কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব ও কর্তব্য
কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব তিন ভাগে: পরীক্ষার আগে প্রশ্ন ও খাতা বুঝে নেওয়া এবং সিট প্ল্যান অনুযায়ী বসানো, পরীক্ষা চলাকালীন খাতা বিতরণ, হাজিরা শিটে স্বাক্ষর নেওয়া ও কক্ষে ঘুরে তদারক করা, এবং পরীক্ষা শেষে খাতা গুনে রোল অনুযায়ী সাজিয়ে অফিসে জমা দেওয়া। নিচে ১২টি দায়িত্বের পূর্ণ তালিকা, হাজিরা শিট ও সিট প্ল্যানের ছক দেওয়া হলো।

কক্ষ পরিদর্শকের ১২টি দায়িত্ব
কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব ও কর্তব্য
১। পরীক্ষা শুরুর অন্তত ২০ মিনিট আগে অফিস থেকে প্রশ্নপত্র, খাতা ও হাজিরা শিট বুঝে নিয়ে কক্ষে উপস্থিত হওয়া।
২। সিট প্ল্যান অনুযায়ী প্রত্যেক পরীক্ষার্থী নিজ আসনে বসেছে কি না দেখা।
৩। প্রবেশপত্র দেখে পরীক্ষার্থীর পরিচয় নিশ্চিত করা।
৪। পরীক্ষার্থীদের কাছে কিতাব, কাগজ বা মোবাইল ফোন নেই তা নিশ্চিত করা।
৫। নির্ধারিত সময়ে খাতা ও প্রশ্নপত্র বিতরণ করা।
৬। খাতার কভার পেজ ঠিকমতো পূরণ হয়েছে কি না দেখে স্বাক্ষর করা।
৭। হাজিরা শিটে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া এবং অনুপস্থিতদের রোল লিখে রাখা।
৮। পরীক্ষা চলাকালীন কক্ষে ঘুরে দেখা। বসে থাকা, বই পড়া বা ফোন ব্যবহার না করা।
৯। পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর বলে না দেওয়া এবং কাউকে বাড়তি সুবিধা না দেওয়া।
১০। অসদুপায় দেখলে শান্তভাবে খাতা নিয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো, নিজে শাস্তি না দেওয়া।
১১। সময় শেষের ১৫ মিনিট আগে সতর্ক করা এবং সময় শেষে সবার খাতা সংগ্রহ করা।
১২। খাতা গুনে রোল অনুযায়ী সাজিয়ে কক্ষের বিবরণীসহ অফিসে জমা দেওয়া।
পরীক্ষার আগে, চলাকালীন ও পরে
| সময় | কাজ | খেয়াল রাখুন |
|---|---|---|
| ২০ মিনিট আগে | প্রশ্ন, খাতা, হাজিরা শিট বুঝে নেওয়া | প্রশ্নের খাম সীল করা আছে কি না দেখুন |
| ১০ মিনিট আগে | পরীক্ষার্থীদের সিট অনুযায়ী বসানো, তল্লাশি | ব্যাগ ও কিতাব কক্ষের বাইরে |
| ৫ মিনিট আগে | খাতা বিতরণ, কভার পেজ পূরণ | রোল ও বিষয় ঠিক আছে কি না দেখুন |
| শুরুর সময় | প্রশ্নপত্র বিতরণ | সবাইকে একসাথে |
| প্রথম আধা ঘণ্টা | হাজিরা শিটে স্বাক্ষর নেওয়া | অনুপস্থিতদের রোল লিখুন |
| পরীক্ষা চলাকালীন | কক্ষে ঘুরে দেখা | এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবেন না |
| শেষের ১৫ মিনিট আগে | সময়ের সতর্কতা | |
| সময় শেষে | খাতা সংগ্রহ, গোনা, সাজানো | হাজিরা শিটের সংখ্যার সাথে মিলান |
| জমা দেওয়ার সময় | কক্ষের বিবরণী পূরণ করে অফিসে জমা | অব্যবহৃত খাতা ফেরত দিন |
পরীক্ষার্থীদের হাজিরা শিট
টেমপ্লেটের দ্বিতীয় পাতায় হাজিরা শিট আছে। উপরে পরীক্ষার নাম, জামাত, বিষয়, তারিখ, কক্ষ নম্বর ও সময়। ছকে পাঁচটি কলাম: ক্রমিক, রোল নং, পরীক্ষার্থীর নাম, সিট নং এবং পরীক্ষার্থীর স্বাক্ষর। নিচে মোট পরীক্ষার্থী, উপস্থিত, অনুপস্থিত ও অনুপস্থিতদের রোল লেখার জায়গা এবং দুই পরিদর্শকের স্বাক্ষর। পরীক্ষার আগেই অফিস থেকে নাম ও রোল লিখে শিটটি তৈরি করে রাখলে কক্ষে সময় বাঁচে।
সিট প্ল্যান কীভাবে করবেন?
- কক্ষে কয়টি সারি ও প্রতি সারিতে কয়জন বসবে তা গুনে নিন।
- পাশাপাশি আসনে আলাদা জামাতের ছাত্র বসান, তাহলে দেখাদেখির সুযোগ কমে।
- প্রতিটি আসনে রোল নম্বর লিখে কাগজ সেঁটে দিন।
- কক্ষের দরজায় সিট প্ল্যানের একটি কপি টানিয়ে দিন।
- সিট নম্বর প্রবেশপত্রেও লিখে দিন, যাতে ছাত্র আগে থেকেই জানে কোথায় বসবে।
- টেমপ্লেটের তৃতীয় পাতার ছকে প্রতিটি ঘরে রোল লিখে রাখুন।
কক্ষের বিবরণীতে কী লিখতে হয়?
- পরীক্ষার নাম, তারিখ, কক্ষ নম্বর ও বিষয় লিখুন।
- কতটি খাতা বিতরণ করা হলো এবং কতটি অতিরিক্ত পাতা দেওয়া হলো তা লিখুন।
- জমা পাওয়া খাতা গুনে সংখ্যা লিখুন। উপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যার সাথে মিলতে হবে।
- অব্যবহৃত খাতার সংখ্যা লিখে ফেরত দিন।
- বিশেষ কোনো ঘটনা ঘটলে, যেমন অসুস্থতা বা অসদুপায়, সংক্ষেপে লিখুন।
- পরিদর্শক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষর করুন।
সিট নম্বর ও প্রবেশপত্র দ্রুত তৈরি করবেন কীভাবে?
পরীক্ষার আগের সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি সময় যায় সিট নম্বর বসানো, প্রবেশপত্র লেখা ও হাজিরা শিট তৈরিতে। ছবক সফটওয়্যারে পরীক্ষা তৈরি করে সিট নম্বর এক চাপে সবার জন্য বসিয়ে দেওয়া যায় এবং প্রিন্ট করা যায়। এডমিট কার্ডে নাম, পিতার নাম, শ্রেণি, রোল, সিট নম্বর ও পরীক্ষার নিয়মাবলী থাকে। পরীক্ষার রুটিনে প্রতিটি বিষয়ের শুরু ও শেষের সময় থাকে। হাতে পূরণের জন্য খালি হাজিরা শিটও প্রিন্ট করা যায়। পরীক্ষার পর নম্বর তুললে মার্কশিট ও মেধাস্থান নিজে থেকে তৈরি হয়। বিস্তারিত পরীক্ষা ও রেজাল্ট পাতায় আছে।
সিট নম্বর, প্রবেশপত্র ও রুটিন একসাথে তৈরি করতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে পরীক্ষার রুটিন, সিট নম্বর, এডমিট কার্ড ও মার্কশিট একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।