মাদ্রাসার প্রশ্নপত্র ফরমেট ও পরীক্ষার খাতার কভার পেজ
মাদ্রাসার প্রশ্নপত্রের উপরে ছয়টি তথ্য থাকে: মাদ্রাসার নাম, পরীক্ষার নাম ও সাল, জামাত বা শ্রেণি, বিষয় বা কিতাব, সময় এবং পূর্ণমান। তার নিচে এক লাইনের নির্দেশনা, তারপর নম্বর দেওয়া প্রশ্ন, প্রতিটির ডান পাশে মান। নিচে বড়দের ও ছোটদের দুই রকম প্রশ্নপত্রের ফরমেট এবং পরীক্ষার খাতার কভার পেজের নমুনা দেওয়া হলো।

প্রশ্নপত্রের ফরমেটে কী কী থাকে?
| অংশ | কী লিখবেন | সাধারণ ভুল |
|---|---|---|
| মাদ্রাসার নাম | উপরে মাঝখানে, বড় অক্ষরে | |
| পরীক্ষার নাম ও সাল | প্রথম সাময়িক, অর্ধ বার্ষিক, বার্ষিক | সাল না লেখা, ফলে পুরনো প্রশ্ন চেনা যায় না |
| জামাত ও বিষয় | বাঁ পাশে | কিতাবের নাম অস্পষ্ট |
| সময় ও পূর্ণমান | ডান পাশে | পূর্ণমান প্রশ্নের মানের যোগফলের সাথে না মেলা |
| নির্দেশনা | কয়টি উত্তর দিতে হবে, বিশেষ নিয়ম | নির্দেশনা না দেওয়া |
| প্রশ্ন | ক্রমিক নম্বর, প্রশ্ন, অংশ (ক, খ) | একই প্রশ্নে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করা |
| মান | প্রতিটি প্রশ্নের ডান পাশে | মান না লেখা |
| সমাপ্তি | শেষে “সমাপ্ত” লেখা | ছাত্র বোঝে না প্রশ্ন শেষ না পেছনে আরও আছে |
নমুনা ১: রচনামূলক প্রশ্নপত্রের ফরমেট
প্রশ্নপত্রের কাঠামো
[মাদ্রাসার নাম]
…….. পরীক্ষা, …….. সাল / শিক্ষাবর্ষ
জামাত/শ্রেণি: …….. | সময়: …….. ঘণ্টা
বিষয়/কিতাব: …….. | পূর্ণমান: ……..
নির্দেশনা: যেকোনো …….. টি প্রশ্নের উত্তর দাও। সব প্রশ্নের মান সমান। পরিষ্কার হাতের লেখার জন্য …….. নম্বর।
১। …….. (মান: ……..)
(ক) ……..
(খ) ……..
২। …….. (মান: ……..)
(ক) ……..
(খ) ……..
সমাপ্ত
নমুনা ২: ছোটদের প্রশ্নপত্র
নূরানী ও নিচের শ্রেণির জন্য লম্বা উত্তরের প্রশ্ন মানানসই নয়। তাদের জন্য ছোট ছোট নানা ধরনের প্রশ্ন দিন। টেমপ্লেটের দ্বিতীয় পাতায় এই পাঁচ রকম প্রশ্নের ছক আছে:
| প্রশ্নের ধরন | কী যাচাই হয় | মান (উদাহরণ) |
|---|---|---|
| শূন্যস্থান পূরণ | মুখস্থ ও শব্দ জানা | ২ × ৫ = ১০ |
| সঠিক উত্তরে টিক চিহ্ন | চেনা ও বোঝা | ২ × ৫ = ১০ |
| বাম পাশের সাথে ডান পাশ মিলাও | সম্পর্ক বোঝা, যেমন শব্দ ও অর্থ | ২ × ৫ = ১০ |
| এক কথায় উত্তর | মূল তথ্য জানা | ২ × ৫ = ১০ |
| মুখস্থ লিখ বা হাতের লেখা | মুখস্থ ও লেখার দক্ষতা | ১০ |
নমুনা ৩: পরীক্ষার খাতার কভার পেজ
উত্তরপত্রের প্রথম পাতা। উপরের অংশ পরীক্ষার্থী পূরণ করে, নিচের অংশ পরীক্ষক।
উত্তরপত্র
পরীক্ষার নাম: …….. সাল / শিক্ষাবর্ষ: ……..
পরীক্ষার্থীর নাম: ……..
জামাত/শ্রেণি: …….. শাখা: …….. রোল নং: …….. সিট নং: ……..
বিষয়/কিতাব: …….. তারিখ: …….. বার: ……..
অতিরিক্ত পাতার সংখ্যা: …….. কক্ষ পরিদর্শকের স্বাক্ষর: ……..
পরীক্ষকের জন্য: প্রশ্ন নং ১ থেকে ১২ এর প্রাপ্ত নম্বরের ছক, মোট প্রাপ্ত নম্বর অংকে ও কথায়, পূর্ণমান, পরীক্ষক ও নিরীক্ষকের স্বাক্ষর।
প্রশ্নপত্র তৈরি করার নিয়ম
- পরীক্ষার সিলেবাস দেখে নিন: কোন পৃষ্ঠা থেকে কোন পৃষ্ঠা পর্যন্ত আসবে।
- সিলেবাসের সব অংশ থেকে প্রশ্ন নিন, কেবল শেষের অংশ থেকে নয়।
- সহজ, মাঝারি ও কঠিন তিন ধরনের প্রশ্ন মিশিয়ে দিন, যাতে দুর্বল ছাত্রও কিছু লিখতে পারে।
- প্রতিটি প্রশ্নের মান বসিয়ে যোগ করে পূর্ণমানের সাথে মিলিয়ে নিন।
- নিজে একবার উত্তর লিখে দেখুন নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব কি না।
- বানান ও নম্বর আরেকজন শিক্ষককে দিয়ে দেখিয়ে নিন।
- ছাত্র সংখ্যার চেয়ে কয়েকটি বেশি কপি ছাপিয়ে খামে সীল করে রাখুন।
প্রশ্নপত্র তৈরির সময় যা খেয়াল রাখবেন
- প্রশ্নের ভাষা সহজ ও স্পষ্ট রাখুন, যাতে দুই রকম অর্থ না হয়।
- যা পড়ানো হয়নি তা থেকে প্রশ্ন করবেন না।
- কেবল মুখস্থ নয়, বোঝার প্রশ্নও রাখুন।
- অক্ষর এমন বড় রাখুন যাতে ছোট ছাত্রও পড়তে পারে।
- আরবি ইবারত থাকলে হরকত ও বানান বিশেষভাবে মিলিয়ে নিন।
- প্রশ্নপত্র এক পাতার দুই পিঠে হলে নিচে “অপর পৃষ্ঠায় দেখ” লিখে দিন।
পরীক্ষার পরের কাজ সফটওয়্যারে কীভাবে হয়?
প্রশ্নপত্র শিক্ষককেই তৈরি করতে হয়, তবে পরীক্ষার বাকি কাজগুলো সফটওয়্যারে অনেক সহজ। ছবক সফটওয়্যারে পরীক্ষা তৈরি করে প্রতিটি বিষয়ের তারিখ ও শুরু শেষের সময় দিয়ে রুটিন বানানো যায়, সিট নম্বর এক চাপে বসানো যায় এবং এডমিট কার্ড প্রিন্ট করা যায়। খাতা দেখার পর কভার পেজের মোট নম্বর তোলা যায় দুইভাবে: একজন ছাত্রের সব বিষয় একসাথে, অথবা একটি বিষয়ের নম্বর পুরো শ্রেণির জন্য একসাথে। এরপর মার্কশিট, মেধাস্থান ও শ্রেণির সারসংক্ষেপ নিজে থেকে তৈরি হয় এবং অভিভাবকদের ফলাফলের এসএমএস পাঠানো যায়। বিস্তারিত পরীক্ষা ও রেজাল্ট পাতায় আছে।
নম্বর তোলার পর মার্কশিট ও মেধা তালিকা নিজে থেকে পেতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে পরীক্ষার রুটিন, সিট নম্বর, এডমিট কার্ড, নম্বর ও মার্কশিট একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।