মাদ্রাসার ক্লাস রুটিন তৈরি করার নিয়ম
ক্লাস রুটিন তৈরি করতে চারটি জিনিস আগে ঠিক করতে হয়: দিনে কয়টি ঘণ্টা ও প্রতিটি কত মিনিটের, কোন জামাতে কোন কোন বিষয় বা কিতাব, কোন শিক্ষক কোনটি পড়াবেন, এবং বিরতি ও নামাজের সময়। এরপর ছকে বসিয়ে মিলিয়ে দেখতে হয় একই ঘণ্টায় কোনো শিক্ষক দুই জায়গায় পড়ছেন কি না। নিচে তিন রকম ছকের নমুনা, তৈরির ধাপ এবং ফ্রি টেমপ্লেট দেওয়া হলো।

ক্লাস রুটিন কয় রকম হয়?
| রুটিনের ধরন | কী দেখায় | কার কাজে লাগে |
|---|---|---|
| শ্রেণিভিত্তিক | একটি জামাতের সারা সপ্তাহে কোন ঘণ্টায় কোন বিষয় ও কোন শিক্ষক | ছাত্র ও অভিভাবক, শ্রেণির দেয়ালে টানানোর জন্য |
| শিক্ষকভিত্তিক | একজন শিক্ষক কোন দিন কোন ঘণ্টায় কোন জামাতে কী পড়াবেন | শিক্ষক নিজে, এবং বদলি শিক্ষক ঠিক করার সময় অফিস |
| ঘণ্টাভিত্তিক (সব জামাত) | এক পাতায় সব জামাতের প্রতি ঘণ্টার কিতাব ও উস্তাদ | মুহতামিম ও নাজেমে তালিমাত, পুরো মাদ্রাসা এক নজরে দেখতে |
তিনটি আসলে একই তথ্যের তিন রকম সাজানো রূপ। আগে সব জামাতের ছকটি তৈরি করুন, তারপর সেখান থেকে শ্রেণি ও শিক্ষকের আলাদা রুটিন তুলে নিন।
ক্লাস রুটিন তৈরির ধাপ
- মাদ্রাসা কখন শুরু ও কখন ছুটি, মাঝে নামাজ ও খাবারের বিরতি কখন, তা লিখে মোট পড়ার সময় বের করুন।
- সেই সময়কে ঘণ্টায় ভাগ করুন এবং প্রতিটি ঘণ্টার শুরু ও শেষের সময় লিখুন।
- প্রতিটি জামাতের বিষয় বা কিতাবের তালিকা করুন এবং সপ্তাহে কোনটি কয়দিন পড়ানো হবে ঠিক করুন।
- কোন শিক্ষক কোন বিষয় পড়াবেন তা তার যোগ্যতা ও আগ্রহ দেখে ভাগ করে দিন।
- সব জামাতের ছকে প্রথমে সেই শিক্ষকদের বসান যারা একাধিক জামাতে পড়ান, কারণ তাদের সময় মেলানোই কঠিন।
- প্রতিটি ঘণ্টার কলাম ধরে দেখুন একই শিক্ষকের নাম দুইবার আছে কি না। থাকলে একটি সরান।
- চূড়ান্ত রুটিনে কার্যকর হওয়ার তারিখ লিখে মুহতামিমের স্বাক্ষর নিন, তারপর টানিয়ে দিন।
রুটিন বানানোর সময় যা খেয়াল রাখবেন
- কঠিন ও বেশি মনোযোগের বিষয় দিনের প্রথম দিকের ঘণ্টায় রাখুন।
- একই জামাতে পরপর দুটি ভারী বিষয় না দিয়ে মাঝে হালকা বিষয় দিন।
- কোনো শিক্ষককে টানা সব ঘণ্টা দেবেন না, অন্তত একটি ফাঁকা রাখুন।
- ছোটদের ঘণ্টা ছোট রাখুন এবং বিরতি একটু বেশি দিন।
- হাতের লেখা, মশক বা তিলাওয়াতের মতো অনুশীলনের ঘণ্টা বিরতির পরে ভালো চলে।
- কোনো শিক্ষক ছুটিতে গেলে কে বদলি নেবেন তা আগে থেকে ঠিক করে রাখুন।
- বছরের মাঝখানে রুটিন বদলালে নতুন কার্যকর তারিখ দিয়ে পুরনোটি সরিয়ে ফেলুন।
একটি জামাতের এক দিনের রুটিনের উদাহরণ
নিচের ছকটি কেবল বোঝার জন্য একটি উদাহরণ। সময় ও বিষয় আপনার মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী বসাবেন।
| ঘণ্টা | সময় | বিষয় |
|---|---|---|
| ১ম | ৮:০০ থেকে ৮:৪০ | কুরআন মাজিদ |
| ২য় | ৮:৪০ থেকে ৯:২০ | আরবি |
| ৩য় | ৯:২০ থেকে ১০:০০ | বাংলা |
| বিরতি | ১০:০০ থেকে ১০:৩০ | নাস্তা ও বিশ্রাম |
| ৪র্থ | ১০:৩০ থেকে ১১:১০ | গণিত |
| ৫ম | ১১:১০ থেকে ১১:৫০ | ইংরেজি |
| ৬ষ্ঠ | ১১:৫০ থেকে ১২:৩০ | হাদিস ও মাসআলা |
সফটওয়্যারে ক্লাস রুটিন রাখলে কী সুবিধা?
কাগজের রুটিনে একটি ঘর বদলালে তিন রকম ছকই নতুন করে লিখতে হয়। ছবক সফটওয়্যারে শিক্ষক, শ্রেণি, সেশন ও দিন অনুযায়ী ক্লাস রুটিন তোলা যায়। একবার তুললে শ্রেণি বেছে নিয়ে সেই শ্রেণির রুটিন প্রিন্ট করা যায় এবং প্রতিটি শিক্ষকের সাপ্তাহিক রুটিনও আলাদা করে দেখা যায়। অভিভাবক নিজের প্যানেলে সন্তানের ক্লাস রুটিন দেখতে পান, আর প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও রুটিনের একটি পাতা থাকে। পরীক্ষার রুটিন আলাদাভাবে তৈরি হয়, তার নমুনা প্রবেশপত্রের পাতায় আছে।
রুটিন একবার তুলে শ্রেণি ও শিক্ষক অনুযায়ী প্রিন্ট করতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ক্লাস রুটিন, পরীক্ষার রুটিন, হাজিরা ও ফলাফল একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।