মাদ্রাসার বেতন ও চাঁদা আদায় সফটওয়্যার

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে প্রতিটি ছাত্রের মাসিক বেতন, বকেয়া, চাঁদা ও দান একই জায়গায় লেখা হয় এবং টাকা নেওয়ার সাথে সাথে রশিদ প্রিন্ট করা যায়। কার কত বকেয়া আছে এবং মাসে মোট কত আদায় হলো, তা এক ক্লিকে দেখা যায়।

মাদ্রাসার বেতন ও চাঁদা আদায় সফটওয়্যার: ছবক সফটওয়্যারের নমুনা

বেতন আদায়ে সবচেয়ে বড় ঝামেলা কোনটি?

টাকা নেওয়া কঠিন নয়, কঠিন হলো হিসাব রাখা। কোন ছাত্র কোন মাসের বেতন দিয়েছে, কার কত বকেয়া, কাকে কত ছাড় দেওয়া হয়েছে, এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর খাতা থেকে বের করতে অনেক সময় লাগে। একাধিক মানুষ টাকা নিলে হিসাব মেলানো আরও কঠিন।

সফটওয়্যারে ছাত্র ভর্তির সময় তার বেতনের পরিমাণ ঠিক করে দেওয়া হয়। তারপর প্রতি মাসে সেই ছাত্রের নামে বিল নিজে থেকেই তৈরি হয়। কেউ টাকা দিলে অ্যাডমিন শুধু পরিমাণ লিখে সেভ করেন, বাকি হিসাব সিস্টেম নিজেই করে। ফলে মাস শেষে বকেয়ার তালিকা বের করতে এক মিনিটও লাগে না।

বেতন ও চাঁদা অংশে কী কী আছে?

মাসিক বেতন

শ্রেণি বা ছাত্র অনুযায়ী বেতনের পরিমাণ ঠিক করা যায়। আবাসিক ও অনাবাসিকের ফি আলাদা রাখা যায়।

বকেয়ার তালিকা

কোন ছাত্রের কত টাকা কত মাস ধরে বকেয়া তার তালিকা এক ক্লিকে বের হয়।

দান ও চাঁদা

এলাকার দাতা, সাহায্যপ্রার্থী বা বার্ষিক চাঁদার টাকা আলাদা খাতে লেখা যায়।

রশিদ প্রিন্ট

টাকা নেওয়ার সাথে সাথে মাদ্রাসার নাম ও সিল সহ রশিদ প্রিন্ট করা যায়।

দাতার হিসাব

কোন দাতা কবে কত দিয়েছেন তার পূর্ণ রেকর্ড থাকে, পরে ধন্যবাদ জানাতে কাজে লাগে।

আদায়ের রিপোর্ট

দিন, মাস বা শ্রেণি অনুযায়ী মোট আদায়ের রিপোর্ট প্রিন্ট করা যায়।

আদায়ের কাজটি দিনে কীভাবে চলে?

  1. অভিভাবক বা ছাত্র অফিসে এলে নাম লিখে খুঁজে বের করা হয়।
  2. পর্দায় তার বকেয়া ও চলতি মাসের বিল দেখা যায়।
  3. যত টাকা দিলেন ততটুকু লিখে সেভ করা হয়।
  4. সাথে সাথে রশিদ প্রিন্ট হয় এবং চাইলে এসএমএস যায়।
  5. দিন শেষে মোট আদায়ের হিসাব মিলিয়ে নেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীর খাতা ও ফি ছাড়

শিক্ষার্থী খাতা

একজন শিক্ষার্থীর কত ধার্য হয়েছে, কত জমা পড়েছে আর কত বাকি, তা ধারাবাহিক বিবরণীতে দেখা ও প্রিন্ট করা যায়।

মাসভিত্তিক ফি ছাড়

কোন শিক্ষার্থীকে কোন মাসে কোন ফিতে কত ছাড়, তা একটি ছকে বসিয়ে দেওয়া যায়। পুরো শ্রেণির জন্য এক টেমপ্লেট বানিয়ে সবার উপর প্রয়োগও করা যায়।

ছাড়প্রাপ্তদের তালিকা

কারা ছাড় পাচ্ছেন তার পূর্ণ তালিকা দেখা ও প্রিন্ট করা যায়, কমিটির সামনে দেওয়ার মতো করে।

স্পেশাল বেতন

নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষার্থীর জন্য শ্রেণির সাধারণ হারের বাইরে আলাদা ফি তৈরি ও বরাদ্দ করা যায়।

একাধিক মাস একসাথে

একজনের কয়েক মাসের বেতন একবারেই নেওয়া যায় এবং একটি রসিদেই সব মাস দেখানো যায়।

দ্রুত বেতন আদায়

মোবাইল নম্বর, ফর্ম নম্বর, রোল বা নাম দিয়ে খুঁজে এক পর্দাতেই টাকা নেওয়া যায়, ভিড়ের সময়ের জন্য।

রসিদ ও বকেয়ার এসএমএস

  • রসিদ সাধারণ কাগজে অথবা থার্মাল প্রিন্টারে (৮০ মিমি ও ৫৮ মিমি) ছাপানো যায়। একবার ঠিক করে দিলেই সব রসিদ সেই মাপে বের হয়।
  • রসিদ নম্বর দিয়ে আগের কোনো আদায়ের রসিদ খুঁজে বের করে আবার প্রিন্ট করা যায়।
  • বকেয়ার এসএমএস কাকে পাঠানো হয়েছে সফটওয়্যার মনে রাখে, তাই একই অভিভাবকের কাছে দুবার এসএমএস যায় না ও খরচ বাড়ে না। দরকার হলে এক চাপে রিসেট করে আবার পাঠানো যায়।
  • ভর্তির সময়ের বকেয়া আর পুরনো বছরের বকেয়ার আলাদা তালিকা আছে।
অভিভাবক চাইলে ঘরে বসেই বকেয়া বেতন দিতে পারেন। বিস্তারিত অনলাইনে বেতন পরিশোধ পেজে।

খাতা আর সফটওয়্যারে পার্থক্য

কাজ খাতায় ছবক সফটওয়্যারে
বকেয়ার তালিকা পাতা ধরে ধরে দেখতে হয় এক ক্লিকে
রশিদ হাতে লেখা প্রিন্ট হয়
দুই বছর আগের রেকর্ড খুঁজে পাওয়া কঠিন সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়
একাধিক কর্মী টাকা নিলে হিসাব মেলানো কঠিন কে কত নিল তা রেকর্ড থাকে
মাসের মোট আদায় যোগ করতে হয় রিপোর্টে তৈরি

কমিটি ও দাতাদের আস্থা বাড়ে কীভাবে?

  • প্রতিটি টাকার বিপরীতে রশিদ থাকে, তাই প্রশ্ন ওঠার সুযোগ কমে।
  • দাতা চাইলে তাঁর নিজের দানের পূর্ণ তালিকা প্রিন্ট করে দেওয়া যায়।
  • কমিটির মিটিংয়ে মাসের আদায় ও বকেয়ার রিপোর্ট এক পাতায় দেখানো যায়।
  • কোন খাতে কত টাকা এলো তা আলাদা করে দেখা যায়।
  • হিসাবরক্ষক বদল হলেও পুরনো সব রেকর্ড রয়ে যায়।

বকেয়ার তালিকা এক মিনিটে পেতে চান?

আপনার মাদ্রাসার বেতনের নিয়ম বলুন, সেইভাবে সাজিয়ে ডেমো দেখিয়ে দেব।

বকেয়া কমাতে যা করতে পারেন

বেশিরভাগ মাদ্রাসায় বকেয়া জমে যায় মূলত দুটি কারণে। এক, অভিভাবক মনে করিয়ে দেওয়ার মতো কেউ থাকে না। দুই, কার কত বাকি সেটাই সময়মতো জানা যায় না। সফটওয়্যারে দুটি সমস্যাই একসাথে সমাধান হয়। মাসের শুরুতে বকেয়ার তালিকা বের করে শুধু সেই অভিভাবকদের এসএমএস পাঠানো যায়, সবাইকে নয়। এতে যাঁরা নিয়মিত দেন তাঁরা অহেতুক বার্তা পান না আর যাঁরা দেন নি তাঁরা ভদ্রভাবে মনে করিয়ে দেওয়া পান।

অনেক মাদ্রাসায় একাধিক খাতে টাকা আসে: মাসিক বেতন, ভর্তি ফি, পরীক্ষা ফি, খানার খরচ, বিদ্যুৎ বিল ও বার্ষিক চাঁদা। প্রতিটি খাত আলাদা করে সেট করা যায় বলে একজন ছাত্রের পুরো বছরের হিসাব এক পাতায় দেখা যায়। এতিম বা গরিব ছাত্রদের ছাড় দিলে সেটিও রেকর্ড হিসেবে থাকে, ফলে কমিটি জানতে পারে মাদ্রাসা বছরে মোট কত টাকা ছাড় দিয়েছে। এই হিসাব পরে দাতাদের কাছে মাদ্রাসার বাস্তব প্রয়োজন বোঝাতেও কাজে লাগে।

হিসাবের সাথে কীভাবে মিলে?

বেতন ও চাঁদায় আসা প্রতিটি টাকা সরাসরি আয় ব্যয়ের হিসাব এ আয় হিসেবে চলে যায়, তাই আলাদা করে আবার লিখতে হয় না। টাকা পাওয়ার খবর অভিভাবককে জানাতে এসএমএস বা অভিভাবক অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।

স্কুল বা আলিয়া ধারার প্রতিষ্ঠানের জন্যও একই ব্যবস্থা কাজ করে। বিস্তারিত দেখুন আলিয়া মাদ্রাসা সফটওয়্যার পাতায়। সব ফিচার একসাথে দেখতে ফিচার পাতা এবং খরচ জানতে প্রাইসিং পাতা দেখুন।

মাদ্রাসার বেতন ও চাঁদা আদায় সফটওয়্যার নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

প্রতি ছাত্রের বেতন আলাদা রাখা যাবে?
যাবে। শ্রেণির সাধারণ বেতন ঠিক করার পরও নির্দিষ্ট ছাত্রের জন্য কম বা ফ্রি করা যায়।
এক মাসের টাকা দুই কিস্তিতে নেওয়া যায়?
যায়। আংশিক পরিশোধ লেখা যায়, বাকিটুকু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়া হিসেবে থেকে যায়।
রশিদে মাদ্রাসার নাম ও লোগো দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ। রশিদের ডিজাইন মাদ্রাসার নাম, ঠিকানা ও লোগো সহ তৈরি করে দেওয়া হয়।
দান ও বেতন একসাথে মিশে যাবে না তো?
না। বেতন, চাঁদা ও দান আলাদা খাতে থাকে এবং রিপোর্টেও আলাদা দেখা যায়।
কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো