মাদ্রাসার এসএমএস সিস্টেম
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার থেকেই হাজিরা, বেতন, ফলাফল ও নোটিশের এসএমএস অভিভাবকের মোবাইলে পাঠানো যায়। এক ক্লিকে এক শ্রেণি, এক বিভাগ বা পুরো মাদ্রাসার সব অভিভাবকের কাছে একসাথে বার্তা যায়।
এসএমএস কেন এখনও সবচেয়ে কাজের?
বাংলাদেশের বেশিরভাগ মাদ্রাসার অভিভাবকের হাতে স্মার্টফোন নেই, কিন্তু মোবাইল আছে। তাই অ্যাপের পাশাপাশি এসএমএস এখনও সবচেয়ে নিশ্চিত উপায়। ইন্টারনেট লাগে না, অ্যাপ ইনস্টল করতে হয় না, আর বার্তা মোবাইলে জমা থাকে।
মাদ্রাসার কাছে এর আরেকটি লাভ আছে। অভিভাবক নিয়মিত খবর পেলে বোঝেন প্রতিষ্ঠানটি গোছালোভাবে চলছে। হাজিরার এসএমএস পেলে ছাত্র ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কমে, বেতনের এসএমএস পেলে বকেয়া কমে আর ফলাফলের এসএমএস পেলে অভিভাবক সন্তানের পড়াশোনার খোঁজ রাখেন।
কোন কোন এসএমএস পাঠানো যায়?
হাজিরার এসএমএস
ছাত্র অনুপস্থিত হলে সেই দিনই অভিভাবকের মোবাইলে বার্তা চলে যায়।
বেতনের এসএমএস
টাকা জমা দেওয়ার পর প্রাপ্তি স্বীকার অথবা বকেয়ার মনে করিয়ে দেওয়ার বার্তা।
ফলাফলের এসএমএস
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে সংক্ষিপ্ত ফলাফল পাঠানো যায়।
নোটিশ ও ছুটি
ছুটি, পরীক্ষার রুটিন, মাহফিল বা জরুরি নোটিশ সবাইকে একসাথে জানানো যায়।
নির্বাচিত গ্রুপ
পুরো মাদ্রাসা, একটি শ্রেণি, একটি বিভাগ বা শুধু বকেয়াদারদের বেছে নেওয়া যায়।
শিক্ষকদের বার্তা
শিক্ষক ও কর্মচারীদের মিটিং বা দায়িত্ব সংক্রান্ত বার্তাও পাঠানো যায়।
বার্তার লেখা ও নিয়ন্ত্রণ
- ত্রিশের বেশি বার্তার ধরন: ভর্তি, বেতন আদায়, হাজিরা, ছুটি, ফলাফল, বাড়ির কাজ, সনদ, প্রবেশপত্র, শিক্ষক নিয়োগ ও বেতন, দাতা ও অনুদানসহ প্রতিটি ঘটনার জন্য আলাদা সুইচ আছে।
- নিজের ভাষায় লেখা: প্রতিটি বার্তার লেখা নিজেদের মতো সাজিয়ে পাঠানোর আগে প্রাকদর্শন দেখা যায়। শিক্ষার্থীর নাম, মাস, টাকার অঙ্ক, শ্রেণি ও রসিদ নম্বর বার্তায় নিজে থেকেই বসে।
- দুবার এসএমএস বন্ধ: বকেয়া বা ফলাফলের এসএমএস কাকে পাঠানো হয়েছে সফটওয়্যার মনে রাখে, তাই একই জনের কাছে বারবার যায় না ও খরচ বাড়ে না।
- মাস্টার এসএমএস কন্টাক্ট: প্রতিটি এসএমএসের একটি কপি প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট নম্বরে পাঠানো যায়, যাতে কর্তৃপক্ষ নিজেই দেখতে পান কী যাচ্ছে।
- ব্যালেন্স: কত এসএমএস বাকি আছে তা একই পাতায় দেখা যায়।
এসএমএস পাঠানোর ধাপ
- কাদের কাছে যাবে তা বেছে নেওয়া হয়: শ্রেণি, বিভাগ বা পুরো মাদ্রাসা।
- তৈরি বার্তা বেছে নেওয়া হয় অথবা নিজে লেখা হয়।
- কতটি নম্বরে যাবে তা দেখে নিশ্চিত করা হয়।
- পাঠানোর পর কোন নম্বরে গেল তার রেকর্ড থাকে।
এসএমএস আর অ্যাপ, কোনটি কখন?
| বিষয় | এসএমএস | অভিভাবক অ্যাপ |
|---|---|---|
| স্মার্টফোন লাগে | লাগে না | লাগে |
| ইন্টারনেট লাগে | লাগে না | লাগে |
| খরচ | প্যাকেজ কিনতে হয় | অতিরিক্ত খরচ নেই |
| বিস্তারিত তথ্য | সংক্ষিপ্ত | পূর্ণ রিপোর্ট |
বেশিরভাগ মাদ্রাসা দুটিই একসাথে ব্যবহার করে। জরুরি ও সংক্ষিপ্ত খবর এসএমএসে যায়, আর বিস্তারিত হাজিরা, বেতন ও ফলাফল অ্যাপে থাকে।
ভালো এসএমএস লেখার কয়েকটি পরামর্শ
- শুরুতে মাদ্রাসার নাম রাখুন, যেন অচেনা মনে না হয়।
- এক বার্তায় একটি কথাই লিখুন।
- তারিখ ও সময় স্পষ্ট করে লিখুন।
- টাকার কথা লিখলে পরিমাণ ও মাস দুটোই লিখুন।
- রাতের গভীরে এসএমএস পাঠানো এড়িয়ে চলুন।
- প্রয়োজন ছাড়া একই বার্তা বারবার পাঠাবেন না।
এসএমএস চালু করতে চান?
ছাত্রসংখ্যা বলুন, আপনার জন্য কোন প্যাকেজ মানানসই হবে সেটি বলে দেব।
নম্বর ঠিক না থাকলে এসএমএস কাজে আসে না
এসএমএস সিস্টেম থেকে পূর্ণ ফায়দা পেতে হলে সবচেয়ে জরুরি কাজটি হলো অভিভাবকের মোবাইল নম্বর সঠিকভাবে তোলা। ভর্তির সময়ই বাবা বা অভিভাবকের নম্বর লিখে রাখলে পরে আর খুঁজতে হয় না। যেসব ছাত্রের নম্বর দেওয়া নেই, সিস্টেম সেই তালিকাও দেখাতে পারে, ফলে অফিস ধীরে ধীরে সব নম্বর পূরণ করে নিতে পারে। একজন অভিভাবকের একাধিক সন্তান থাকলেও নম্বর একবারই লিখতে হয়।
আরেকটি বিষয় মনে রাখা দরকার। এসএমএস পাঠানোর উদ্দেশ্য অভিভাবককে তথ্য দেওয়া, চাপ দেওয়া নয়। বকেয়ার বার্তায় ভদ্র ভাষা ব্যবহার করলে অভিভাবক বিরক্ত হন না এবং মাদ্রাসার সাথে সম্পর্ক ভালো থাকে। মাসে এক বা দুইবার মনে করিয়ে দেওয়াই সাধারণত যথেষ্ট। প্রয়োজনে শুধু বকেয়াদারদের বেছে নিয়ে বার্তা পাঠালে অন্যদের অহেতুক বার্তা যায় না এবং এসএমএসের খরচও কম থাকে।
কোন অংশ থেকে এসএমএস যায়?
এসএমএস আলাদা কোনো সফটওয়্যার নয়। হাজিরা নেওয়ার পর, বেতন আদায় হওয়ার পর এবং ফলাফল প্রকাশের পর সরাসরি সেই পাতা থেকেই বার্তা পাঠানো যায়। স্মার্টফোন ব্যবহারকারী অভিভাবকদের জন্য রয়েছে অভিভাবক অ্যাপ।
সব ফিচার একসাথে দেখতে ফিচার পাতা দেখুন। সফটওয়্যারের প্যাকেজ ও খরচ জানতে প্রাইসিং পাতা, আর হিফজ বিভাগ থাকলে হিফজ মাদ্রাসা সফটওয়্যার পাতা দেখুন।