ইসলামিক স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার: হিফজ, নূরানী ও জেনারেল শিক্ষা এক সিস্টেমে
ইসলামিক স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার হলো এমন একটি সিস্টেম, যেখানে একই প্রতিষ্ঠানের হিফজ ও নূরানী বিভাগ এবং প্লে থেকে দশম শ্রেণির জেনারেল বিভাগ একসাথে চলে: ছাত্র ভর্তি, শ্রেণি ও শাখা, হাজিরা, মাসিক বেতন ও ফি, পরীক্ষার ফল, হিফজ বিভাগের দৈনিক পাঠের হিসাব, শিক্ষকের বেতন এবং অভিভাবক অ্যাপ এক জায়গায়। বাংলাদেশে ইসলামিক স্কুল, ক্যাডেট মাদ্রাসা বা ইন্টারন্যাশনাল হিফজ একাডেমি নামে যে প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়ছে, সেগুলোর সমস্যা হলো সাধারণ স্কুল সফটওয়্যারে হিফজের ঘর নেই আর সাধারণ মাদ্রাসা সফটওয়্যারে জেনারেল শ্রেণির বিষয় ও গ্রেডিং নেই। এই লেখায় দুই ধারা একসাথে চালানো সফটওয়্যারে কী কী থাকা দরকার, কীভাবে সাজানো হয়, অভিভাবক কী পান, খরচ কত এবং কীভাবে শুরু করবেন, তার পুরোটা দেওয়া হলো।

ইসলামিক স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার সাধারণ স্কুল সফটওয়্যার থেকে কোথায় আলাদা?
ইসলামিক স্কুলের একজন ছাত্র সকালে হিফজ বা নূরানী ক্লাসে সবক দেয়, তারপর জেনারেল ক্লাসে বাংলা, ইংরেজি ও গণিত পড়ে। তার প্রোফাইলে দুই ধরনের রেকর্ড জমা হয়: হিফজ বিভাগের দৈনিক পাঠের মান, আর জেনারেল বিভাগের বিষয় ভিত্তিক পরীক্ষার নম্বর। সাধারণ স্কুল সফটওয়্যারে প্রথমটি রাখার জায়গা নেই; সেখানে হিফজকে একটি বিষয় বানিয়ে নম্বর দিতে হয়, যা হাফেজ সাহেবের কাজে আসে না। আবার সাধারণ মাদ্রাসা সফটওয়্যারে জেনারেল শ্রেণির বিষয় তালিকা, জিপিএ গ্রেডিং ও শাখা ভিত্তিক সেকশন থাকে না।
ছবক সফটওয়্যার দুই ধারার জন্যই তৈরি: এতে হিফজ ট্র্যাকিং মডিউল আছে, আবার শ্রেণি ভিত্তিক বিষয়, সেকশন ও জিপিএ গ্রেডিংও আছে। একই ছাত্র দুই বিভাগে থাকতে পারে, আর অভিভাবক অ্যাপে দুই বিভাগের খবরই একসাথে পান। হিফজ বিভাগের জন্য আলাদা পাতা আছে হিফজ মাদ্রাসা সফটওয়্যার, আর জেনারেল স্কুল অংশের জন্য স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার পাতা।
ইসলামিক স্কুলের কোন কাজ সফটওয়্যারের কোন অংশে হয়?
| বিভাগ বা কাজ | যা দরকার | সফটওয়্যারে যেভাবে হয় |
|---|---|---|
| হিফজ বিভাগ | দৈনিক পাঠের মান, পারা ভিত্তিক অগ্রগতি | হিফজ ট্র্যাকিং মডিউলে হাফেজ সাহেব মোবাইলে এন্ট্রি করেন, অভিভাবক অ্যাপে দেখেন |
| নূরানী ও নাজেরা | কায়দা, আমপারা ও কুরআন পাঠের স্তর | আলাদা বিভাগ, স্তর ভিত্তিক অগ্রগতি ও মূল্যায়ন |
| জেনারেল শ্রেণি (প্লে থেকে দশম) | বিষয় তালিকা, সেকশন, পরীক্ষা, জিপিএ | শ্রেণি ও সেকশন ভিত্তিক বিষয়, নম্বর এন্ট্রি, মার্কশিট ও মেধা তালিকা |
| হাজিরা | দুই শিফট বা দুই বিভাগের আলাদা হাজিরা | শিফট ও বিভাগ ভিত্তিক হাজিরা, বায়োমেট্রিক ডিভাইস, অনুপস্থিতে SMS |
| বেতন ও ফি | টিউশন ফি, ভর্তি, পরিবহন, আবাসিক, হিফজ বিভাগের আলাদা ফি | ফি ভিত্তিক আদায়, রসিদ, বকেয়া, ছাড় |
| শিক্ষক | হাফেজ, কারি ও জেনারেল শিক্ষক | প্রোফাইল, হাজিরা ও বেতন শিট |
| অভিভাবক | দুই বিভাগের খবর এক জায়গায় | অ্যাপে হাজিরা, সবক, ফলাফল, ফি ও নোটিশ |
সব মডিউলের তালিকা ফিচার পাতায় আছে।
হিফজ ও জেনারেল বিভাগ একসাথে কীভাবে সাজানো হয়?
- প্রতিষ্ঠানের বিভাগ তৈরি করুন: হিফজ, নূরানী বা নাজেরা, জেনারেল। চাইলে শিফট (সকাল, দিবা) আলাদা রাখুন।
- জেনারেল বিভাগে শ্রেণি ও সেকশন তৈরি করুন এবং প্রতিটি শ্রেণির বিষয় তালিকা ও গ্রেডিং ঠিক করুন।
- হিফজ বিভাগে হাফেজ সাহেব অনুযায়ী গ্রুপ করুন; প্রতিটি ছাত্রের বর্তমান পারা ও শুরুর অবস্থা লিখে দিন।
- ছাত্র ভর্তির সময় তাকে যে বিভাগগুলোতে পড়বে সেগুলোতে যুক্ত করুন; একই ছাত্র হিফজ ও জেনারেল দুই জায়গায় থাকতে পারে।
- ফি কাঠামো বিভাগ অনুযায়ী ঠিক করুন, যেমন জেনারেল টিউশন ফি আলাদা, হিফজ বিভাগের ফি আলাদা, আবাসিক থাকলে বোর্ডিং আলাদা।
- শিক্ষকদের নিজ নিজ বিভাগের অনুমতি দিন: হাফেজ সাহেব শুধু হিফজ গ্রুপ দেখবেন, শ্রেণি শিক্ষক শুধু নিজের সেকশন।
হাজিরা ও শৃঙ্খলা কীভাবে সামলানো হয়?
ইসলামিক স্কুলে অনেক সময় সকাল ও দিবা দুই শিফট চলে, আবাসিক ছাত্রও থাকে। সফটওয়্যারে শিফট ভিত্তিক হাজিরা আলাদা রাখা যায়। শিক্ষক মোবাইলে হাজিরা নিতে পারেন, অথবা গেটে ZKTeco ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস ডিভাইস বসালে ছাত্র ঢোকার সাথে সাথে হাজিরা হয়ে যায় এবং অভিভাবকের কাছে প্রবেশের SMS যায়। অনুপস্থিত থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের পর অভিভাবকের কাছে স্বয়ংক্রিয় বার্তা যায়। হাজিরা ও বায়োমেট্রিকের বিস্তারিত হাজিরা ও বায়োমেট্রিক পাতায়। RFID আইডি কার্ড চাইলে প্রতিটি ১৫০ টাকায় নেওয়া যায় (ন্যূনতম ১৫০ জন)।
অভিভাবক অ্যাপে কী কী দেখা যায়?
ইসলামিক স্কুলের অভিভাবকরা সাধারণত বেশি সচেতন এবং সন্তানের দৈনিক অগ্রগতি জানতে চান। অভিভাবক অ্যাপে তারা এক জায়গায় পান: আজকের হাজিরা ও প্রবেশের সময়, হিফজ বিভাগে আজকের পাঠ কেমন হলো, জেনারেল বিভাগের পরীক্ষার ফল ও মার্কশিট, ফি জমা ও বকেয়া, মাদ্রাসার নোটিশ ও ছুটির খবর। একাধিক সন্তান থাকলে সবাই এক অ্যাকাউন্টে। শিক্ষকদের জন্য অ্যাপ আছে যেখান থেকে হাজিরা ও নম্বর এন্ট্রি হয়।
ইসলামিক স্কুলের জন্য খরচ কত?
ছবক সফটওয়্যারের মূল্য প্রতিষ্ঠানের ধরন নির্বিশেষে একই: মাসিক ৫০০ টাকা, বার্ষিক ৫,০০০ টাকা অথবা এককালীন ২০,০০০ টাকা। শুরুতে একবার ইনস্টলেশন ও প্রশিক্ষণ ফি: ২০০ জনের কম ছাত্র হলে ২,০০০ টাকা, বেশি হলে ৫,০০০ টাকা। সাবডোমেইন ও হোস্টিং, অভিভাবক ও শিক্ষক অ্যাপ, আপডেট ও সাপোর্ট এর মধ্যেই আছে। একাধিক শাখা বা ক্যাম্পাস থাকলে তা একই সিস্টেমে চালানো যায়। বিস্তারিত মূল্য তালিকা পাতায়। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট চাইলে তাও আলাদা সেবা হিসেবে নেওয়া যায়।
কীভাবে শুরু করবেন?
প্রথমে ফ্রি ডেমো নিন, ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করলে আপনার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো অনুযায়ী দেখিয়ে দেওয়া হয়। তারপর বিভাগ, শ্রেণি ও সেকশনের তালিকা এবং চলতি শিক্ষাবর্ষের ছাত্র তালিকা এক্সেলে দিন; ইনস্টলেশনের সময় সব একসাথে তোলা হয়। প্রথম মাসে হাজিরা ও ফি আদায় চালু করুন, দ্বিতীয় মাস থেকে হিফজ ট্র্যাকিং ও পরীক্ষা যোগ করুন। সফটওয়্যার কেন দরকার তার সামগ্রিক আলোচনা মাদ্রাসা সফটওয়্যার কেন দরকার লেখায় পাবেন।
ইসলামিক স্কুলে সফটওয়্যার চালু করার আগে কী প্রস্তুতি দরকার?
ইনস্টলেশনের আগে নিচের জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখলে প্রথম দিনেই সফটওয়্যার কাজের অবস্থায় চলে আসে।
- বিভাগ, শিফট, শ্রেণি ও সেকশনের তালিকা এক পাতায়
- প্রতিটি শ্রেণির বিষয় তালিকা ও পূর্ণ নম্বর
- হিফজ গ্রুপ ও হাফেজ সাহেবদের নাম, প্রতিটি ছাত্রের বর্তমান পারা
- ছাত্র তালিকা এক্সেলে: নাম, শ্রেণি, বিভাগ, অভিভাবকের মোবাইল নম্বর
- ফি কাঠামো: কোন শ্রেণি ও বিভাগে কত টাকা, কারা ছাড় পায়
- শিক্ষক ও কর্মচারীর তালিকা, কে কোন বিভাগে কাজ করেন
- মাদ্রাসার লোগো ও প্রতিষ্ঠানের পূর্ণ নাম (রসিদ, আইডি কার্ড ও মার্কশিটের জন্য)
শিক্ষকদের অভ্যস্ত করানো কীভাবে সহজ হয়?
ইসলামিক স্কুলে হাফেজ সাহেব ও জেনারেল শিক্ষকদের কম্পিউটার দক্ষতা সমান নয়, তাই সবাইকে সব কিছু শেখানোর দরকার নেই। হাফেজ সাহেব নিজের গ্রুপের হাজিরা অ্যাপে নেবেন আর পাঠের মান ব্রাউজারে বসাবেন, দুটোই দুই মিনিটের কাজ। জেনারেল শিক্ষক হাজিরা ও পরীক্ষার নম্বর এন্ট্রি করবেন। অফিসের দুই একজন মানুষ ভর্তি, ফি ও রিপোর্ট সামলাবেন। প্রতিটি ভূমিকার জন্য আলাদা অনুমতি থাকায় কেউ ভুল জায়গায় হাত দিতে পারেন না।
প্রশিক্ষণ ইনস্টলেশনের সময় দেওয়া হয়, আর পরে ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে সাপোর্ট পাওয়া যায়। প্রতিটি কাজের বাংলা ভিডিও টিউটোরিয়াল পাতায় আছে, যা নতুন শিক্ষক যোগ দিলেও কাজে লাগে। অভিজ্ঞতা বলে, প্রথম দুই সপ্তাহ প্রতিদিন হাজিরা সফটওয়্যারে নিলেই অভ্যাস হয়ে যায়, তারপর বাকি মডিউল শেখা সহজ লাগে।
ইসলামিক স্কুলে ফি ও বেতন কাঠামো কীভাবে সাজানো হয়?
ইসলামিক স্কুলে সাধারণত মাসিক টিউশন ফি শ্রেণি অনুযায়ী আলাদা, হিফজ বিভাগের জন্য বাড়তি ফি, আবাসিক ছাত্রের জন্য বোর্ডিং ও খাবার খরচ, আর বছরে একবার ভর্তি ও সেশন ফি। সফটওয়্যারে প্রতিটি ফি আলাদা নামে তৈরি করে শ্রেণি ও বিভাগ অনুযায়ী পরিমাণ দিয়ে দিলে ছাত্রের নাম লিখলেই তার সব খাতের বকেয়া এক পর্দায় দেখা যায় এবং আদায়ের সাথে সাথে রসিদ প্রিন্ট হয়। বৃত্তি বা একই পরিবারের দ্বিতীয় সন্তানের ছাড় ছাত্র ভিত্তিক দেওয়া যায়। ফি ও চাঁদা আদায়ের পূর্ণ আলোচনা মাদ্রাসার ফি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম লেখায় আছে।
আপনার ইসলামিক স্কুলের জন্য সফটওয়্যারটি দেখে নিন
হিফজ ও জেনারেল দুই বিভাগ একসাথে কীভাবে চলে তা ফ্রি ডেমোতে সরাসরি দেখানো হয়।