বেতন মওকুফের আবেদন পত্র: নমুনা ও লেখার নিয়ম

বেতন মওকুফের আবেদনে লিখতে হয়: ছাত্রের নাম, জামাত ও রোল, অভিভাবকের পেশা ও আনুমানিক আয়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, কেন বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, এবং পূর্ণ না অর্ধেক মওকুফ চাওয়া হচ্ছে। শেষে অভিভাবকের নাম, ঠিকানা, মোবাইল ও স্বাক্ষর। নিচে মওকুফের আবেদন, বকেয়া কিস্তিতে পরিশোধের আবেদন এবং অফিসের মওকুফ রেজিস্টারের নমুনা দেওয়া হলো।

মাদ্রাসায় বেতন মওকুফের আবেদন পত্রের নমুনা (ফ্রি Word টেমপ্লেট)
ফ্রি ডাউনলোড (রেজিস্ট্রেশন লাগে না): বেতন মওকুফের আবেদনের Word টেমপ্লেট (.docx)। তিনটি পাতা: বেতন পূর্ণ বা অর্ধেক মওকুফের আবেদন (অফিসের সিদ্ধান্তের ঘরসহ), বকেয়া বেতন কিস্তিতে পরিশোধের আবেদন, এবং অফিসের জন্য বেতন মওকুফ রেজিস্টার। টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন

বেতন মওকুফের আবেদনে কী কী থাকে?

অংশ কী লিখবেন
তারিখ ও বরাবর আবেদনের তারিখ, মুহতামিম বা অধ্যক্ষ, মাদ্রাসার নাম
বিষয় মাসিক বেতন পূর্ণ বা অর্ধেক মওকুফের আবেদন
ছাত্রের পরিচয় নাম, জামাত বা শ্রেণি, রোল
পরিবারের অবস্থা অভিভাবকের পেশা, আনুমানিক মাসিক আয়, সদস্য সংখ্যা, কতজন পড়ছে
কারণ কেন বেতন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, সংক্ষেপে ও সত্যভাবে
অনুরোধ পূর্ণ না অর্ধেক মওকুফ, এবং পড়া চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা
আবেদনকারী অভিভাবকের নাম, ঠিকানা, মোবাইল, স্বাক্ষর

নমুনা ১: বেতন মওকুফের আবেদন

বিষয়: মাসিক বেতন পূর্ণ / অর্ধেক মওকুফের জন্য আবেদন।

বরাবর, মুহতামিম / অধ্যক্ষ, [মাদ্রাসার নাম], [ঠিকানা]

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমার ছেলে/মেয়ে …….. আপনার মাদ্রাসার …….. জামাত/শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রী, রোল নং ……..। আমি পেশায় …….. এবং আমার মাসিক আয় আনুমানিক …….. টাকা। পরিবারের সদস্য সংখ্যা …….. জন, যার মধ্যে …….. জন পড়ালেখা করছে।

…….. কারণে বর্তমানে সন্তানের মাসিক বেতন …….. টাকা নিয়মিত পরিশোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কিন্তু আমি চাই তার দ্বীনি শিক্ষা যেন বন্ধ না হয়।

অতএব, আমার আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে তার মাসিক বেতন পূর্ণ / অর্ধেক মওকুফ করে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি।

বিনীত নিবেদক, অভিভাবকের নাম: …….. ঠিকানা: …….. মোবাইল: …….. স্বাক্ষর: ……..

নমুনা ২: বকেয়া বেতন কিস্তিতে পরিশোধের আবেদন

যে অভিভাবক মওকুফ চান না, কিন্তু জমে যাওয়া বকেয়া একসাথে দিতে পারছেন না, তার জন্য। পরীক্ষার আগে এ ধরনের আবেদন বেশি আসে।

বিষয়: বকেয়া বেতন কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ চেয়ে আবেদন।

জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আমার ছেলে/মেয়ে …….., জামাত/শ্রেণি: …….., রোল নং …….., এর …….. মাস থেকে …….. মাস পর্যন্ত মোট …….. টাকা বেতন বকেয়া রয়েছে। …….. কারণে এই টাকা একসাথে পরিশোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

আমি অঙ্গীকার করছি যে, চলতি মাসের বেতনের সাথে প্রতি মাসে …….. টাকা করে আগামী …….. মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বকেয়া পরিশোধ করব।

অতএব, আমাকে কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধের সুযোগ দিয়ে সন্তানের পড়ালেখা ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অব্যাহত রাখতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি।

অফিস আবেদন নিয়ে কী করবে?

টেমপ্লেটের প্রতিটি আবেদনের নিচে “অফিসের জন্য” একটি ঘর আছে, যেখানে সিদ্ধান্ত (পূর্ণ মওকুফ, অর্ধেক মওকুফ, নির্দিষ্ট টাকা ছাড় বা নামঞ্জুর) ও মেয়াদ লিখে মুহতামিম স্বাক্ষর করেন।

  1. আবেদন হাতে পেয়ে অভিভাবকের সাথে সরাসরি কথা বলুন। প্রয়োজনে এলাকার কারও কাছ থেকে অবস্থা জেনে নিন।
  2. মাদ্রাসার সামর্থ্য দেখে সিদ্ধান্ত নিন: পূর্ণ, অর্ধেক বা নির্দিষ্ট অংকের ছাড়।
  3. মেয়াদ লিখুন, সাধারণত এক শিক্ষাবর্ষ।
  4. সিদ্ধান্ত মওকুফ রেজিস্টারে তুলুন এবং হিসাব বিভাগকে জানান।
  5. অভিভাবককে সিদ্ধান্ত জানান, কিন্তু অন্য ছাত্র বা অভিভাবকের সামনে নয়।
  6. বছর শেষে মোট মওকুফের পরিমাণ কমিটিকে জানান।

মওকুফ রেজিস্টারে কী কী থাকে?

  • ক্রমিক নম্বর
  • ছাত্র/ছাত্রীর নাম, জামাত ও রোল
  • মওকুফের ধরন: পূর্ণ, অর্ধেক বা নির্দিষ্ট টাকা
  • মাসিক ছাড়ের পরিমাণ
  • মেয়াদ: কোন মাস থেকে কোন মাস পর্যন্ত
  • অনুমোদনকারীর স্বাক্ষর
কোন ছাত্র বিনা বেতনে পড়ছে তা অন্য ছাত্রদের জানানো ঠিক নয়। রেজিস্টারটি অফিসে গোপন রাখুন এবং রসিদ বা নোটিশে এমন কিছু লিখবেন না যাতে ছাত্রটি লজ্জা পায়।

মওকুফ দিলে বকেয়ার হিসাব কীভাবে ঠিক রাখবেন?

মওকুফের সিদ্ধান্ত কাগজে থাকে, কিন্তু বেতনের খাতায় তা না তুললে ঐ ছাত্রের নামে প্রতি মাসে বকেয়া জমতে থাকে এবং বকেয়ার মোট অংক ভুল দেখায়। ছবক সফটওয়্যারে ছাত্রের জন্য আগে থেকে ছাড় ঠিক করে রাখা যায় এবং বেতন আদায়ের সময়ও ছাড় দেওয়া যায়। ছাড় বাদ দিয়ে মোট বাকি কত তা আলাদা করে দেখায়, তাই বকেয়ার তালিকায় কেবল আসল পাওনাই আসে। হত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের আলাদা তালিকা রাখারও ব্যবস্থা আছে। বেতন ও ফির কাঠামো কীভাবে ঠিক করবেন তা বেতন ও ফি কাঠামোর গাইড লেখায় আছে, আর আদায়ের বিস্তারিত বেতন ও চাঁদা আদায় পাতায়।

ছাড়, বকেয়া ও আদায়ের পরিষ্কার হিসাব রাখতে চান?

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ছাত্রভিত্তিক ছাড়, বেতন আদায়, বকেয়ার তালিকা ও রসিদ একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

বেতন মওকুফের আবেদন কে করবেন?
অভিভাবক। ছাত্র বড় হলে সে নিজে লিখতে পারে, তবে অভিভাবকের স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর থাকা দরকার, কারণ আর্থিক অবস্থার তথ্য অভিভাবকই দিতে পারেন।
আবেদনে কি আয়ের কথা লিখতে হবে?
লিখলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। পেশা, আনুমানিক মাসিক আয়, পরিবারের সদস্য সংখ্যা ও কতজন পড়ালেখা করছে, এই চারটি তথ্য দিলে মুহতামিম বুঝতে পারেন পূর্ণ না অর্ধেক মওকুফ দরকার।
হাফ ফ্রি আর ফুল ফ্রি বলতে কী বোঝায়?
হাফ ফ্রি মানে মাসিক বেতনের অর্ধেক মওকুফ, ফুল ফ্রি মানে পুরো বেতন মওকুফ। অনেক মাদ্রাসা নির্দিষ্ট অংকের ছাড়ও দেয়। আবেদনে কোনটি চাওয়া হচ্ছে তা স্পষ্ট লিখুন।
মওকুফ কত দিনের জন্য দেওয়া উচিত?
সাধারণত এক শিক্ষাবর্ষের জন্য। বছর শেষে আবার আবেদন নিয়ে অবস্থা দেখে নবায়ন করুন। স্থায়ী মওকুফ দিলে পরে পরিবারের অবস্থা ভালো হলেও তা আর বদলানো হয় না।
মওকুফ করা টাকার হিসাব কীভাবে রাখব?
একটি মওকুফ রেজিস্টারে লিখে রাখুন কাকে, কত টাকা, কত মাসের জন্য ছাড় দেওয়া হলো। এতে বছর শেষে বোঝা যায় মাদ্রাসা মোট কত টাকার বেতন ছেড়ে দিয়েছে, যা দাতা ও কমিটিকে জানানো যায়।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

আমাদের আর্টিকেল শেয়ার করুন
Facebook
WhatsApp

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

English: Read about Sabaq madrasa management software in English

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো