মাদ্রাসার রশিদ বই ডিজাইন ও নমুনা
মাদ্রাসার রশিদ বইয়ের প্রতিটি পাতায় দুটি অংশ থাকে: বাঁ পাশে মুড়ি (অফিস কপি) আর ডান পাশে মূল রশিদ। রশিদে থাকে মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা, রশিদ নম্বর, তারিখ, কার কাছ থেকে নেওয়া হলো, কী বাবদ, টাকার অংক অংকে ও কথায়, এবং আদায়কারীর স্বাক্ষর। নিচে বেতন রশিদ ও দানের রশিদের দুই রকম নমুনা এবং ফ্রি Word ফাইল দেওয়া হলো।

রশিদে কোন কোন ঘর থাকে?
| ঘর | বেতন রশিদে | দানের রশিদে |
|---|---|---|
| উপরের অংশ | মাদ্রাসার নাম, ঠিকানা, মোবাইল | একই |
| শিরোনাম | বেতন রশিদ | দান ও চাঁদার রশিদ |
| রশিদ নং ও তারিখ | ক্রমিক নম্বর, আদায়ের তারিখ | একই |
| কার কাছ থেকে | ছাত্রের নাম, জামাত, রোল, দাখেলা নম্বর | দাতার নাম, ঠিকানা, মোবাইল |
| বাবদ | মাসিক বেতন (কোন মাস), খোরাকি, ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি, অন্যান্য | সাধারণ দান, যাকাত, সদকা, লিল্লাহ বোর্ডিং, নির্মাণ তহবিল |
| টাকা | অংকে ও কথায় | একই |
| স্বাক্ষর | আদায়কারীর স্বাক্ষর | একই |
| মুড়ি | রশিদ নং, তারিখ, নাম, জামাত, মাস, টাকা | রশিদ নং, তারিখ, দাতা, মোবাইল, খাত, টাকা |
“বাবদ” অংশে টিক দেওয়ার ঘর রাখলে লেখার সময় বাঁচে এবং ভুলও কম হয়। আমাদের নমুনায় প্রতিটি খাতের আগে একটি করে ঘর আছে।
বেতন রশিদের নমুনা
বেতন রশিদ
রশিদ নং: …….. তারিখ: ……..
ছাত্র/ছাত্রীর নাম: ……..
জামাত/শ্রেণি: …….. রোল: …….. দাখেলা নং: ……..
বাবদ: [ ] মাসিক বেতন (…….. মাস) [ ] খোরাকি [ ] ভর্তি ফি [ ] পরীক্ষার ফি [ ] অন্যান্য: ……..
টাকা: …….. /= কথায়: …….. টাকা মাত্র।
আদায়কারীর স্বাক্ষর: ……..
দান ও চাঁদার রশিদের নমুনা
দান ও চাঁদার রশিদ
রশিদ নং: …….. তারিখ: ……..
দাতার নাম: ……..
ঠিকানা: …….. মোবাইল: ……..
বাবদ: [ ] সাধারণ দান [ ] যাকাত [ ] সদকা [ ] লিল্লাহ বোর্ডিং [ ] নির্মাণ তহবিল [ ] অন্যান্য: ……..
টাকা: …….. /= কথায়: …….. টাকা মাত্র।
আদায়কারীর স্বাক্ষর: ……..
রশিদ বই ডিজাইনের সময় যা খেয়াল রাখবেন
- মুড়ি ও মূল রশিদের মাঝে ছিদ্র করা দাগ (পারফোরেশন) রাখুন, যাতে সোজা ছিঁড়ে আসে।
- রশিদ নম্বর মুড়ি ও মূল রশিদ দুই জায়গাতেই ছাপানো থাকবে।
- প্রতি বইয়ে ৫০ বা ১০০টি রশিদ রাখুন এবং বইয়ের মলাটে বই নম্বর লিখুন।
- বেতন ও দানের বইয়ের কাগজের রঙ আলাদা রাখলে এক নজরে চেনা যায়।
- কার্বন কপি চাইলে প্রতিটি রশিদের নিচে একই নম্বরের পাতলা পাতা রাখুন।
- মাদ্রাসার সীলের জন্য একটু ফাঁকা জায়গা রাখুন।
রশিদ বই ব্যবহারের নিয়ম
- নতুন বই চালুর আগে সব পাতা গুনে দেখুন এবং রশিদ বই রেজিস্টারে তুলুন।
- টাকা হাতে নিয়ে তবেই রশিদ লিখুন। আগে থেকে লিখে রাখবেন না।
- প্রথমে মুড়ি পূরণ করুন, তারপর মূল রশিদ। দুই জায়গায় একই অংক লিখুন।
- টাকার অংক কথায় লিখে শেষে “মাত্র” দিন, যাতে পরে কিছু যোগ করা না যায়।
- ভুল হলে রশিদটি ছিঁড়বেন না। আড়াআড়ি “বাতিল” লিখে মুড়ির সাথেই রেখে দিন।
- দিন শেষে মুড়ির যোগফল হাতের টাকার সাথে মিলিয়ে হিসাব খাতায় তুলুন।
- বই শেষ হলে মুড়িসহ অফিসে জমা দিন এবং রেজিস্টারে ফেরতের তারিখ লিখুন।
হাতে লেখা রশিদের বদলে সফটওয়্যারের রশিদ দিলে কী বদলায়?
হাতে লেখা রশিদে দুটি কাজ আলাদা করতে হয়: রশিদ লেখা এবং পরে সেটি হিসাব খাতায় তোলা। দ্বিতীয় কাজটি বাদ পড়লেই গরমিল শুরু হয়। ছবক সফটওয়্যারে বেতন বা দান আদায় করলে রশিদ তৈরি হয় এবং সেই আদায় নিজে থেকেই হিসাবে বসে যায়। রশিদ A4 কাগজে অথবা ছোট থার্মাল প্রিন্টারে (৮০ মিমি ও ৫৮ মিমি) ছাপানো যায়, আর মাপটি একবার ঠিক করে দিলে সব রশিদ সেই মাপেই বের হয়। যারা বাইরে গিয়ে চাঁদা তোলেন তাদের জন্য কাগজের রশিদ বই তখনও লাগে, আর সেই বই কাকে দেওয়া হলো ও কবে ফেরত এলো তার হিসাব সফটওয়্যারে রাখা যায়। বিস্তারিত বেতন ও চাঁদা আদায় পাতায় আছে।
রশিদ কাটার সাথে সাথে হিসাব মিলিয়ে নিতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে বেতন ও দান আদায়, রশিদ, বকেয়া ও আয় ব্যয়ের হিসাব একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।