ছাত্রদের আইডি কার্ড নিজেরাই বানাবেন কীভাবে: কোন তথ্য রাখবেন, ছবি তোলা ও একসাথে প্রিন্ট

আইডি কার্ডে ছয়টি জিনিস থাকলেই যথেষ্ট: প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো, ছাত্রের নাম, জামাত ও শাখা, রোল বা দাখেলা নম্বর, ছবি, আর প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর। বাসার ঠিকানা, জন্মনিবন্ধন নম্বর বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর কার্ডে রাখবেন না। কার্ড হারিয়ে গেলে সেই তথ্য অচেনা হাতে চলে যায়।

এক নজরে

কার্ড বানানোর আগে যা ঠিক করে নেবেন।

  • ছয়টি তথ্য, এর বেশি নয়
  • ব্যক্তিগত নম্বর কার্ডে নয়
  • তালিকা আগে, বানান যাচাই করে
  • সব ছবি এক নিয়মে তোলা
  • নমুনা এক পাতা ছেপে যাচাই
  • প্রতি বছর জামাত ও রোল বদলায়

আইডি কার্ডে কোন তথ্যগুলো রাখবেন, কোনগুলো রাখবেন না?

কার্ডের কাজ একটাই: ছাত্রটি এই প্রতিষ্ঠানের, এটুকু প্রমাণ করা। তাই যত কম তথ্য দিয়ে কাজটি হয়, ততই ভালো। বেশি তথ্য দিলে কার্ড ভরাট দেখায় ঠিকই, কিন্তু হারালে ঝুঁকি বাড়ে।

  • রাখবেন: প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো
  • রাখবেন: ছাত্রের পূর্ণ নাম, বানান যাচাই করে
  • রাখবেন: জামাত ও শাখা
  • রাখবেন: রোল বা দাখেলা নম্বর
  • রাখবেন: সাম্প্রতিক ছবি
  • রাখবেন: প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর, যাতে কার্ড কুড়িয়ে পেলে কেউ জানাতে পারেন
  • রাখবেন না: বাসার পূর্ণ ঠিকানা
  • রাখবেন না: জন্মনিবন্ধন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর
  • রাখবেন না: অভিভাবকের মোবাইল নম্বর, বিশেষ করে আবাসিক ছাত্রদের কার্ডে

রক্তের গ্রুপ রাখতে চাইলে রাখতে পারেন, তবে শুধু তখনই যখন সেটি কাগজপত্রে যাচাই করা আছে। অনুমান করে লেখা রক্তের গ্রুপ বিপদের সময় উল্টো ক্ষতি করে।

কার্ড বানানোর আগে ছাত্রের তথ্য যেভাবে গুছিয়ে নেবেন

কার্ড ছাপার পর ভুল ধরা পড়লে পুরো জামাতের কাজ নষ্ট হয়। তাই ছাপার আগেই তালিকাটা চূড়ান্ত করে নিন। তথ্যগুলো নতুন করে সংগ্রহ করতে হয় না, ভর্তির সময়ের ফরমেই সব আছে।

  1. প্রতিটি জামাতের ছাত্রদের নাম, শাখা ও রোল একটি তালিকায় নামান।
  2. নামের বানান শ্রেণি শিক্ষককে দিয়ে মিলিয়ে নিন। বিশেষ করে মুহাম্মদ, মোহাম্মদ, আব্দুল ও আবদুল এই ধরনের বানানে দুই রকম লেখা হয়।
  3. রোল বা দাখেলা নম্বর চূড়ান্ত করে ফেলুন। কার্ড ছাপার পর রোল বদলালে কার্ড অকেজো হয়ে যায়।
  4. যে ছাত্ররা মাঝপথে চলে গেছে তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিন, নইলে অপ্রয়োজনীয় কার্ড ছাপা হয়।
  5. তালিকাটি একবার প্রিন্ট করে অফিসে রেখে দিন, পরে মিলিয়ে দেখতে কাজে লাগবে।

ভর্তির সময় তথ্য কীভাবে গুছিয়ে রাখলে পরে এসব কাজ সহজ হয়, সেটি নিয়ে আলাদা লেখা আছে ভর্তি ফরমে ছাত্রের তথ্য সংরক্ষণ পাতায়।

ছবি তোলার নিয়ম, যাতে সব কার্ড এক রকম দেখায়

এই একটি জায়গাতেই বেশিরভাগ মাদ্রাসার কার্ড দেখতে খারাপ হয়। কারও ছবি দূর থেকে তোলা, কারও ছবির পেছনে দেয়ালের দাগ, কারওটা অন্ধকার। অথচ নিয়ম পাঁচটি, আর একদিনেই পুরো প্রতিষ্ঠানের ছবি তুলে ফেলা যায়।

  • এক ব্যাকগ্রাউন্ড: একটি সাদা বা হালকা রঙের কাপড় দেয়ালে টাঙিয়ে নিন, সবার ছবি ওই একই জায়গায়
  • এক দূরত্ব: ক্যামেরা বা মোবাইল এক জায়গায় স্থির রাখুন, ছাত্ররা এসে দাঁড়াবে, ক্যামেরা নড়বে না
  • এক আলো: দিনের আলোতে, ছাত্রের মুখ আলোর দিকে, পেছনে জানালা যেন না থাকে
  • বুক পর্যন্ত ফ্রেম: মাথার উপরে সামান্য জায়গা রেখে বুক পর্যন্ত, পুরো শরীর নয়
  • ফাইলের নাম রোল নম্বর: ছবি তুলেই ফাইলের নাম রোল নম্বর দিয়ে রাখুন, এতে পরে কার ছবি কোনটা তা খুঁজতে হয় না

শেষ নিয়মটিই সবচেয়ে বেশি সময় বাঁচায়, অথচ প্রায় কেউ করে না। ছবির ফাইলের নাম রোল নম্বর হলে একশো ছাত্রের ছবি বসাতে যে কাজ কয়েক ঘণ্টা লাগত, সেটি কয়েক মিনিটে হয়ে যায়।

কাগজের কার্ড না পিভিসি কার্ড, কোনটা কখন

দুটোরই জায়গা আছে। কোনটা নেবেন তা নির্ভর করে কার্ডটি কতদিন টিকতে হবে আর কতজনের লাগবে তার উপর। দাম এলাকাভেদে আলাদা, তাই স্থানীয় প্রেসে যাচাই করে নেবেন।

বিষয় কাগজ ও লেমিনেশন পিভিসি কার্ড
টেকসই কম, ভাঁজ পড়ে ও কোণা ক্ষয়ে যায় বেশি, পানি ও ভাঁজে নষ্ট হয় না
খরচের ধরন প্রতি কার্ডে কম প্রতি কার্ডে বেশি
কত দিনে বদলাতে হয় সাধারণত প্রতি বছর কয়েক বছর চলে
যাদের জন্য মানানসই ছোট জামাত, যাদের রোল প্রতি বছর বদলায় আবাসিক ছাত্র ও যাদের কার্ড হাজিরায় লাগে
সংশোধন সহজ হ্যাঁ, নতুন করে ছেপে দিলেই হয় না, নতুন কার্ড বানাতে হয়

একটি মাঝামাঝি পথও আছে: ছোট জামাতের জন্য কাগজ আর আবাসিক ও উঁচু জামাতের জন্য পিভিসি। সব ছাত্রের জন্য একই ধরনের কার্ড রাখা বাধ্যতামূলক নয়।

এক জামাতের সব কার্ড একসাথে প্রিন্ট করার ধাপ

এক এক করে কার্ড বানালে সময় যায় আর ভুল হয়। জামাত ধরে একসাথে করলে কাজটা একদিনেই শেষ হয়।

  1. জামাতের তালিকা চূড়ান্ত করুন, নাম ও রোল যাচাই করা অবস্থায়।
  2. প্রতিটি নামের বিপরীতে ছবি আছে কি না মিলিয়ে দেখুন। ছবি না থাকলে সেই কজনের ছবি আগে তুলে নিন।
  3. নমুনা হিসেবে এক পাতা ছেপে হাতে নিয়ে দেখুন। লেখা ছোট কি না, ছবি কেটে যাচ্ছে কি না, লোগো ঝাপসা কি না, এই তিনটি এখানেই ধরা পড়ে।
  4. নমুনা ঠিক থাকলে পুরো জামাত ছেপে ফেলুন।
  5. ছাপার পর জামাত ধরে খামে ভরে শ্রেণি শিক্ষকের কাছে দিন, একজন একজন করে অফিস থেকে বিতরণ করবেন না।

প্রতি বছর কী কী বদলাতে হয়?

আইডি কার্ড এক বারের কাজ নয়। শিক্ষাবর্ষ বদলালেই কয়েকটি জিনিস বদলে যায়, তাই প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে কাজটি ধরা ভালো, সাধারণত নতুন বছরের ভর্তি ও শ্রেণি উত্তীর্ণের পরপরই।

  • জামাত বদলায়: উত্তীর্ণ ছাত্রদের নতুন কার্ড লাগে
  • রোল বদলায়: রোল বিন্যাসের পরেই কার্ড ছাপুন, আগে নয়
  • ছবি পুরনো হয়: ছোট ছাত্রদের চেহারা দ্রুত বদলায়, দুই বছরের বেশি পুরনো ছবি বদলে নিন
  • মেয়াদের তারিখ: কার্ডে শিক্ষাবর্ষ লেখা থাকলে পুরনো কার্ড সহজে আলাদা করা যায়
  • হারানো কার্ড: কে কবে নতুন কার্ড নিল তার একটি ছোট রেজিস্টার রাখুন, নইলে একই ছাত্র বারবার নিতে থাকে

কোথায় ভুল হয় সবচেয়ে বেশি

যে ভুলটি হয় যা করলে হয় না
নামের বানান ভুল ছাপা হয়ে যাওয়া ছাপার আগে শ্রেণি শিক্ষককে দিয়ে তালিকা মিলিয়ে নেওয়া
ছবি কেটে যাওয়া বা ঝাপসা হওয়া নমুনা এক পাতা ছেপে হাতে নিয়ে দেখা
ছাপার পর রোল বদলে যাওয়া রোল বিন্যাস শেষ করে তবেই ছাপতে দেওয়া
লেমিনেশনে ছবি নষ্ট হওয়া প্রথমে একটি কার্ড লেমিনেট করে দেখা
ব্যক্তিগত নম্বর কার্ডে বসানো জন্মনিবন্ধন ও পরিচয়পত্রের নম্বর অফিসের রেকর্ডে, কার্ডে নয়

সংখ্যা বড় হলে কী বদলায়?

পঞ্চাশ জনের কার্ড হাতে বানানো যায়। কয়েকশ ছাত্র হলে নাম, রোল ও ছবি মেলাতে গিয়েই বেশিরভাগ সময় চলে যায়, আর প্রতি বছর একই কাজ আবার করতে হয়।

সফটওয়্যারে তথ্যগুলো আগে থেকেই থাকে, কারণ নাম, জামাত, রোল ও ছবি ভর্তির সময়েই তোলা হয়। তাই জামাত বেছে নিয়ে ছবিসহ পরিচয়পত্র একসাথে তৈরি ও প্রিন্ট করা যায়, প্রতিষ্ঠানের লোগোসহ। হাজিরার জন্য কার্ড ব্যবহার করতে চাইলে RFID কার্ডের ব্যবস্থাও আছে, তবে সেটি ঐচ্ছিক হার্ডওয়্যার। কার্ডের নমুনা ও প্রিন্টের ধাপ দেখতে শ্রেণিভিত্তিক আইডি কার্ড প্রিন্ট পাতাটি দেখুন, আর কার্ড দিয়ে হাজিরার পদ্ধতি নিয়ে আছে মাদ্রাসার হাজিরা পদ্ধতি

কার্ডের নমুনা দেখতে চান?

আপনার জামাতের তালিকা বলুন, ডেমোতে সাজিয়ে কার্ড কেমন দেখাবে তা দেখিয়ে দেব।

সাধারণ প্রশ্ন

মাদ্রাসার আইডি কার্ডে কী কী তথ্য থাকা উচিত?
প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো, ছাত্রের পূর্ণ নাম, জামাত ও শাখা, রোল বা দাখেলা নম্বর, ছবি এবং প্রতিষ্ঠানের ফোন নম্বর। বাসার ঠিকানা, জন্মনিবন্ধন নম্বর বা অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর কার্ডে রাখা উচিত নয়।
এক জামাতের সব ছাত্রের কার্ড কি একসাথে প্রিন্ট করা যায়?
যায়। তথ্য ও ছবি আগে থেকে গোছানো থাকলে জামাত বেছে নিয়ে পুরো শ্রেণির কার্ড একসাথে তৈরি ও প্রিন্ট করা যায়। ছাপার আগে নমুনা এক পাতা ছেপে দেখে নেওয়া ভালো।
কাগজের কার্ড না পিভিসি কার্ড ভালো?
যাদের রোল প্রতি বছর বদলায় তাদের জন্য কাগজ ও লেমিনেশনই যথেষ্ট। আবাসিক ছাত্র বা যাদের কার্ড হাজিরায় লাগে তাদের জন্য পিভিসি টেকসই। সব ছাত্রের জন্য একই ধরনের কার্ড রাখা বাধ্যতামূলক নয়।
ছাত্রের ছবি কীভাবে তুললে কার্ডে ভালো আসে?
এক ব্যাকগ্রাউন্ড, এক দূরত্ব, দিনের আলোতে, বুক পর্যন্ত ফ্রেমে। আর ছবির ফাইলের নাম রোল নম্বর দিয়ে রাখুন, তাতে পরে কার ছবি কোনটা তা খুঁজতে হয় না।
কার্ড হারিয়ে গেলে কী করব?
নতুন কার্ড ইস্যু করুন, তবে কে কবে নতুন কার্ড নিল তার একটি ছোট রেজিস্টার রাখুন। এতে একই ছাত্র বারবার নিলে ধরা পড়ে, আর কার্ড হারানোর হারও কমে।
কার্ডে রক্তের গ্রুপ লেখা যাবে?
যাবে, তবে শুধু তখনই যখন সেটি কাগজপত্রে যাচাই করা আছে। অনুমান করে লেখা রক্তের গ্রুপ বিপদের সময় উল্টো ক্ষতি করতে পারে।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

আমাদের আর্টিকেল শেয়ার করুন
Facebook
WhatsApp

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

English: Read about Sabaq madrasa management software in English

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো