মাদ্রাসার ছাড়পত্র: নমুনা ফরম ও লেখার নিয়ম

মাদ্রাসার ছাড়পত্রে (টিসি) ছাত্রের পরিচয়, দাখেলা নম্বর, ভর্তির তারিখ ও জামাত, সর্বশেষ জামাত ও রোল, সর্বশেষ পরীক্ষার ফলাফল, মাদ্রাসা ত্যাগের তারিখ ও কারণ এবং বকেয়ার অবস্থা লিখতে হয়। নিচে শ্রেণি শিক্ষক, হিসাব বিভাগ ও মুহতামিমের স্বাক্ষর ও সীল থাকে। এই পাতায় পূর্ণ নমুনা, দেওয়ার আগের চেকলিস্ট এবং অফিস কপিসহ ফ্রি Word ফরম পাবেন।

মাদ্রাসার ছাড়পত্রের নমুনা ফরম (ফ্রি Word টেমপ্লেট)
ফ্রি ডাউনলোড (রেজিস্ট্রেশন লাগে না): মাদ্রাসার ছাড়পত্রের Word ফরম (.docx)। প্রথম পাতায় ছাত্রকে দেওয়ার ছাড়পত্র, দ্বিতীয় পাতায় অফিসে রাখার কপি (মুড়ি)। A4 কাগজে সাজানো, মাদ্রাসার নাম বসিয়ে সরাসরি প্রিন্ট করা যায়। টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন

ছাড়পত্র কী এবং কখন দিতে হয়?

ছাড়পত্র হলো সেই কাগজ, যা দিয়ে মাদ্রাসা জানায় যে ছাত্রটি এখানে পড়ত, এখন চলে যাচ্ছে এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে তার কোনো বাধা নেই। ইংরেজিতে একে Transfer Certificate বা সংক্ষেপে টিসি বলা হয়। পরিবার অন্য এলাকায় চলে গেলে, ছাত্র অন্য মাদ্রাসায় ভর্তি হতে চাইলে, অথবা এই মাদ্রাসায় পরের জামাত না থাকলে ছাড়পত্র লাগে। নতুন প্রতিষ্ঠান ভর্তির সময় এই কাগজ দেখে বুঝে নেয় ছাত্র আগে কোন জামাত পর্যন্ত পড়েছে।

আলিয়া মাদ্রাসায় বোর্ডের নির্ধারিত কোনো ছক থাকলে সেটিই ব্যবহার করুন। নিজস্ব ছক দরকার হলে নিচের নমুনা কাজে লাগবে।

ছাড়পত্রে কোন কোন তথ্য থাকে?

ক্রমিক ঘরের নাম কোথা থেকে নেবেন
১ ছাত্র/ছাত্রীর নাম ভর্তি রেজিস্টার, জন্ম নিবন্ধনের সাথে মিলিয়ে
২ পিতার নাম ভর্তি রেজিস্টার
৩ মাতার নাম ভর্তি রেজিস্টার
৪ জন্ম তারিখ জন্ম নিবন্ধন
৫ স্থায়ী ঠিকানা ভর্তি ফরম
৬ দাখেলা (ভর্তি রেজিস্টার) নং ভর্তি রেজিস্টার
৭ ভর্তির তারিখ ও জামাত/শ্রেণি ভর্তি রেজিস্টার
৮ সর্বশেষ অধ্যয়নরত জামাত/শ্রেণি চলতি বছরের হাজিরা খাতা
৯ রোল নং হাজিরা খাতা
১০ সর্বশেষ পরীক্ষা ও ফলাফল রেজাল্ট শিট
১১ মাদ্রাসা ত্যাগের তারিখ অভিভাবকের আবেদন
১২ মাদ্রাসা ত্যাগের কারণ অভিভাবকের আবেদন
১৩ বকেয়া পাওনা (বেতন/বই/অন্যান্য) হিসাব বিভাগ ও লাইব্রেরি

ছাড়পত্রের নমুনা বক্তব্য

উপরের ছকের নিচে এই বক্তব্য লেখা হয়। এরপর তিনজনের স্বাক্ষর: শ্রেণি শিক্ষক, হিসাব বিভাগ এবং মুহতামিম বা অধ্যক্ষ (সীলসহ)।

ছাড়পত্র (Transfer Certificate)

স্মারক নং: …….. তারিখ: ……..

উপরে বর্ণিত ছাত্র/ছাত্রী এই মাদ্রাসায় অধ্যয়নকালে নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলেছে এবং তার আচার আচরণ সন্তোষজনক ছিল। অভিভাবকের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে এই মাদ্রাসা থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলো। অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে তার কোনো বাধা নেই।

শ্রেণি শিক্ষক | হিসাব বিভাগ | মুহতামিম / অধ্যক্ষ (সীল)

ছাড়পত্র দেওয়ার আগে কী কী মিলিয়ে নেবেন?

  1. অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত আবেদন নিন। মুখের কথায় ছাড়পত্র দেবেন না।
  2. হিসাব বিভাগ থেকে বকেয়া বেতন, ভর্তি ফি ও অন্যান্য পাওনার হিসাব মিলিয়ে নিন।
  3. লাইব্রেরি থেকে নেওয়া কিতাব ফেরত এসেছে কি না দেখুন।
  4. আবাসিক ছাত্র হলে বোর্ডিংয়ের খোরাকি ও মালামালের হিসাব মিটিয়ে নিন।
  5. ভর্তি রেজিস্টার দেখে ছকের ১৩টি ঘর পূরণ করুন, তারপর তিনজনের স্বাক্ষর নিন।
  6. ভর্তি রেজিস্টারে ছাত্রের নামের পাশে ছাড়পত্র নম্বর ও তারিখ লিখে রাখুন।
  7. অফিস কপিতে গ্রহণকারীর নাম, সম্পর্ক, মোবাইল ও স্বাক্ষর নিয়ে তবেই ছাড়পত্র হাতে দিন।

অফিস কপি বা মুড়ি কেন রাখবেন?

ছাড়পত্র হাতে দিয়ে দেওয়ার পর মাদ্রাসার কাছে কোনো প্রমাণ না থাকলে পরে সমস্যা হয়। ছাত্র কপি হারিয়ে ফেললে নতুন কপি বানানো যায় না, আর কেউ জাল ছাড়পত্র নিয়ে এলে তা ধরার উপায় থাকে না। তাই টেমপ্লেটের দ্বিতীয় পাতায় একটি অফিস কপি রাখা হয়েছে। এতে থাকে:

  • ছাড়পত্র নম্বর ও প্রদানের তারিখ
  • ছাত্রের নাম, পিতার নাম, জামাত, রোল ও দাখেলা নম্বর
  • ত্যাগের কারণ
  • আদায়কৃত ছাড়পত্র ফি (থাকলে)
  • গ্রহণকারীর নাম, সম্পর্ক, মোবাইল ও স্বাক্ষর
  • প্রদানকারীর স্বাক্ষর
ছাড়পত্র দেওয়ার পর হাজিরা খাতা থেকে নাম কেটে দিন এবং মাসিক বেতনের তালিকা থেকেও বাদ দিন। নইলে পরের মাসে তার নামে বকেয়া জমতে থাকবে এবং হিসাবে গরমিল দেখাবে।

সফটওয়্যার থেকে ছাড়পত্র দিলে কী সুবিধা?

ছবক সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে যাওয়া শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র তৈরি ও প্রিন্ট করা যায়। ছাড়পত্রের ফি নিলে একই জায়গা থেকে রসিদ নম্বর ও তহবিল বেছে আদায় তোলা যায়, তাই টাকাটি আলাদা করে হিসাবের খাতায় লিখতে হয় না। যে শিক্ষার্থী আর পড়ছে না তাকে নিষ্ক্রিয় তালিকায় রাখা যায়। এতে তার পুরনো তথ্য মুছে যায় না, আবার চলতি ছাত্রদের তালিকাতেও সে আর আসে না। বেতন ও বকেয়ার হিসাব কীভাবে থাকে তা ফি ও চাঁদা আদায় পাতায় দেখতে পারেন।

ছাড়পত্র, সনদ ও বকেয়ার হিসাব এক জায়গায় রাখতে চান?

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ভর্তি, বেতন আদায়, ফলাফল ও ছাড়পত্র একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

ছাড়পত্র আর প্রত্যয়ন পত্রের পার্থক্য কী?
ছাড়পত্র দেওয়া হয় ছাত্র মাদ্রাসা ছেড়ে যাওয়ার সময়, এতে ভর্তি থেকে ত্যাগ পর্যন্ত পুরো তথ্য থাকে এবং এরপর সে আর এই মাদ্রাসার ছাত্র থাকে না। প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া হয় পড়া চলাকালীন, নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের সাক্ষ্য হিসেবে।
বকেয়া থাকলে কি ছাড়পত্র দেওয়া যাবে?
এটি মাদ্রাসার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বেশিরভাগ মাদ্রাসা বকেয়া বেতন, লাইব্রেরির বই ও বোর্ডিংয়ের হিসাব মিটিয়ে তারপর ছাড়পত্র দেয়। কোনো অভিভাবকের সামর্থ্য না থাকলে মুহতামিম মওকুফ করতে পারেন, তবে সেটি ছাড়পত্রের বকেয়ার ঘরে বা অফিস কপিতে লিখে রাখুন।
ছাড়পত্র হারিয়ে গেলে কী করব?
অফিস কপি বা মুড়ি দেখে একই নম্বরে দ্বিতীয় কপি তৈরি করুন এবং উপরে “দ্বিতীয় কপি” বা “ডুপ্লিকেট” লিখে দিন। এ কারণেই প্রতিটি ছাড়পত্রের অফিস কপি রাখা জরুরি।
ছাড়পত্রের জন্য কি ফি নেওয়া যায়?
অনেক মাদ্রাসা সামান্য ফি নেয়, অনেকে নেয় না। নিলে অবশ্যই রসিদ দিন এবং অফিস কপিতে টাকার অংক লিখে রাখুন, যাতে হিসাবে মিল থাকে।
ছাড়পত্র কে গ্রহণ করবেন?
অভিভাবক নিজে এসে গ্রহণ করাই নিরাপদ। অফিস কপিতে গ্রহণকারীর নাম, সম্পর্ক, মোবাইল নম্বর ও স্বাক্ষর রাখুন। ছোট ছাত্রের হাতে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

আমাদের আর্টিকেল শেয়ার করুন
Facebook
WhatsApp

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

English: Read about Sabaq madrasa management software in English

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো