মাদ্রাসার প্রত্যয়ন পত্র: নমুনা ও লেখার নিয়ম

মাদ্রাসার প্রত্যয়ন পত্রে পাঁচটি জিনিস থাকতে হয়: মাদ্রাসার প্যাড বা লেটারহেড, স্মারক নম্বর ও তারিখ, যার নামে দেওয়া হচ্ছে তার পূর্ণ পরিচয় (নাম, পিতা, মাতা, ঠিকানা), কোন বিষয়ে প্রত্যয়ন করা হচ্ছে তার স্পষ্ট বক্তব্য, এবং মুহতামিম বা অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ও সীল। নিচে ছাত্র, উত্তীর্ণ ছাত্র ও শিক্ষকের জন্য তিনটি নমুনা দেওয়া হলো, যা হুবহু কপি করে নিজের মাদ্রাসার নাম বসিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।

মাদ্রাসার প্রত্যয়ন পত্রের নমুনা (ফ্রি Word টেমপ্লেট)
ফ্রি ডাউনলোড (রেজিস্ট্রেশন লাগে না): মাদ্রাসার প্রত্যয়ন পত্রের Word টেমপ্লেট (.docx)। এক ফাইলে তিনটি নমুনা আছে: অধ্যয়নরত ছাত্র, উত্তীর্ণ ছাত্র এবং শিক্ষক বা কর্মচারী। A4 কাগজে সাজানো, মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা বদলে সরাসরি প্রিন্ট করা যায়। টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন

প্রত্যয়ন পত্র কী এবং কখন লাগে?

প্রত্যয়ন পত্র হলো মাদ্রাসার পক্ষ থেকে দেওয়া একটি লিখিত সাক্ষ্য। এতে মাদ্রাসা জানায় যে নির্দিষ্ট একজন ছাত্র, ছাত্রী বা শিক্ষক এই প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত এবং তার সম্পর্কে লেখা তথ্যগুলো সঠিক। অনেকে একে প্রত্যায়ন পত্র বা প্রত্যয়নপত্রও লেখেন, জিনিস একই। সাধারণত এই কাজগুলোতে প্রত্যয়ন পত্র চাওয়া হয়:

  • অন্য মাদ্রাসা বা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আবেদনের সাথে
  • বৃত্তি, উপবৃত্তি বা আর্থিক সহায়তার আবেদনে
  • পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন বা অন্যান্য সরকারি কাগজের সহায়ক প্রমাণ হিসেবে
  • ছাত্রের নামে ব্যাংক হিসাব খোলার সময়
  • শিক্ষকের নতুন চাকরির আবেদনে অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে

কোন কাজে প্রত্যয়ন লাগবে তা আগে জেনে নিন। কাজ অনুযায়ী বক্তব্য একটু বদলাতে হয়। যেমন বৃত্তির আবেদনে উপস্থিতি ও ফলাফলের কথা যোগ করা যায়, আর চারিত্রিক প্রত্যয়নে আচার আচরণের কথাই মূল।

প্রত্যয়ন পত্রে কী কী তথ্য থাকতে হবে?

অংশ কী লিখবেন কেন দরকার
লেটারহেড মাদ্রাসার নাম, পূর্ণ ঠিকানা, মোবাইল, স্থাপিত সাল কাগজটি কোন প্রতিষ্ঠানের তা বোঝা যায়
স্মারক নং ও তারিখ রেজিস্টারের ক্রমিক এবং প্রদানের তারিখ পরে যাচাই করতে চাইলে খুঁজে পাওয়া যায়
শিরোনাম প্রত্যয়ন পত্র কাগজের ধরন এক নজরে বোঝা যায়
পরিচয় নাম, পিতা, মাতা, গ্রাম, ডাকঘর, উপজেলা, জেলা একই নামের অন্য কারও সাথে মিশে যায় না
মাদ্রাসার তথ্য জামাত বা শ্রেণি, রোল, দাখেলা নম্বর, শিক্ষাবর্ষ ভর্তি রেজিস্টারের সাথে মিলিয়ে দেখা যায়
মূল বক্তব্য কী বিষয়ে প্রত্যয়ন করা হচ্ছে এটিই কাগজের আসল উদ্দেশ্য
স্বাক্ষর ও সীল মুহতামিম বা অধ্যক্ষ, সাথে প্রস্তুতকারী স্বাক্ষর ও সীল ছাড়া কাগজ গ্রহণযোগ্য হয় না

নমুনা ১: অধ্যয়নরত ছাত্রের প্রত্যয়ন পত্র

যে ছাত্র বা ছাত্রী এখন মাদ্রাসায় পড়ছে, তার জন্য এই নমুনা। ফাঁকা জায়গাগুলোতে তথ্য বসিয়ে নিন।

প্রত্যয়ন পত্র

স্মারক নং: …….. তারিখ: ……..

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, …….., পিতা: …….., মাতা: …….., গ্রাম: …….., ডাকঘর: …….., উপজেলা: …….., জেলা: ……..। সে এই মাদ্রাসার …….. জামাত/শ্রেণির একজন নিয়মিত ছাত্র/ছাত্রী। তার রোল নং …….. এবং দাখেলা নং ……..। শিক্ষাবর্ষ: ……..।

আমার জানামতে সে মাদ্রাসার নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলে এবং রাষ্ট্র বা সমাজ বিরোধী কোনো কাজের সাথে জড়িত নয়। তার স্বভাব চরিত্র ভালো।

আমি তার সার্বিক উন্নতি ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

প্রস্তুতকারী | মুহতামিম / অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ও সীল

নমুনা ২: উত্তীর্ণ ছাত্রের প্রত্যয়ন পত্র

কোনো জামাত শেষ করে বা পরীক্ষায় পাস করে যে ছাত্র চলে যাচ্ছে, তাকে মূল সনদ দেওয়ার আগে এই প্রত্যয়ন দেওয়া হয়।

প্রত্যয়ন পত্র (উত্তীর্ণ)

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, …….., পিতা: …….., মাতা: …….., ঠিকানা: ……..। সে এই মাদ্রাসা থেকে …….. শিক্ষাবর্ষে …….. জামাত/শ্রেণির বার্ষিক/কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় অংশ নিয়ে …….. বিভাগ/গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার রোল নং …….. এবং প্রাপ্ত মোট নম্বর ……..।

এই মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে তার আচার আচরণ সন্তোষজনক ছিল। তার কাছে মাদ্রাসার কোনো পাওনা নেই।

আমি তার সার্বিক সফলতা কামনা করি।

নমুনা ৩: শিক্ষক বা কর্মচারীর প্রত্যয়ন পত্র

শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলে অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে এই প্রত্যয়ন লাগে। এখানে মুহতামিমের সাথে সভাপতি বা সেক্রেটারির স্বাক্ষর থাকলে কাগজটি আরও গ্রহণযোগ্য হয়।

প্রত্যয়ন পত্র (শিক্ষক / কর্মচারী)

এই মর্মে প্রত্যয়ন করা যাচ্ছে যে, জনাব …….., পিতা: …….., ঠিকানা: ……..। তিনি …….. তারিখ থেকে …….. তারিখ পর্যন্ত (অথবা: অদ্যাবধি) এই মাদ্রাসায় …….. পদে কর্মরত ছিলেন/আছেন।

কর্মকালে তিনি নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সাথে পাঠদান ও অর্পিত কাজ সম্পন্ন করেছেন। তার আচার আচরণ সন্তোষজনক এবং তার কাছে মাদ্রাসার কোনো পাওনা নেই।

আমি তার সার্বিক কল্যাণ কামনা করি।

প্রত্যয়ন পত্র লেখার ধাপ

  1. ভর্তি রেজিস্টার খুলে ছাত্রের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা ও দাখেলা নম্বর মিলিয়ে নিন। মুখের কথায় লিখবেন না।
  2. কোন কাজে লাগবে জেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী নমুনা বেছে নিন।
  3. প্রত্যয়ন রেজিস্টারে নতুন ক্রমিক বসিয়ে স্মারক নম্বর ও তারিখ লিখুন।
  4. নামের বানান জন্ম নিবন্ধন বা আগের সনদের সাথে মিলিয়ে নিন। একটি অক্ষরের ভুলেও পরে কাগজ বাতিল হতে পারে।
  5. প্রিন্ট করে মুহতামিম বা অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ও সীল নিন।
  6. একটি কপি বা ছবি অফিস নথিতে রেখে দিন।
যে তথ্য আপনি নিজে জানেন না বা রেজিস্টারে নেই, তা প্রত্যয়ন পত্রে লিখবেন না। প্রত্যয়ন মানে মাদ্রাসা দায়িত্ব নিয়ে কথাটি বলছে, তাই কেবল যাচাই করা তথ্যই লিখুন।

সফটওয়্যার থেকে প্রত্যয়ন পত্র প্রিন্ট করলে কী সুবিধা?

ছবক সফটওয়্যারে “সনদ ও প্রত্যায়ন পত্র” নামে একটি অংশ আছে। সেখান থেকে শিক্ষার্থীর সনদ ও চারিত্রিক প্রত্যয়ন পত্র প্রিভিউ দেখে সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করা যায়। শিক্ষার্থীর নাম, পিতার নাম, শ্রেণি ও রোল ভর্তির সময়েই সফটওয়্যারে তোলা থাকে, তাই প্রতিবার রেজিস্টার ঘেঁটে হাতে লিখতে হয় না। প্রত্যয়নের জন্য ফি নিলে সেই আদায়ের হিসাবও সাথে থেকে যায়। পরীক্ষার ফলাফল ও মার্কশিটের কাজ কীভাবে হয় তা পরীক্ষা ও রেজাল্ট পাতায় দেখতে পারেন।

প্রত্যয়ন পত্র, সনদ ও ছাড়পত্র এক জায়গা থেকে প্রিন্ট করতে চান?

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ভর্তির তথ্য একবার তুললে সনদ, প্রত্যয়ন পত্র, ছাড়পত্র ও প্রবেশপত্র সেখান থেকেই তৈরি হয়। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

প্রত্যয়ন পত্র আর সনদপত্রের পার্থক্য কী?
প্রত্যয়ন পত্র বর্তমান অবস্থার সাক্ষ্য দেয়, যেমন ছাত্রটি এখন এই মাদ্রাসায় পড়ছে বা তার চরিত্র ভালো। সনদপত্র দেওয়া হয় কোনো জামাত বা পরীক্ষা শেষ করার পর, ফলাফলসহ। তাই ভর্তি বা বৃত্তির কাজে সাধারণত প্রত্যয়ন পত্র আর শিক্ষা সমাপ্তির প্রমাণ হিসেবে সনদপত্র চাওয়া হয়।
প্রত্যয়ন পত্রে কার স্বাক্ষর থাকতে হয়?
মুহতামিম বা অধ্যক্ষের স্বাক্ষর ও সীল থাকতে হয়। যিনি কাগজটি তৈরি করেছেন, যেমন নাজেমে তালিমাত বা অফিস সহকারী, তিনিও প্রস্তুতকারী হিসেবে স্বাক্ষর করলে পরে যাচাই করা সহজ হয়।
প্রত্যয়ন পত্র কি হাতে লিখে দেওয়া যাবে?
যাবে, তবে মাদ্রাসার প্যাডে লিখতে হবে এবং স্মারক নম্বর, তারিখ, স্বাক্ষর ও সীল থাকতে হবে। ছাপানো কপি পড়তে সুবিধা হয় এবং কাটাকাটির সুযোগ কম থাকে, তাই টেমপ্লেটে তথ্য বসিয়ে প্রিন্ট করাই ভালো।
স্মারক নম্বর কীভাবে দেব?
একটি রেজিস্টার খাতায় ক্রমিক নম্বর, তারিখ, কার নামে ও কী কাজে প্রত্যয়ন দেওয়া হলো তা লিখে রাখুন। সেই ক্রমিকই স্মারক নম্বর। অনেক মাদ্রাসা সাল যোগ করে লেখে, যেমন প্রত্যয়ন/২০২৬/১৫।
ছবক সফটওয়্যারে প্রত্যয়ন পত্র বানাতে কত খরচ?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের দাম মাসিক ৫০০ টাকা, বাৎসরিক ৫,০০০ টাকা অথবা এককালীন ২০,০০০ টাকা। এর সাথে একবারের ইনস্টলেশন চার্জ ২,০০০ টাকা (২০০ জনের কম শিক্ষার্থী) বা ৫,০০০ টাকা (২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী)। সনদ ও প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আলাদা কোনো খরচ নেই। বিস্তারিত মূল্য তালিকা পাতায় আছে।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

English: Read about Sabaq madrasa management software in English

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো