মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ পত্র: নমুনা ও লেখার নিয়ম

শিক্ষক নিয়োগ পত্রে লিখতে হয় কাকে, কোন পদে, কোন তারিখ থেকে, কত বেতনে এবং কী শর্তে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সাথে থাকে শিক্ষানবিশকাল, দায়িত্ব, ছুটির নিয়ম, চাকরি ছাড়ার আগে কত দিন আগে জানাতে হবে এবং দুই পক্ষের স্বাক্ষর। নিচে পূর্ণ নমুনা, যোগদান পত্র এবং ফ্রি টেমপ্লেট দেওয়া হলো।

মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ পত্রের নমুনা (ফ্রি Word টেমপ্লেট)
ফ্রি ডাউনলোড (রেজিস্ট্রেশন লাগে না): মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ পত্রের Word টেমপ্লেট (.docx)। প্রথম পাতায় ছয়টি শর্তসহ নিয়োগ পত্র, দ্বিতীয় পাতায় শিক্ষকের যোগদান পত্র (নিচে অফিসের জন্য ঘরসহ)। মাদ্রাসার নাম ও শর্ত নিজের মতো বদলে প্রিন্ট করুন। টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন

নিয়োগ পত্রে কী কী থাকতে হবে?

অংশ কী লিখবেন না লিখলে কী সমস্যা
প্রাপক শিক্ষকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা কাকে নিয়োগ দেওয়া হলো তা নিয়ে বিভ্রান্তি
পদ যেমন: সহকারী শিক্ষক, হিফজ বিভাগের উস্তাদ, মুহাদ্দিস দায়িত্বের সীমা অস্পষ্ট থাকে
যোগদানের তারিখ কোন তারিখের মধ্যে যোগ দিতে হবে বেতন কবে থেকে তা নিয়ে মতভেদ
বেতন মাসিক বেতন অংকে ও কথায়, আবাসন ও খাবার আছে কি না পরে বেতন নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি
শিক্ষানবিশকাল কত মাস, এবং এরপর স্থায়ী করার শর্ত অস্থায়ী না স্থায়ী তা পরিষ্কার থাকে না
দায়িত্ব কোন জামাতে কোন বিষয়, সাথে অন্যান্য দায়িত্ব অতিরিক্ত কাজ দিলে আপত্তি ওঠে
নিয়ম ও ছুটি সময়সূচি, ছুটির নিয়ম ও আচরণবিধি মানার কথা শৃঙ্খলার ভিত্তি থাকে না
চাকরি ছাড়ার নিয়ম কত দিন আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে বছরের মাঝখানে হঠাৎ শিক্ষক শূন্যতা
স্বাক্ষর মুহতামিম, সভাপতি বা সেক্রেটারি এবং নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক কাগজটি কার্যকর প্রমাণ হয় না

শিক্ষক নিয়োগ পত্রের নমুনা

নিয়োগ পত্র

স্মারক নং: …….. তারিখ: ……..

প্রাপক: জনাব …….., পিতা: …….., ঠিকানা: ……..

বিষয়: …….. পদে নিয়োগ প্রসঙ্গে।

জনাব, আসসালামু আলাইকুম। আপনার আবেদন ও …….. তারিখে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আপনাকে …….. পদে নিচের শর্তে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

১। যোগদানের তারিখ: ……..। এই তারিখের মধ্যে যোগ না দিলে নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে।
২। মাসিক বেতন: …….. টাকা (কথায়: ……..)। আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা: আছে / নেই।
৩। প্রথম …….. মাস শিক্ষানবিশকাল হিসেবে গণ্য হবে। কাজ সন্তোষজনক হলে নিয়োগ স্থায়ী করা হবে।
৪। দায়িত্ব: …….. জামাত/শ্রেণির …….. বিষয় পাঠদান এবং কর্তৃপক্ষের দেওয়া অন্যান্য দায়িত্ব।
৫। মাদ্রাসার নির্ধারিত সময়সূচি, ছুটির নিয়ম ও আচরণবিধি মেনে চলতে হবে।
৬। চাকরি ছাড়তে চাইলে অন্তত …….. দিন আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে। কর্তৃপক্ষও একই নিয়মে জানাবে।

উপরের শর্তে সম্মত থাকলে এই পত্রের অনুলিপিতে স্বাক্ষর করে নির্ধারিত তারিখে যোগদান করার জন্য অনুরোধ করা হলো।

সভাপতি / সেক্রেটারি | মুহতামিম / অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ও সীল

আমি উপরের শর্তগুলো পড়ে ও বুঝে সম্মত হলাম। নিয়োগপ্রাপ্তের স্বাক্ষর ও তারিখ: ……..

যোগদান পত্রের নমুনা

নিয়োগ পত্র পাওয়ার পর শিক্ষক যেদিন কাজে যোগ দেবেন, সেদিন এই পত্র জমা দেবেন।

বিষয়: …….. পদে যোগদান পত্র।

বরাবর, মুহতামিম / অধ্যক্ষ, [মাদ্রাসার নাম], [ঠিকানা]

জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আপনার …….. তারিখের স্মারক নং …….. এর নিয়োগ পত্র অনুযায়ী আমি আজ …….. তারিখ পূর্বাহ্ণে …….. পদে যোগদান করলাম।

অতএব, আমার যোগদান পত্র গ্রহণ করে বাধিত করতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি।

বিনীত নিবেদক, নাম: …….. মোবাইল: …….. স্বাক্ষর: ……..

সংযুক্তি: ১) জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ২) শিক্ষাগত সনদের কপি ৩) পাসপোর্ট সাইজ ছবি ২ কপি

শিক্ষক নিয়োগের ধাপ

  1. কোন পদে, কোন বিষয়ের জন্য শিক্ষক লাগবে এবং বেতন কত দেওয়া যাবে তা কমিটিতে ঠিক করুন।
  2. আবেদন নিন এবং সাক্ষাৎকারে পাঠদান করিয়ে দেখুন।
  3. সিদ্ধান্ত হলে সভার খাতায় লিখে রাখুন কাকে, কোন পদে, কত বেতনে নিয়োগ দেওয়া হলো।
  4. নিয়োগ পত্র দুই কপি তৈরি করুন। এক কপি শিক্ষকের, অন্য কপিতে তার সম্মতির স্বাক্ষর নিয়ে অফিসে রাখুন।
  5. যোগদানের দিন যোগদান পত্র ও কাগজপত্রের কপি জমা নিন।
  6. শিক্ষকের নামে একটি ব্যক্তিগত ফাইল খুলুন এবং হাজিরা খাতা ও বেতনের তালিকায় নাম তুলুন।
  7. শিক্ষানবিশকাল শেষে লিখিতভাবে জানিয়ে দিন নিয়োগ স্থায়ী হলো কি না।

শিক্ষকের ব্যক্তিগত ফাইলে কী কী রাখবেন?

  • আবেদন পত্র ও জীবনবৃত্তান্ত
  • নিয়োগ পত্রের অফিস কপি (শিক্ষকের স্বাক্ষরসহ)
  • যোগদান পত্র
  • জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত সনদের কপি
  • ছবি ও জরুরি যোগাযোগের নম্বর
  • অঙ্গীকারনামা (নিলে)
  • ছুটির দরখাস্ত ও বেতন বৃদ্ধির চিঠি, তারিখ অনুযায়ী
নিয়োগ পত্রের শর্তগুলো প্রতিটি মাদ্রাসার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী আলাদা হয়। নমুনার ছয়টি শর্ত একটি শুরুর কাঠামো মাত্র। আপনার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যোগ বা বাদ দিন।

নিয়োগের পর শিক্ষকের হিসাব কীভাবে রাখবেন?

নিয়োগ পত্র কাগজেই দিতে হয়, তবে এরপরের কাজগুলো, যেমন মাসিক বেতন, হাজিরা, ছুটি ও ক্লাস রুটিন, সফটওয়্যারে রাখলে সুবিধা হয়। ছবক সফটওয়্যারে শিক্ষক যোগ করার সময়ই ঠিক করে দেওয়া যায় তিনি সফটওয়্যারে ঢুকতে পারবেন কি না। শিক্ষকদের বেতনের বিবরণী মাস ও শিক্ষক বেছে এক পাতায় প্রিন্ট করা যায়, সর্বমোট টাকা ও স্বাক্ষরের ঘরসহ। শিক্ষকের হাজিরার আলাদা রিপোর্টও পাওয়া যায়। বিস্তারিত এইচআর ও পে-রোল পাতায় আছে, আর বেতন, অগ্রিম ও কর্তন খাতায় কীভাবে বসে তা শিক্ষকদের বেতনের হিসাব লেখায়।

শিক্ষকদের বেতন, হাজিরা ও রুটিন এক জায়গায় রাখতে চান?

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে শিক্ষকের তথ্য, বেতন, হাজিরা, ছুটি ও ক্লাস রুটিন একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

মৌখিকভাবে নিয়োগ দিলে সমস্যা কী?
বেতন কত ঠিক হয়েছিল, কবে থেকে, কী দায়িত্ব, এসব নিয়ে পরে দুই পক্ষের স্মৃতি মেলে না। লিখিত নিয়োগ পত্র থাকলে শিক্ষকও নিশ্চিন্ত থাকেন, কমিটিও জবাব দিতে পারে। তাই ছোট মাদ্রাসাতেও এক পাতার নিয়োগ পত্র দেওয়া ভালো।
নিয়োগ পত্রে কার স্বাক্ষর থাকবে?
মুহতামিম বা অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ও সীল থাকবেই। কমিটি থাকলে সভাপতি বা সেক্রেটারির স্বাক্ষরও রাখুন। নিচে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক সম্মতি জানিয়ে স্বাক্ষর করবেন।
শিক্ষানবিশকাল কত দিন রাখা উচিত?
মাদ্রাসাভেদে তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত দেখা যায়। এই সময়ে শিক্ষকের পাঠদান ও আচরণ দেখে নিয়োগ স্থায়ী করা হয়। কত দিন রাখবেন তা মাদ্রাসার নিজস্ব নীতি অনুযায়ী ঠিক করে নিয়োগ পত্রে লিখে দিন।
যোগদান পত্র কেন আলাদা লাগে?
নিয়োগ পত্র মাদ্রাসার প্রস্তাব, আর যোগদান পত্র শিক্ষকের পক্ষ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা যে তিনি নির্দিষ্ট তারিখে কাজে যোগ দিয়েছেন। বেতন কোন তারিখ থেকে গণনা হবে তা এই যোগদান পত্রের তারিখ দিয়েই ঠিক হয়।
এই নমুনা কি এমপিওভুক্ত মাদ্রাসায় চলবে?
না। এমপিওভুক্ত ও সরকারি নিয়মে চলা মাদ্রাসায় নিয়োগের আলাদা বিধি ও ছক আছে, সেখানে সেটিই মানতে হবে। এই নমুনা কওমি ও বেসরকারি মাদ্রাসার নিজস্ব নিয়োগের জন্য।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

English: Read about Sabaq madrasa management software in English

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো