মাদ্রাসার হাজিরা পদ্ধতি: খাতা, বায়োমেট্রিক ও এসএমএস
মাদ্রাসায় হাজিরা নেওয়ার তিনটি পদ্ধতি প্রচলিত: খাতায় হাতে লেখা, সফটওয়্যারে শিক্ষকের নিজে দেওয়া হাজিরা, এবং বায়োমেট্রিক বা আরএফআইডি ডিভাইসে স্বয়ংক্রিয় হাজিরা। যে পদ্ধতিই বেছে নিন, অনুপস্থিত হলে অভিভাবকের কাছে সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস গেলে অনুপস্থিতি ও পালানোর প্রবণতা দুটোই অনেক কমে যায়।

কোন পদ্ধতিতে কী সুবিধা ও অসুবিধা?
হাজিরার পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে তিনটি জিনিস দেখতে হয়: শিক্ষার্থীর সংখ্যা, প্রতিদিন কতবার হাজিরা নিতে হয় এবং বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের অবস্থা কেমন। নিচের তুলনাটি দেখলে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য কোনটি বেশি মানানসই বুঝতে সুবিধা হবে।
| পদ্ধতি | সুবিধা | অসুবিধা | কাদের জন্য |
|---|---|---|---|
| খাতায় হাতে লেখা | খরচ নেই, বিদ্যুৎ লাগে না | মাস শেষে হিসাব করতে সময় লাগে, অভিভাবক জানতে পারেন না | খুব ছোট প্রতিষ্ঠান |
| সফটওয়্যারে শিক্ষকের হাজিরা | হিসাব স্বয়ংক্রিয়, এসএমএস যায়, ডিভাইস লাগে না | শিক্ষককে প্রতিদিন দিতে হয়, দেরি হলে এসএমএসও দেরি | বেশিরভাগ মাদ্রাসা |
| বায়োমেট্রিক বা আরএফআইডি | মিথ্যা হাজিরার সুযোগ নেই, সময়সহ রেকর্ড হয় | ডিভাইস কিনতে হয়, বিদ্যুৎ ও সংযোগ দরকার | বড় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক হাজিরা |
খাতায় হাজিরা নিলে কী সমস্যা হয়?
খাতার হাজিরা নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো এটি শুধু রেকর্ড, কাজে লাগে না। মাস শেষে কার কত দিন অনুপস্থিত তা গুনতে একজন শিক্ষকের অনেক সময় চলে যায়। দ্বিতীয় সমস্যা হলো সময়ের হিসাব থাকে না। একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন আধা ঘণ্টা দেরিতে আসলেও খাতায় তাকে উপস্থিতই লেখা হয়। তৃতীয়ত, অভিভাবক তার সন্তান মাদ্রাসায় পৌঁছেছে কি না তা জানতে পারেন না, যা আজকালকার অভিভাবকদের বড় একটি চাওয়া। চতুর্থত, খাতা হারালে বা ভিজলে পুরো বছরের রেকর্ড চলে যায়।
এর মানে এই নয় যে খাতা একদম বাদ দিতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান শুরুতে দুটোই চালায়, তারপর তিন চার মাস পর যখন সবাই অ্যাভ্যস্ত হয় তখন খাতা বন্ধ করে। এটি নিরাপদ একটি পথ।
বায়োমেট্রিক ডিভাইস বসানোর আগে কী দেখবেন?
- কতজন মানুষ ডিভাইসটি ব্যবহার করবে তা হিসাব করুন, কারণ ধারণক্ষমতা মডেলভেদে আলাদা।
- সময় কতটুকু, যেমন সকালে দশ মিনিটে তিনশত শিক্ষার্থী ঢুকলে একটি ডিভাইসে চাপ লাগবে।
- ছোট বাচ্চাদের আঙুলের ছাপ অনেক সময় স্পষ্ট হয় না, সেক্ষেত্রে আরএফআইডি কার্ড বা ফেস রিডার ভালো হয়।
- বিদ্যুৎ চলে গেলে কী হবে তা আগেই ঠিক করুন, আইপিএস বা ব্যাকআপ ব্যবস্থা রাখা ভালো।
- ডিভাইসটি রোদ ও বৃষ্টি থেকে বাঁচানো যায় এমন জায়গায় বসান।
- শুরুর দিনগুলোতে একজন শিক্ষক পাশে দাঁড়ান, যাতে সবাই ঠিকমতো পাঞ্চ করতে শেখে।
- প্রথম সপ্তাহ শেষে ডিভাইসের রেকর্ড ও খাতার রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন।
ছবক সফটওয়্যারের সাথে জেডাবলিউটিকো ব্র্যান্ডের বিভিন্ন মডেল যেমন iClock 9000G, MB360, MB460, MB560, F18, F22, V5L এবং SenseFace সিরিজ ব্যবহার করা যায়। কোন মডেল আপনার প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজন তা শিক্ষার্থী সংখ্যা ও পরিবেশ দেখে পরামর্শ দেওয়া হয়। বিস্তারিত হাজিরা ও বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা পাতায় দেওয়া আছে।
অনুপস্থিতির এসএমএস কেন এত কাজে দেয়?
হাজিরার মূল উদ্দেশ্য গণনা করা নয়, উপস্থিতি বাড়ানো। যখন একজন শিক্ষার্থী জানে সে না আসলে বাবা বা মায়ের ফোনে সঙ্গে সঙ্গে এসএমএস চলে যাবে, তখন ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ কমে যায়। অভিভাবকও মনে করেন প্রতিষ্ঠানটি তার সন্তানের খোঁজ রাখে। এসএমএস লেখার সময় তিনটি জিনিস রাখুন: শিক্ষার্থীর নাম, তারিখ এবং প্রতিষ্ঠানের নাম। অনাশ্যক লম্বা লেখা লিখলে একাধিক এসএমএস কাটে এবং খরচ বাড়ে।
শুধু অনুপস্থিতি নয়, বেতন আদায়ের পর ধন্যবাদ এসএমএস, পরীক্ষার তারিখ বা ছুটির নোটিশও একই ব্যবস্থা দিয়ে পাঠানো যায়। এসএমএস প্যাকেজ আলাদাভাবে নিতে হয়, কতটি লাগবে তা শিক্ষার্থী সংখ্যা দেখে হিসাব করা হয়।
শিক্ষকদের হাজিরা কীভাবে নেবেন?
শিক্ষকদের হাজিরা অনেক প্রতিষ্ঠানে একটি স্পর্শকাতর বিষয়। তবে নিয়মটি সবার জন্য এক হলে এবং উদ্দেশ্য পরিষ্কার থাকলে সমস্যা হয় না। বায়োমেট্রিক হাজিরার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বেতনের সাথে সরাসরি সংযোগ। কে কত দিন হাজির ছিলেন, কত দিন ছুটি নিয়েছেন এবং কত দিন দেরি হয়েছে, সব এক রিপোর্টে থাকলে বেতন হিসাব নিয়ে বছর শেষে কোনো বিতর্ক থাকে না।
হাজিরার তথ্য থেকে আর কী কী কাজ হয়?
অনেক প্রতিষ্ঠান হাজিরাকে শুধু উপস্থিত ও অনুপস্থিতের হিসাব মনে করে। অথচ এই একটি তথ্য থেকে অনেক কিছু বের করা যায়। প্রথমত, পরীক্ষার মার্কশিটে উপস্থিতির হার দিলে অভিভাবক বুঝতে পারেন ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ কোথায়। দ্বিতীয়ত, টানা কয়েক দিন অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের তালিকা ধরে আগেই খোঁজ নিলে অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়া থেকে রক্ষা পায়। তৃতীয়ত, বোর্ডিংয়ের খাবারের হিসাব ও বাজারের পরিকল্পনা উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যার উপর নির্ভর করে, তাই দৈনিক উপস্থিতির সংখ্যা জানা থাকলে খাবার নষ্ট ও ঘাটতি দুটোই কমে।
কোন মাদ্রাসার জন্য কোন পদ্ধতি ভালো?
একশত জনের কম শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের দেওয়া ম্যানুয়াল হাজিরাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত। খরচ নেই, শিখতেও সময় লাগে না। দুইশত থেকে পাঁচশত শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের হাজিরা বায়োমেট্রিকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিতে ম্যানুয়াল রাখা সুবিধাজনক, কারণ এতে সকালে ভিড় হয় না। পাঁচশতের বেশি শিক্ষার্থী বা ডে কেয়ার ধরনের প্রতিষ্ঠানে পুরোপুরি বায়োমেট্রিক বা আরএফআইডি কার্ড ব্যবস্থা ভালো কাজ করে, কারণ শিক্ষকের পক্ষে প্রতিদিন এত নাম দেখা সময়সাপেক্ষ। আরএফআইডি আইডি কার্ড নিতে চাইলে ন্যূনতম সংখ্যা ও প্রতি কার্ডের খরচ সম্পর্কে আগেই জেনে নিন।
হাজিরা ও এসএমএস একসাথে চালু করতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ম্যানুয়াল ও বায়োমেট্রিক দুই ভাবেই হাজিরা নেওয়া যায় এবং অনুপস্থিতির এসএমএস পাঠানো যায়। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে বিনামূল্যে ডেমো দেখানো হবে।