মাদ্রাসার ভর্তি বিজ্ঞপ্তি: নমুনা ও লেখার নিয়ম
মাদ্রাসার ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে সাতটি তথ্য থাকতেই হবে: মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা, কোন শিক্ষাবর্ষ, কোন কোন বিভাগ বা জামাতে ভর্তি, ভর্তির শুরু ও শেষ তারিখ, সাথে কী কী কাগজ আনতে হবে, খরচের ধারণা এবং যোগাযোগের মোবাইল নম্বর। নিচে পোস্টার, আনুষ্ঠানিক নোটিশ ও ফেসবুক পোস্টের তিন রকম নমুনা দেওয়া হলো।

ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে কী কী থাকতে হবে?
| তথ্য | কী লিখবেন | কেন জরুরি |
|---|---|---|
| শিরোনাম | “ভর্তি চলছে” বা “ভর্তি বিজ্ঞপ্তি”, সবচেয়ে বড় অক্ষরে | দূর থেকে দেখেই বোঝা যায় এটি কীসের কাগজ |
| মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা | পূর্ণ নাম, গ্রাম বা মহল্লা, উপজেলা | একই নামের অন্য মাদ্রাসা থেকে আলাদা করা যায় |
| শিক্ষাবর্ষ | হিজরি বা ইংরেজি সাল | পুরনো বিজ্ঞপ্তি বলে ভুল হয় না |
| বিভাগ ও জামাত | নূরানী, নাজেরা, হিফজ, কিতাব বিভাগ, কোন জামাত পর্যন্ত | অভিভাবক বোঝেন তার সন্তানের জন্য জায়গা আছে কি না |
| ভর্তির সময় | শুরু ও শেষ তারিখ, প্রতিদিন কয়টা থেকে কয়টা | অফিসে এসে ফিরে যেতে হয় না |
| কাগজপত্র | জন্ম নিবন্ধন, ছবি, ছাড়পত্র, অভিভাবকের পরিচয়পত্র | একবারেই ভর্তি সম্পন্ন হয় |
| খরচ | ভর্তি ফি, মাসিক বেতন, খোরাকি | অভিভাবক আগেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন |
| যোগাযোগ | অন্তত দুটি মোবাইল নম্বর | একটি বন্ধ থাকলে অন্যটিতে পাওয়া যায় |
নমুনা ১: টানানোর পোস্টার
মসজিদ, বাজার, দোকান ও মাদ্রাসার গেটে টানানোর জন্য। এখানে বাক্য নয়, ছোট ছোট তালিকা ব্যবহার করুন, কারণ মানুষ হাঁটতে হাঁটতে পড়ে।
ভর্তি চলছে: …….. শিক্ষাবর্ষ
[মাদ্রাসার নাম], [ঠিকানা]
যেসব বিভাগে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে: ১। নূরানী বিভাগ ২। নাজেরা বিভাগ ৩। হিফজ বিভাগ ৪। কিতাব বিভাগ (…….. জামাত পর্যন্ত)
ভর্তির সময়: …….. তারিখ থেকে …….. তারিখ পর্যন্ত, প্রতিদিন …….. টা থেকে …….. টা।
যা সাথে আনতে হবে: জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি ২ কপি, আগের প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বা প্রত্যয়ন পত্র (থাকলে), অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
খরচ: ভর্তি ফি …….. টাকা, মাসিক বেতন …….. টাকা, খোরাকি (আবাসিক) …….. টাকা।
যোগাযোগ: ……..
নমুনা ২: আনুষ্ঠানিক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি
মাদ্রাসার প্যাডে, স্মারক নম্বর ও মুহতামিমের স্বাক্ষরসহ। পুরনো ছাত্রদের ভর্তি নবায়নের তারিখও এখানে জানানো হয়।
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি
এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, [মাদ্রাসার নাম] এ …….. শিক্ষাবর্ষে নূরানী, নাজেরা, হিফজ ও কিতাব বিভাগে নতুন ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি নেওয়া হবে। ভর্তি কার্যক্রম …….. তারিখ থেকে শুরু হয়ে …….. তারিখ পর্যন্ত চলবে।
পুরাতন ছাত্র/ছাত্রীদের …….. তারিখের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করে ভর্তি নবায়ন করতে হবে। নির্ধারিত তারিখের পর আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ভর্তি নেওয়া হবে।
ভর্তির সময় জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি, ছবি ২ কপি, আগের প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র (থাকলে) এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সাথে আনতে হবে। ভর্তির সময় অভিভাবকের উপস্থিতি আবশ্যক।
নতুন শিক্ষাবর্ষের দরস …….. তারিখ থেকে শুরু হবে ইনশাআল্লাহ।
নমুনা ৩: ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের ছোট লেখা
ছোট লেখা
ভর্তি চলছে! [মাদ্রাসার নাম], [এলাকা]। …….. শিক্ষাবর্ষে নূরানী, নাজেরা, হিফজ ও কিতাব বিভাগে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে। ভর্তির শেষ তারিখ: ……..। আবাসিক ও অনাবাসিক দুই ব্যবস্থাই আছে। যোগাযোগ: ……..
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি লেখার সময় যা খেয়াল রাখবেন
- যা সত্যি দিতে পারবেন কেবল তা-ই লিখুন। বাড়িয়ে লিখলে ভর্তির পর অভিভাবকের আস্থা নষ্ট হয়।
- অন্য মাদ্রাসার সাথে তুলনা বা কাউকে ছোট করে কিছু লিখবেন না।
- মোবাইল নম্বর বড় অক্ষরে দিন এবং নম্বরটি ভর্তির মৌসুমে সবসময় চালু রাখুন।
- তারিখের সাথে বার লিখলে মানুষ সহজে মনে রাখে।
- পোস্টারে লেখা কম, ফাঁকা জায়গা বেশি রাখুন। ঠাসা লেখা কেউ পড়ে না।
- ছাপানোর আগে আরেকজনকে দিয়ে তারিখ ও নম্বর মিলিয়ে নিন।
বিজ্ঞপ্তি কোথায় কোথায় দেবেন?
- মাদ্রাসার গেট ও নোটিশ বোর্ডে।
- এলাকার মসজিদগুলোতে, জুমার দিন ঘোষণাসহ।
- বাজার, দোকান ও চায়ের দোকানে, মালিকের অনুমতি নিয়ে।
- বর্তমান ছাত্রদের অভিভাবকদের কাছে, কারণ তারাই সবচেয়ে বেশি নতুন ছাত্র আনেন।
- মাদ্রাসার ফেসবুক পাতা ও এলাকার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে।
- মাদ্রাসার ওয়েবসাইট থাকলে সেখানে, সাথে অনলাইন আবেদনের ব্যবস্থা।
অনলাইনে ভর্তির আবেদন নিলে কী সুবিধা?
দূরের অভিভাবক বা প্রবাসী বাবা অনেক সময় ভর্তির জন্য একাধিকবার আসতে পারেন না। ছবক সফটওয়্যার ব্যবহার করা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে অভিভাবক নিজেই ভর্তির আবেদন পাঠাতে পারেন। আবেদনগুলো অপেক্ষমাণ তালিকায় জমা হয়। অফিস সেখানে নাম, পিতা মাতার নাম, জন্ম তারিখ, ছবি ও আগের প্রতিষ্ঠান দেখে অনুমোদন দিলে শিক্ষার্থী তালিকায় যুক্ত হয়ে যায়, নতুন করে তথ্য লিখতে হয় না। ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে তখন ওয়েবসাইটের ঠিকানাও দিয়ে দেওয়া যায়। ওয়েবসাইটে কী কী পাতা রাখবেন তা মাদ্রাসা ওয়েবসাইট পাতায় আছে, আর ভর্তির তথ্য গুছিয়ে রাখার নিয়ম ভর্তি ফরম লেখায়।
ভর্তির আবেদন অনলাইনে নিতে ও ছাত্রের তথ্য গুছিয়ে রাখতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে অনলাইন ভর্তির আবেদন, ভর্তি ফর্ম প্রিন্ট, আইডি কার্ড ও বেতন আদায় একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।