মাদ্রাসার অঙ্গীকারনামা: নমুনা ও লেখার নিয়ম
অঙ্গীকারনামায় চারটি জিনিস থাকে: কে অঙ্গীকার করছেন তার পরিচয়, কোন কোন নিয়ম মানবেন তার নম্বর দেওয়া তালিকা, নিয়ম ভাঙলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার স্বীকৃতি, এবং তারিখসহ স্বাক্ষর। ছাত্রের বেলায় অভিভাবকের অঙ্গীকার ও স্বাক্ষরও লাগে। নিচে ছাত্র ও অভিভাবকের এবং শিক্ষকের দুটি পূর্ণ নমুনা দেওয়া হলো।

অঙ্গীকারনামা কেন নেওয়া হয়?
মাদ্রাসার নিয়ম মুখে বলে দিলে অনেকে পরে বলেন তারা জানতেন না। অঙ্গীকারনামা সেই সুযোগ বন্ধ করে। ভর্তির দিন ছাত্র ও অভিভাবক নিয়মগুলো পড়ে স্বাক্ষর করলে দুই পক্ষই জানে কী আশা করা হচ্ছে। পরে কোনো সমস্যা হলে নতুন করে তর্ক না করে এই কাগজটি দেখিয়ে কথা বলা যায়। শিক্ষকের বেলাতেও একই কথা: নিয়োগ পত্র বলে মাদ্রাসা কী দেবে, আর অঙ্গীকারনামা বলে শিক্ষক কী মেনে চলবেন।
অঙ্গীকারনামায় কী কী থাকে?
| অংশ | কী লিখবেন |
|---|---|
| শিরোনাম | অঙ্গীকারনামা, এবং কার জন্য (ছাত্র ও অভিভাবক, অথবা শিক্ষক) |
| পরিচয় | নাম, পিতার নাম, জামাত বা পদবি, দাখেলা নম্বর |
| শর্তের তালিকা | ছয় থেকে আটটি নিয়ম, প্রতিটি এক বাক্যে, নম্বর দিয়ে |
| স্বীকৃতি | নিয়ম ভাঙলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা |
| অভিভাবকের অংশ | বেতন সময়মতো দেওয়া ও সন্তানের খোঁজ রাখার অঙ্গীকার, মোবাইল নম্বর |
| স্বাক্ষর ও তারিখ | অঙ্গীকারকারী, অভিভাবক বা সাক্ষী, এবং মুহতামিম |
নমুনা ১: ছাত্র ও অভিভাবকের অঙ্গীকারনামা
ভর্তির সময় ভর্তি ফরমের সাথে এই অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয়।
অঙ্গীকারনামা (ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবক)
আমি …….., পিতা: …….., জামাত/শ্রেণি: …….., দাখেলা নং …….., এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে:
১। মাদ্রাসার সকল নিয়ম কানুন ও সময়সূচি মেনে চলব।
২। নিয়মিত দরসে উপস্থিত থাকব এবং অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকব না।
৩। উস্তাদদের সম্মান করব এবং সহপাঠীদের সাথে ভালো আচরণ করব।
৪। মোবাইল ফোন বা মাদ্রাসার নিষিদ্ধ করা কোনো জিনিস সাথে রাখব না।
৫। মাদ্রাসার আসবাব, কিতাব ও সম্পদের ক্ষতি করব না, করলে ক্ষতিপূরণ দেব।
৬। ছুটি শেষে নির্ধারিত দিনে মাদ্রাসায় উপস্থিত হব।
উপরের কোনো নিয়ম ভঙ্গ করলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা মেনে নেব।
ছাত্র/ছাত্রীর স্বাক্ষর ও তারিখ: ……..
অভিভাবকের অঙ্গীকার: আমি …….., উক্ত ছাত্র/ছাত্রীর …….., অঙ্গীকার করছি যে প্রতি মাসের …….. তারিখের মধ্যে বেতন ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করব, মাদ্রাসার ডাকে সাড়া দেব এবং সন্তানের পড়ালেখা ও আচরণের নিয়মিত খোঁজ রাখব।
অভিভাবকের মোবাইল: …….. | অভিভাবকের স্বাক্ষর ও তারিখ | মুহতামিম / অধ্যক্ষ
নমুনা ২: শিক্ষক বা কর্মচারীর অঙ্গীকারনামা
নিয়োগের সময়, যোগদান পত্রের সাথে নেওয়া হয় এবং শিক্ষকের ব্যক্তিগত ফাইলে রাখা হয়।
অঙ্গীকারনামা (শিক্ষক / কর্মচারী)
আমি …….., পিতা: …….., পদবি: …….., এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে:
১। মাদ্রাসার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী উপস্থিত থাকব এবং নিয়মিত পাঠদান করব।
২। ছাত্রদের সাথে স্নেহ ও ধৈর্যের সাথে আচরণ করব এবং কোনো ছাত্রকে শারীরিক শাস্তি দেব না।
৩। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করব না এবং ছুটির প্রয়োজনে আগে লিখিত আবেদন করব।
৪। মাদ্রাসার আয় ব্যয়, ছাত্রের তথ্য ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ের গোপনীয়তা রক্ষা করব।
৫। মাদ্রাসার নামে কোনো চাঁদা বা অনুদান রসিদ ছাড়া গ্রহণ করব না এবং গ্রহণ করা টাকা সাথে সাথে অফিসে জমা দেব।
৬। চাকরি ছাড়তে চাইলে অন্তত …….. দিন আগে লিখিতভাবে জানাব এবং দায়িত্ব বুঝিয়ে দেব।
উপরের অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য থাকব।
অঙ্গীকারকারীর স্বাক্ষর ও তারিখ | সাক্ষী | মুহতামিম / অধ্যক্ষ
অঙ্গীকারনামা লেখার নিয়ম
- প্রতিটি শর্ত এক বাক্যে, সহজ ভাষায় লিখুন। কঠিন শব্দ বা লম্বা বাক্য কেউ বোঝে না।
- এমন শর্তই দিন যা বাস্তবে মানা সম্ভব এবং মাদ্রাসা নিজেও যা মানাতে পারবে।
- শর্ত ছয় থেকে আটটির মধ্যে রাখুন।
- ছাত্রের অংশ ও অভিভাবকের অংশ আলাদা করুন, কারণ দুজনের দায়িত্ব আলাদা।
- স্বাক্ষরের আগে পুরো কাগজটি পড়ে শোনান, বিশেষ করে যে অভিভাবক পড়তে পারেন না।
- একটি কপি অভিভাবক বা শিক্ষককে দিন, মূল কপি অফিসের ফাইলে রাখুন।
- মাদ্রাসার নিয়মাবলি থেকে সবচেয়ে জরুরি ছয় থেকে আটটি বেছে নিন।
- টেমপ্লেটে শর্তগুলো বদলে মাদ্রাসার নাম বসিয়ে প্রিন্ট করুন।
- ভর্তি বা যোগদানের দিন পড়ে শুনিয়ে স্বাক্ষর নিন।
- ছাত্রের ভর্তি ফাইল বা শিক্ষকের ব্যক্তিগত ফাইলে রেখে দিন।
- নিয়ম বদলালে পরের শিক্ষাবর্ষে নতুন অঙ্গীকারনামা নিন।
ভর্তি ফরমের সাথে অঙ্গীকারনামা একসাথে রাখা যায় কি?
যায়, এবং এতে কাগজ কম হারায়। ছবক সফটওয়্যার থেকে শিক্ষার্থীর ভর্তি ফর্ম প্রিন্ট করলে একই পাতায় ছাত্রের তথ্য, ছবি, অভিভাবকের জন্য নোটিশ, অঙ্গীকারনামা ও স্বাক্ষরের অংশ থাকে। ফলে ভর্তির দিন আলাদা করে অঙ্গীকারনামা ছাপাতে হয় না, ভর্তি ফর্মেই স্বাক্ষর নেওয়া যায়। ভর্তির তথ্য কীভাবে গুছিয়ে রাখবেন তা ভর্তি ফরম ও ছাত্র তথ্য লেখায় আছে।
ভর্তি ফরম, অঙ্গীকারনামা ও ছাত্রের তথ্য এক জায়গায় রাখতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ভর্তি, বেতন, হাজিরা ও ফলাফল একই জায়গায় থাকে এবং ভর্তি ফর্ম সরাসরি প্রিন্ট করা যায়। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।