মাদ্রাসা ডিজিটাল করার ধাপে ধাপে গাইড

মাদ্রাসা ডিজিটাল করা শুরু করতে হয় শিক্ষার্থীর তালিকা দিয়ে, তারপর বেতন আদায়, তারপর হাজিরা, তারপর পরীক্ষা ও হিসাব। এক সাথে সব শুরু করলে শিক্ষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন এবং কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়, তাই একটি বিভাগ পুরোপুরি দাঁড় করানোর পর পরেরটিতে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

মাদ্রাসা ডিজিটাল করা: ছবক সফটওয়্যারের নমুনা

মাদ্রাসা ডিজিটাল করা বলতে আসলে কী বোঝায়?

অনেকে মনে করেন ডিজিটাল মানে কম্পিউটার কেনা অথবা একটি ওয়েবসাইট করা। বাস্তবে মূল বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি কাজ যেন একটি নির্দিষ্ট নিয়মে হয় এবং প্রতিটি কাজের রেকর্ড যেন এক জায়গায় থাকে। যে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর তথ্য এক খাতায়, বেতন আরেক খাতায়, হাজিরা তৃতীয় খাতায় আর পরীক্ষার নম্বর শিক্ষকের পকেট ডায়রিতে, সেখানে পুরো ছবি একসাথে দেখা কখনো সম্ভব হয় না। ডিজিটাল ব্যবস্থার মূল লাভ এই একতা।

দ্বিতীয় লাভ হলো নির্ভরশীলতা কমানো। একজন বিশ্বস্ত কর্মচারীর মাথায় সব তথ্য থাকলে তিনি অসুস্থ হলে বা চলে গেলে পুরো প্রতিষ্ঠান থমকে যায়। রেকর্ড লিখিত ও সংরক্ষিত থাকলে দায়িত্ব বদলানো সহজ হয়।

কোন কাজ আগে, কোন কাজ পরে?

ধাপ কী করবেন কে দায়িত্বে থাকবেন
শিক্ষার্থীর তালিকা ও প্রোফাইল তোলা অফিস সহকারী ও শ্রেণিশিক্ষক
শ্রেণি, বিভাগ ও বেতনের কাঠামো সেট করা মুহতামিম ও হিসাবরক্ষক
বেতন আদায় ও রশিদ শুরু করা হিসাবরক্ষক
দৈনিক হাজিরা ও অনুপস্থিতির এসএমএস শ্রেণিশিক্ষকরা
পরীক্ষা, নম্বর ও মার্কশিট পরীক্ষা কমিটি
আয় ব্যয় ও মাসিক রিপোর্ট হিসাবরক্ষক ও মুহতামিম
অভিভাবক অ্যাপ চালু করা অফিস ও শ্রেণিশিক্ষক

এই ক্রমটি এলোমেলো করলে সমস্যা হয়। যেমন শিক্ষার্থীর তালিকা পূর্ণ না হলে হাজিরা নেওয়া যায় না, আর বেতনের কাঠামো ঠিক না থাকলে রশিদে ভুল অংক চলে যায়।

পুরনো তথ্য কীভাবে তুলবেন?

  1. প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন কত পুরনো তথ্য তোলবেন। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের জন্য চলতি বছরের তথ্যই যথেষ্ট।
  2. শ্রেণিবারী তালিকা করুন এবং এক শ্রেণি শেষ না হলে পরের শ্রেণি ধরবেন না।
  3. প্রতি শ্রেণির তালিকা একজন শিক্ষককে দিয়ে দেখিয়ে নিন, বিশেষ করে নামের বানান।
  4. মোবাইল নম্বর তোলার সময় বিশেষ সাবধান থাকুন, এক অঙ্ক ভুল হলে এসএমএস ব্যর্থ হবে।
  5. বকেয়া বেতন থাকলে সেডা একটি নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত হিসাব করে শুরুর জের হিসেবে বসান।
  6. শেষে একটি তারিখ ঠিক করুন, যে তারিখের পর সব নতুন এন্ট্রি শুধু সফটওয়্যারে হবে।

পুরনো খাতাগুলো ফেলে দেবেন না। কমপক্ষে তিন বছর সংরক্ষণ করুন, কারণ পুরনো শিক্ষার্থীর সনদ বা ছাড়পত্রের প্রয়োজন হঠাৎ করেই আসে। ভর্তি সংক্রান্ত কোন তথ্যগুলো তোলা জরুরি তা ভর্তি ফরম ও ছাত্র তথ্য লেখায় দেওয়া আছে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কীভাবে দেবেন?

সফটওয়্যার ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ সফটওয়্যার নয়, মানুষ। শিক্ষকরা ভয় পেলে বা বিরক্ত হলে পুরনো কায়দায় ফিরে যান। তাই প্রশিক্ষণ একবারে লম্বা না দিয়ে প্রতিটি বিভাগের জন্য আলাদা ও সংক্ষিপ্ত করে দিন। একজন শ্রেণিশিক্ষককে শুধু তিনটি কাজ শিখালেই চলে: হাজিরা দেওয়া, নম্বর তোলা এবং নিজের শ্রেণির তালিকা দেখা। হিসাবরক্ষককে শিখান আদায়, রশিদ ও খরচ এন্ট্রি। প্রতি কাজ হাতে করিয়ে দেখানোই সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি, মুখে বলা নয়।

প্রথম এক মাস একজনকে দায়িত্ব দিন যিনি সবার সমস্যা শুনবেন এবং প্রয়োজনে সাপোর্টে যোগাযোগ করবেন। প্রতিটি শিক্ষক আলাদাভাবে ফোন করলে উত্তর এক রকম হয় না এবং বিভ্রান্তি বাড়ে।

কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন?

  • একসাথে সব বিভাগ চালু করা, এতে কাজ এলোমেলো হয়ে যায়।
  • পুরনো পাঁচ বছরের হিসাব তোলার জন্য মাসের পর মাস দেরি করা।
  • একজন মানুষের উপর সব দায়িত্ব চাপানো, সে ছুটিতে গেলেই কাজ বন্ধ।
  • অভিভাবকদের না জানিয়ে এসএমএস চালু করা, এতে অপরিচিত নম্বর ভেবে অনেকে বিভ্রান্ত হন।
  • লাইসেন্স বা বিল নিয়ে অসাবধান থাকা। নীতি অনুযায়ী লাইসেন্স নিষ্ক্রিয় হয়ে ৬০ দিন পেরিয়ে গেলে তথ্য মুছে ফেলা হয়।
  • প্রথম দিনেই খাতা বন্ধ করে দেওয়া, কিছুদিন দুটো একসাথে চলাই নিরাপদ।

কাজ শুরুর আগে কোন সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে রাখবেন?

কাজ শুরু হয়ে গেলে মাঝপথে সিদ্ধান্ত বদলালে সবচেয়ে বেশি সময় নষ্ট হয়। তাই শুরুর আগেই কয়েকটি বিষয় লিখিতভাবে ঠিক করে নিন। প্রথমত, শ্রেণির নাম কী হবে এবং সব কাগজে একই নাম ব্যবহার হবে কি না। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীর আইডি নম্বর কীভাবে তৈরি হবে, ভর্তির বছর ধরে নাকি শুধু পরপর নম্বরে। তৃতীয়ত, বেতন কোন তারিখ পর্যন্ত নেওয়া হবে এবং তারপর বকেয়া ধরা হবে কি না। চতুর্থত, কার কাছে কোন তথ্য দেখার অনুমতি থাকবে। এই চারটি সিদ্ধান্ত আগে নিলে পরে বারবার সেসন বা তালিকা ঠিক করতে হয় না।

প্রথম তিন মাসে কী কী যাচাই করবেন?

শুরুর পর অনেক প্রতিষ্ঠান ভাবে কাজ শেষ, অথচ আসল পরীক্ষা হয় প্রথম তিন মাসে। প্রতি মাস শেষে তিনটি জিনিস মিলিয়ে দেখুন: সফটওয়্যারে দেখানো মোট আদায় ও হাতে থাকা নগদ, শ্রেণিবারী শিক্ষার্থী সংখ্যা ও বাস্তব সংখ্যা, এবং পাঠানো এসএমএস ও অভিভাবকদের অভিযোগ। তিন মাস টানা মিললে ধরে নিতে পারেন ব্যবস্থাটি দাঁড়িয়ে গেছে, তখন পরের বিভাগে হাত দেওয়া নিরাপদ।

শুরু করার সবচেয়ে ভালো সময় হলো নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরু বা ভর্তি মৌসুমের পরপরই। কারণ তখন শিক্ষার্থীর তালিকা এবং বেতনের কাঠামো দুটোই নতুন থাকে, পুরনো বকেয়া বা অসমাপ্ত হিসাব টানতে হয় না। মাঝের সময় শুরু করলেও সমস্যা নেই, তবে সেক্ষেত্রে শুরুর জের ও বকেয়ার তালিকা বিশেষ যত্ন নিয়ে তুলতে হবে, নাহলে প্রথম মাসেই হিসাব মিলবে না এবং সবাই ভাববেন সফটওয়্যারে সমস্যা।

কাজ শুরুর আগে একটি ডেমো দেখে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ডেমোতে নিজের প্রতিষ্ঠানের বাস্তব প্রশ্নগুলো করুন, যেমন আমাদের দুই শিফট আছে, এটি কীভাবে হবে। সাধারণ ফিচার দেখার চেয়ে নিজের সমস্যার সমাধান দেখা অনেক বেশি কাজে দেয়।

শুরু করতে সাহায্য দরকার?

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের সাথে সাবডোমেইন, হোস্টিং, মোবাইল অ্যাপ, আপডেট ও সাপোর্ট অন্তর্ভুক্ত। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে বিনামূল্যে ডেমো দেখানো হবে।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

শুরু করতে কতদিন লাগে?
সবচেয়ে বেশি সময় লাগে শিক্ষার্থীর তালিকা তুলতে, যা নির্ভর করে শিক্ষার্থী সংখ্যা ও কতজন কাজ করছেন তার উপর। একটি বিভাগ ধরে এগোলে কাজ বহুগুণ সহজ হয়।
কম্পিউটার না থাকলে কি হবে?
অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ দিয়ে অনেক কাজ করা যায়, তবে মার্কশিট ও রিপোর্ট ছাপাতে হলে একটি কম্পিউটার ও প্রিন্টার থাকা ভালো।
ইন্টারনেট দুর্বল হলে কাজ হবে?
সমস্যা হয় মূলত বড় রিপোর্ট বা মার্কশিট ছাপার সময়। দৈনিক হাজিরা ও আদায়ের জন্য সাধারণ মোবাইল ইন্টারনেটই যথেষ্ট।
শিক্ষকরা রাজি না হলে কী করব?
শুরুতে তাদের কাজ কমে এমন একটি অংশ দিয়ে শুরু করুন, যেমন মার্কশিট তৈরি। লাভ নিজে দেখলে আপত্তি কমে যায়।
ডিজিটাল করতে কত খরচ হবে?
ছবক সফটওয়্যারের দাম মাসিক ৫০০ টাকা, বাৎসরিক ৫,০০০ টাকা অথবা এককালীন ২০,০০০ টাকা, সাথে একবারের ইনস্টলেশন চার্জ। বিস্তারিত মূল্য তালিকা পাতায় আছে।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

আমাদের আর্টিকেল শেয়ার করুন
Facebook
WhatsApp

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো