিয়ে কত খরচ হয়েছে, তারিখ ও ব্যবহারকারী ধরে।
- ইউজার ওয়াইজ ক্যাশবুক: দায়িত্ব ভাগ করা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহির জন্য কাজে লাগে।
- ঋণ ও বকেয়া: ঋণ প্রদান, ঋণ গ্রহণ, দোকানের বকেয়া এবং বকেয়া গ্রহণ ও প্রদানের আলাদা হিসাব।
- এতিম স্পনসর: কোন এতিম শিক্ষার্থীর দায়িত্ব কে নিয়েছেন এবং কে কত দিয়েছেন তার হিসাব।
- মাসিক দাতা: যাঁরা প্রতি মাসে নিয়মিত দান করেন তাঁদের আলাদা তালিকা ও একসঙ্গে একাধিক রসিদ প্রিন্ট।
- রশিদ বই: কত বই মজুদ, কাকে কোন নম্বরের বই দেওয়া হলো আর ব্যবহারের পর কত ফেরত এলো।
- ইউজার অ্যাক্টিভিটি লগ: সফটওয়্যারে কে কখন কী পরিবর্তন করেছেন তার পূর্ণ ইতিহাস, ব্যবহারকারী ও তারিখ ধরে খুঁজে দেখা যায়। কোনো এন্ট্রি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কে লিখেছেন তা প্রমাণসহ দেখানো যায়।
n
খাতা, এক্সেল আর সফটওয়্যারের তুলনা
| বিষয় | হিসাব খাতা | এক্সেল | ছবক |
|---|---|---|---|
| নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি | বেশি | বেশি | কম, সার্ভারে থাকে |
| যোগবিয়োগ | হাতে | সূত্র দিয়ে | স্বয়ংক্রিয় |
| কে কবে বদলালো | জানা যায় না | জানা যায় না | রেকর্ড থাকে |
| একসাথে কয়েকজন কাজ | সম্ভব নয় | ঝামেলা হয় | সম্ভব |
| বেতন আদায়ের সাথে সংযোগ | নেই | নেই | সরাসরি |
কমিটিকে হিসাব দেওয়া সহজ হয় কীভাবে?
- প্রতিদিন আয় ও ব্যয় সাথে সাথে এন্ট্রি করা হয়।
- মাস শেষে খাতওয়ারি রিপোর্ট বের করা হয়।
- রিপোর্টটি প্রিন্ট করে মিটিংয়ে দেওয়া হয়।
- কেউ প্রশ্ন করলে সেই খাতের বিস্তারিত এন্ট্রি দেখানো হয়।
- বছর শেষে পুরো বছরের হিসাব একসাথে পাওয়া যায়।
- হিসাবরক্ষক বদল হলেও সব রেকর্ড রয়ে যায়।
- মুহতামিম বাসা থেকেও ব্যালেন্স দেখতে পারেন।
- দাতারা জানতে পারেন তাঁদের টাকা কোন খাতে খরচ হয়েছে।
- একাধিক শাখা থাকলে শাখাওয়ারি হিসাব পাওয়া যায়।
- পুরনো যেকোনো দিনের হিসাব সেকেন্ডে বের হয়।
হিসাব গোছাতে চান?
আপনার মাদ্রাসার খাতগুলো বলুন, সেইভাবে সাজিয়ে বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দেব।
আর কোন অংশের সাথে যুক্ত?
বেতন ও চাঁদা আদায় অংশে যত টাকা আসে তা সরাসরি আয় হিসেবে এই হিসাবে চলে আসে, তাই দুই জায়গায় লিখতে হয় না। শিক্ষকের হাজিরা থেকে উপস্থিতি দেখে বেতন তৈরি করা সহজ হয়। কওমি মাদ্রাসার জন্য পূর্ণ সমাধান দেখতে কওমি মাদ্রাসা সফটওয়্যার পাতাটি দেখুন।
সব ফিচারের তালিকা আছে ফিচার পাতায়। মাসিক, বার্ষিক ও এককালীন প্যাকেজের খরচ জানতে প্রাইসিং পাতা দেখুন, আর নিজের চোখে দেখতে ফ্রি ডেমো নিন।