অভিভাবক ও শিক্ষক অ্যাপ
ছবকের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপে অভিভাবক নিজেই সন্তানের হাজিরা, বেতন, ফলাফল ও নোটিশ দেখতে পারেন, বারবার মাদ্রাসায় ফোন করতে হয় না। শিক্ষকরা একই অ্যাপ থেকে হাজিরা ও দৈনিক এন্ট্রি দিতে পারেন।

অভিভাবক কেন অ্যাপ পছন্দ করেন?
বেশিরভাগ অভিভাবক দিনের বেলা কাজে থাকেন, মাদ্রাসায় এসে খোঁজ নেওয়ার সময় হয় না। অ্যাপ থাকলে রাতে ফোন হাতে নিয়ে নিজেই দেখে নিতে পারেন সন্তান কত দিন উপস্থিত ছিল, বেতন বাকি আছে কি না এবং পরীক্ষায় কেমন করল। এতে অফিসের ওপর ফোনের চাপও অনেক কমে যায়।
মাদ্রাসার দিক থেকেও এটি লাভজনক। যে তথ্য আগে ফোনে বলতে হতো, সেটি এখন অভিভাবক নিজেই দেখে নেন। তথ্য সবার জন্য একই জায়গা থেকে আসে বলে ভুল বোঝাবুঝিও কমে।
অ্যাপে অভিভাবক কী দেখতে পান?
হাজিরা
সন্তান কোন দিন উপস্থিত ছিল আর কোন দিন ছিল না তা মাসওয়ারি দেখা যায়।
বেতন ও বকেয়া
কোন মাসের টাকা জমা হয়েছে আর কত বাকি আছে তা স্পষ্ট দেখা যায়।
পরীক্ষার ফলাফল
প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে বিষয়ওয়ারি নম্বর ও অবস্থান দেখা যায়।
নোটিশ
ছুটি, পরীক্ষার তারিখ ও জরুরি খবর অ্যাপেই পৌঁছে যায়।
হিফজের অগ্রগতি
হিফজ বিভাগের ছাত্র হলে সবক ও পারার হিসাবও দেখা যায়।
একাধিক সন্তান
একাধিক সন্তান একই মাদ্রাসায় পড়লে এক অ্যাকাউন্ট থেকেই সবার তথ্য দেখা যায়।
শিক্ষক অ্যাপে কী করা যায়?
- নিজের শ্রেণির হাজিরা মোবাইল থেকেই দেওয়া যায়।
- হিফজ বিভাগের সবক, সাবকি ও আমুখতার এন্ট্রি দেওয়া যায়।
- নিজের বিষয়ের নম্বর এন্ট্রি দেওয়া যায়।
- ছাত্রের প্রোফাইল ও অভিভাবকের নম্বর দেখা যায়।
- ইউজার পারমিশন অনুযায়ী যাকে যতটুকু দেওয়া হয় শুধু ততটুকুই দেখা যায়।
অ্যাপ কোথা থেকে নেবেন?
অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চলে। দুইভাবে নেওয়া যায়।
| পদ্ধতি | লিংক |
|---|---|
| প্লে স্টোর | Google Play থেকে ইনস্টল করুন |
| সরাসরি APK | sabaq.apk ডাউনলোড করুন |
অ্যাপ চালু করার ধাপ
- মাদ্রাসার অফিস প্রতিটি অভিভাবকের জন্য লগইন তৈরি করে।
- অভিভাবক প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করেন।
- প্রথমবার লগইন করে পাসওয়ার্ড বদলে নেন।
- এরপর থেকে হাজিরা, বেতন ও ফলাফল নিজেই দেখতে পারেন।
অভিভাবকদের অ্যাপ দিতে চান?
আগে মাদ্রাসার ডাটা ছবকে তুলতে হয়। কীভাবে শুরু করবেন জানতে ফোন করুন।
অ্যাপ চালু করার আগে যে প্রস্তুতি দরকার
অ্যাপ থেকে পূর্ণ ফায়দা পেতে হলে মাদ্রাসার তথ্য আগে সফটওয়্যারে গুছিয়ে তুলতে হয়। ছাত্রের নাম ও শ্রেণি, অভিভাবকের মোবাইল নম্বর আর বেতনের পরিমাণ ঠিক থাকলে প্রথম দিন থেকেই অ্যাপে সঠিক তথ্য দেখা যায়। পুরনো ছাত্রদের তথ্যও একসাথে তোলা যায়।
অনেক মাদ্রাসা প্রথমে একটি শ্রেণির অভিভাবকদের লগইন দিয়ে শুরু করে। তাঁরা ব্যবহার করতে শিখে গেলে ধীরে ধীরে সব শ্রেণিতে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এভাবে শুরু করলে অফিসের ওপর একসাথে বেশি চাপ পড়ে না আর সমস্যা হলে সহজে সামলানো যায়। শুরুর দিকে ফোনে সাপোর্ট দেওয়া হয়।
অ্যাপ থাকলে যে অভিযোগগুলো কমে
- ছেলে মাদ্রাসায় গেল কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে না।
- বেতন জমা হয়েছে কি না তা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হয় না।
- রেজাল্ট নিয়ে অফিসে ভিড় কমে যায়।
- নোটিশ না পাওয়ার অজুহাত কমে।
- দূরের অভিভাবকও সব খবর সময়মতো জানতে পারেন।
- শিক্ষকদের দৈনিক এন্ট্রি সময়মতো শেষ হয়।
অ্যাপ নাকি এসএমএস?
যেসব অভিভাবকের স্মার্টফোন আছে তাঁদের জন্য অ্যাপ সবচেয়ে ভালো, কারণ এখানে পূর্ণ বিস্তারিত থাকে আর অতিরিক্ত খরচ লাগে না। যাঁদের স্মার্টফোন নেই, তাঁদের জন্য এসএমএস সিস্টেম আছে। বেশিরভাগ মাদ্রাসা দুটিই একসাথে ব্যবহার করে।
অ্যাপে যা দেখা যায় তার মূল তথ্য আসে হাজিরা, বেতন আদায় ও পরীক্ষা ও রেজাল্ট অংশ থেকে। অ্যাপ সম্পর্কে আরও জানতে অ্যাপ পাতা, সব সুবিধা দেখতে ফিচার পাতা আর খরচ জানতে প্রাইসিং পাতা দেখুন।