মাদ্রাসার হাজিরা সফটওয়্যার ও বায়োমেট্রিক মেশিন
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ছাত্র ও শিক্ষকের হাজিরা দুইভাবে নেওয়া যায়: শ্রেণিকক্ষে হাতে এন্ট্রি করে, অথবা ZKTeco ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ফেস মেশিনে। অনুপস্থিত ছাত্রের অভিভাবকের কাছে এসএমএস চলে যায় আর মাস শেষে উপস্থিতির রিপোর্ট এক ক্লিকে প্রিন্ট হয়।

হাজিরার খাতায় কোথায় সমস্যা হয়?
হাজিরার খাতায় দাগ দেওয়া কঠিন কাজ নয়, কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তার পরে। মাস শেষে কোন ছাত্র কত দিন অনুপস্থিত ছিল তা গুনতে হয় হাতে, অভিভাবক জানতেই পারেন না ছেলে মাদ্রাসায় পৌঁছেছে কি না, আর খাতা হারিয়ে গেলে পুরো বছরের রেকর্ড শেষ। একই মাদ্রাসায় দুই শিফট বা দুই শাখা থাকলে বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে যায়।
সফটওয়্যারে হাজিরা নেওয়ার সাথে সাথে তিনটি কাজ একসাথে হয়ে যায়: রেকর্ড জমা হয়, অনুপস্থিতদের তালিকা তৈরি হয় আর নির্ধারিত সময়ে অভিভাবকের মোবাইলে এসএমএস চলে যায়। এতে অভিভাবকের আস্থা বাড়ে এবং অনুপস্থিতির হার কমে আসে।
হাজিরা অংশে কী কী আছে?
ম্যানুয়াল হাজিরা
শ্রেণি বা বিভাগ বেছে নিয়ে পুরো তালিকায় এক পাতায় হাজিরা দেওয়া যায়। মোবাইল বা কম্পিউটার দুটোতেই চলে।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন
ZKTeco ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডিভাইসে ছাত্র আঙুল দিলেই হাজিরা সফটওয়্যারে চলে আসে।
ফেস ডিভাইস
মুখ দেখে হাজিরা নেয় এমন ডিভাইসও সংযুক্ত করা যায়, স্পর্শ করতে হয় না।
অনুপস্থিতির এসএমএস
ছাত্র অনুপস্থিত হলে অভিভাবকের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস চলে যায়।
মাসিক উপস্থিতির রিপোর্ট
কোন ছাত্র কত দিন উপস্থিত ছিল তার শ্রেণিওয়ারি রিপোর্ট প্রিন্ট করা যায়।
শিক্ষকের হাজিরা
শিক্ষক ও কর্মচারীদের হাজিরাও একই সিস্টেমে থাকে, যা বেতনের হিসাবে কাজে লাগে।
শিফট ও শাখা
সকাল ও বিকালের শিফট অথবা একাধিক শাখার হাজিরা আলাদা করে রাখা যায়।
ছুটি ও মন্তব্য
ছুটি, অসুস্থতা বা দেরির কারণ লিখে রাখা যায়, পরে রিপোর্টে দেখা যায়।
হাতে হাজিরা নাকি বায়োমেট্রিক, কোনটি নেবেন?
| বিষয় | ম্যানুয়াল হাজিরা | বায়োমেট্রিক মেশিন |
|---|---|---|
| অতিরিক্ত খরচ | লাগে না | ডিভাইস কিনতে হয় |
| সময় | প্রতি শ্রেণিতে কিছুটা সময় লাগে | কয়েক সেকেন্ড |
| ভুল বা পক্ষপাত | হওয়া সম্ভব | সুযোগ নেই |
| শিক্ষকের হাজিরা | সম্ভব | সম্ভব |
| বিদ্যুৎ বা নেট লাগে | না হলেও পরে এন্ট্রি দেওয়া যায় | ডিভাইসের জন্য প্রয়োজন |
ছোট মাদ্রাসা শুরুতে ম্যানুয়াল হাজিরা দিয়েই ভালোভাবে চালাতে পারে। ছাত্রসংখ্যা বাড়লে বা গেটে হাজিরা নিতে চাইলে পরে বায়োমেট্রিক যোগ করা যায়। দুটি একসাথেও চালানো যায়।
কোন ডিভাইসগুলো সমর্থিত?
- ZKTeco iClock 9000G
- ZKTeco MB360, MB460 ও MB560
- ZKTeco F18 ও F22
- ZKTeco V5L
- ZKTeco SenseFace সিরিজ
চালু করতে কী করতে হয়?
- ছাত্র ও শিক্ষকের তালিকা সফটওয়্যারে তোলা হয়।
- শ্রেণি, বিভাগ ও শিফট ঠিক করে দেওয়া হয়।
- বায়োমেট্রিক নিলে ডিভাইসে প্রত্যেকের আঙুল বা ছবি রেজিস্টার করা হয়।
- এসএমএস চালু করতে চাইলে এসএমএস প্যাকেজ যোগ করা হয়।
- প্রথম কয়েক দিন শিক্ষকদের দেখিয়ে দেওয়া হয়, পরে ফোনে সাপোর্ট থাকে।
হাজিরার সমস্যা শেষ করতে চান?
আপনার মাদ্রাসার ছাত্রসংখ্যা ও শিফটের কথা বলুন, কোন পদ্ধতি মানানসই হবে সেটি বলে দেব।
হাজিরার হিসাব ঠিক থাকলে যে সুবিধাগুলো পাবেন
- কোন ছাত্র ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকছে তা দেরি হওয়ার আগেই ধরা পড়ে।
- অভিভাবক জানেন ছেলে সতিয়ই মাদ্রাসায় পৌঁছেছে, ফলে দুশ্চিন্তা কমে।
- বছর শেষে পুরস্কার বা প্রশংসাপত্রের সময় উপস্থিতির সঠিক শতকরা হিসাব হাতে থাকে।
- শিক্ষকের ছুটি ও উপস্থিতির হিসাব বেতন তৈরির সময় কাজে লাগে।
- কমিটির মিটিংয়ে কাগজে প্রিন্ট করা হাজিরার রিপোর্ট দেখানো যায়।
- পুরনো বছরের হাজিরাও যেকোনো সময় খুঁজে দেখা যায়, খাতা হারানোর ভয় নেই।
বাংলাদেশের অনেক মাদ্রাসায় আবাসিক ও অনাবাসিক দুই ধরনের ছাত্র থাকে। আবাসিক ছাত্রদের ক্ষেত্রে ছুটিতে বাড়ি যাওয়া ও ফিরে আসার হিসাব রাখা জরুরি, আর অনাবাসিকদের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের উপস্থিতি। দুই ধরনের ছাত্রকে আলাদা করে চিহ্নিত করা যায় বলে রিপোর্টও আলাদা পাওয়া যায়। রমজান বা বার্ষিক ছুটির দিনগুলো সিস্টেমে ছুটি হিসেবে সেট করে রাখলে সেই দিনগুলো অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য হয় না এবং অনাশ্যক এসএমএসও যায় না।
এসএমএস ও অ্যাপে কীভাবে যায়?
হাজিরা নেওয়া শেষ হলে অনুপস্থিতদের অভিভাবকের নম্বরে একসাথে এসএমএস পাঠানো যায়। এসএমএস কীভাবে কাজ করে তা বিস্তারিত দেখুন এসএমএস সিস্টেম পাতায়। যেসব অভিভাবক স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাঁরা অভিভাবক অ্যাপ থেকে নিজেই হাজিরা দেখতে পারেন।
হাজিরার তথ্য শুধু হাজিরাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। একই রেকর্ড থেকে পরীক্ষার প্রগ্রেস রিপোর্ট এ উপস্থিতির হিসাব দেখানো যায়, আর শিক্ষকের হাজিরা থেকে বেতনের হিসাব মেলানো যায়। সব ফিচারের তালিকা দেখুন ফিচার পাতায়, আর খরচ দেখুন প্রাইসিং পাতায়।