ছাড়পত্র, প্রশংসাপত্র ও সনদের জন্য আবেদন পত্র

মাদ্রাসায় ছাড়পত্র, প্রশংসাপত্র বা সনদের জন্য আবেদনে লিখতে হয়: তারিখ, বরাবর (মুহতামিম বা অধ্যক্ষ), বিষয়, নিজের জামাত, রোল ও দাখেলা নম্বর, কোন কাগজটি কেন দরকার, এবং নিচে নাম, অভিভাবকের স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর। নিচে তিন রকম আবেদনের পূর্ণ নমুনা দেওয়া হলো, যা হুবহু কপি করে ব্যবহার করতে পারবেন।

মাদ্রাসায় ছাড়পত্রের জন্য আবেদন পত্রের নমুনা (ফ্রি Word টেমপ্লেট)
ফ্রি ডাউনলোড (রেজিস্ট্রেশন লাগে না): মাদ্রাসার আবেদন পত্রের Word টেমপ্লেট (.docx)। তিনটি পাতা: ছাড়পত্রের জন্য আবেদন, প্রশংসাপত্র বা চারিত্রিক সনদপত্রের জন্য আবেদন, এবং সনদপত্র বা নম্বরপত্র উত্তোলনের আবেদন। প্রতিটির নিচে অফিসের জন্য বকেয়া মিলানোর ঘর আছে। টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন

আবেদন পত্রে কী কী থাকে?

অংশ কী লিখবেন
তারিখ যেদিন আবেদন জমা দিচ্ছেন
বরাবর মুহতামিম / অধ্যক্ষ, মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা
বিষয় কোন কাগজের জন্য আবেদন, এক লাইনে
সম্বোধন জনাব,
নিজের পরিচয় জামাত বা শ্রেণি, রোল নম্বর, দাখেলা নম্বর
কারণ কাগজটি কেন দরকার বা কেন মাদ্রাসা ছাড়ছেন
অনুরোধ অতএব দিয়ে শুরু করে বিনীত অনুরোধ
আবেদনকারী নাম, জামাত, রোল, অভিভাবকের নাম ও স্বাক্ষর, মোবাইল

নমুনা ১: ছাড়পত্রের জন্য আবেদন

বিষয়: ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য আবেদন।

বরাবর, মুহতামিম / অধ্যক্ষ, [মাদ্রাসার নাম], [ঠিকানা]

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার মাদ্রাসার …….. জামাত/শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র/ছাত্রী। আমার রোল নং …….. এবং দাখেলা নং ……..। …….. কারণে আমার পক্ষে এই মাদ্রাসায় পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আমি …….. তে ভর্তি হতে চাই। সেখানে ভর্তির জন্য এই মাদ্রাসার ছাড়পত্র প্রয়োজন। আমার কাছে মাদ্রাসার কোনো বকেয়া বা লাইব্রেরির কিতাব পাওনা নেই।

অতএব, আমাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাধিত করতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি।

বিনীত নিবেদক, নাম: …….. জামাত/শ্রেণি: …….. রোল নং: …….. অভিভাবকের নাম ও স্বাক্ষর: …….. মোবাইল: ……..

মাদ্রাসা এই আবেদন পেয়ে যে কাগজটি দেয় তার নমুনা মাদ্রাসার ছাড়পত্র পাতায় আছে।

নমুনা ২: প্রশংসাপত্রের জন্য আবেদন

বিষয়: প্রশংসাপত্র / চারিত্রিক সনদপত্র পাওয়ার জন্য আবেদন।

জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার মাদ্রাসার …….. জামাত/শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রী ছিলাম/আছি। আমার রোল নং …….. এবং দাখেলা নং ……..। আমি …….. শিক্ষাবর্ষের …….. পরীক্ষায় অংশ নিয়ে …….. বিভাগ/গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছি।

…….. কাজে আমার একটি প্রশংসাপত্র / চারিত্রিক সনদপত্র প্রয়োজন।

অতএব, আমাকে একটি প্রশংসাপত্র / চারিত্রিক সনদপত্র দিয়ে বাধিত করতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি।

মাদ্রাসার পক্ষ থেকে দেওয়া সনদের নমুনা চারিত্রিক সনদপত্র ও প্রত্যয়ন পত্র পাতায় দেখুন।

নমুনা ৩: সনদপত্র ও নম্বরপত্রের জন্য আবেদন

বিষয়: সনদপত্র / নম্বরপত্র উত্তোলনের জন্য আবেদন।

জনাব, বিনীত নিবেদন এই যে, আমি আপনার মাদ্রাসা থেকে …….. শিক্ষাবর্ষে …….. জামাত/শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। আমার পরীক্ষার রোল নং …….. এবং দাখেলা নং ……..।

…….. কাজে আমার মূল সনদপত্র / নম্বরপত্র প্রয়োজন। (হারিয়ে যাওয়ার কারণে দ্বিতীয় কপি চাইলে তা উল্লেখ করুন।)

অতএব, আমাকে সনদপত্র / নম্বরপত্র দিয়ে বাধিত করতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি। প্রয়োজনীয় ফি দিতে আমি প্রস্তুত আছি।

আবেদন লেখার সময় যা খেয়াল রাখবেন

  • দাখেলা নম্বর অবশ্যই লিখুন। এটি দিয়েই অফিস আপনার রেকর্ড খুঁজে পায়।
  • নামের বানান জন্ম নিবন্ধনের মতো লিখুন, কারণ সনদে সেই বানানই যাবে।
  • কারণ সংক্ষেপে ও সত্য লিখুন।
  • আবেদনের আগে বকেয়া বেতন ও লাইব্রেরির কিতাব মিটিয়ে নিন, নইলে কাগজ পেতে দেরি হবে।
  • পরিষ্কার হাতে বা টাইপ করে লিখুন এবং কাটাকাটি করবেন না।
  • এক কপি নিজের কাছে রাখুন অথবা জমা দেওয়ার আগে ছবি তুলে রাখুন।

অফিস এই আবেদন নিয়ে কী করবে?

  1. আবেদনে লেখা দাখেলা নম্বর দিয়ে ভর্তি রেজিস্টার থেকে তথ্য মিলিয়ে নিন।
  2. হিসাব বিভাগ থেকে বকেয়া এবং লাইব্রেরি থেকে কিতাবের হিসাব দেখে আবেদনের নিচের ঘরে টিক দিন।
  3. সনদ বা ছাড়পত্র তৈরি করে রেজিস্টারে ক্রমিক নম্বর বসান।
  4. মুহতামিমের স্বাক্ষর ও সীল নিন।
  5. কাগজ হাতে দেওয়ার সময় গ্রহণকারীর স্বাক্ষর রাখুন।
  6. আবেদনটি ছাত্রের ফাইলে বা আলাদা আবেদন ফাইলে রেখে দিন।
অফিসে ফাঁকা আবেদন ফরম ছাপিয়ে রাখলে অভিভাবকের সময় বাঁচে। অনেকে আবেদন লিখতে জানেন না, তাদের হাতে এই টেমপ্লেটের একটি প্রিন্ট দিয়ে দিলে কেবল ফাঁকা জায়গা পূরণ করলেই হয়।

সফটওয়্যার থাকলে এই কাজগুলো কত সহজ হয়?

আবেদন পাওয়ার পর সবচেয়ে বেশি সময় যায় তথ্য খুঁজতে: ছাত্র কবে ভর্তি হয়েছিল, কত বকেয়া, কোন পরীক্ষায় কত নম্বর। ছবক সফটওয়্যারে ছাত্রের নাম বা নম্বর দিয়ে খুঁজলে ভর্তির তথ্য, বেতনের হিসাব ও পরীক্ষার ফলাফল একসাথে পাওয়া যায়। সেখান থেকেই ছাড়পত্র তৈরি ও প্রিন্ট করা যায়, ফি নিলে রশিদ নম্বর ও তহবিল বেছে আদায় তোলা যায়। সনদ ও চারিত্রিক প্রত্যয়ন পত্রও প্রিভিউ দেখে প্রিন্ট করা যায়। ফলে আবেদনকারীকে কয়েক দিন ঘুরতে হয় না। পরীক্ষা ও সনদের বিস্তারিত পরীক্ষা ও রেজাল্ট পাতায় আছে।

ছাড়পত্র ও সনদ ছাত্রের তথ্যসহ সরাসরি প্রিন্ট করতে চান?

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ভর্তি, বেতন, ফলাফল, ছাড়পত্র ও সনদ একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

ছাড়পত্রের আবেদন কে করবেন, ছাত্র না অভিভাবক?
আবেদনটি ছাত্রের নামে লেখা হয়, তবে নিচে অভিভাবকের স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর থাকতে হবে। ছোট ছাত্রের ক্ষেত্রে অভিভাবক নিজে এসে আবেদন জমা দেওয়া ও ছাড়পত্র গ্রহণ করা নিরাপদ।
আবেদনে কারণ কী লিখব?
সত্য কারণটি সংক্ষেপে লিখুন: পরিবার অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে, বাড়ির কাছের মাদ্রাসায় ভর্তি হবে, অথবা এই মাদ্রাসায় পরের জামাত নেই। মাদ্রাসা বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আবেদনে লিখবেন না।
প্রশংসাপত্র আর চারিত্রিক সনদপত্র কি একই?
প্রায় একই কাজে লাগে। প্রশংসাপত্রে ফলাফল ও আচরণ দুটোর কথাই থাকে এবং সাধারণত পরীক্ষা পাসের পর দেওয়া হয়। চারিত্রিক সনদপত্রে কেবল স্বভাব চরিত্রের সাক্ষ্য থাকে। যে প্রতিষ্ঠানে জমা দেবেন তারা কোনটি চেয়েছে তা জেনে নিন।
আবেদনের কত দিন পর কাগজ পাওয়া যায়?
মাদ্রাসাভেদে আলাদা। বকেয়া ও লাইব্রেরির হিসাব মেলাতে এবং স্বাক্ষর নিতে সাধারণত এক থেকে তিন দিন লাগে। তাই ভর্তির শেষ তারিখের কয়েক দিন আগেই আবেদন করুন।
সনদ হারিয়ে গেলে দ্বিতীয় কপি কীভাবে পাব?
আবেদনে উল্লেখ করুন যে মূল সনদ হারিয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় কপি চান। পরীক্ষার সাল, রোল ও দাখেলা নম্বর দিন, যাতে অফিস রেজিস্টার থেকে খুঁজে পায়। মাদ্রাসা সাধারণত নতুন কপির উপরে “দ্বিতীয় কপি” লিখে দেয়।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

আমাদের আর্টিকেল শেয়ার করুন
Facebook
WhatsApp

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

English: Read about Sabaq madrasa management software in English

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো