মাদ্রাসার সনদপত্র: নমুনা ও ডিজাইন
মাদ্রাসার সনদপত্রে থাকে মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা, সনদ নম্বর ও তারিখ, ছাত্রের নাম, পিতা মাতার নাম ও ঠিকানা, কোন শিক্ষাবর্ষে কোন জামাত বা পরীক্ষায় কী ফলাফল, এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মুহতামিম ও সভাপতির স্বাক্ষর ও সীল। নিচে উত্তীর্ণ সনদ, হিফজ সমাপনী সনদ ও প্রশংসাপত্রের তিনটি নমুনা এবং বর্ডারসহ ফ্রি টেমপ্লেট দেওয়া হলো।

সনদপত্রে কী কী তথ্য থাকতে হবে?
| অংশ | কী লিখবেন | খেয়াল রাখুন |
|---|---|---|
| মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা | উপরে মাঝখানে, বড় অক্ষরে | স্থাপিত সাল দিলে প্রতিষ্ঠানের পরিচয় স্পষ্ট হয় |
| সনদ নং ও তারিখ | সনদ রেজিস্টারের ক্রমিক ও প্রদানের তারিখ | নম্বর ছাড়া সনদ পরে যাচাই করা যায় না |
| শিরোনাম | সনদপত্র | সবচেয়ে বড় অক্ষরে |
| ছাত্রের পরিচয় | নাম, পিতা, মাতা, ঠিকানা | বানান জন্ম নিবন্ধনের সাথে মিলিয়ে নিন |
| অর্জন | শিক্ষাবর্ষ, জামাত বা শ্রেণি, পরীক্ষার নাম, বিভাগ বা গ্রেড | রেজাল্ট শিট দেখে লিখুন |
| রোল, নম্বর, মেধাক্রম | পরীক্ষার রোল, মোট নম্বর, মেধাস্থান | মেধাক্রম না দিলে ঘরটি বাদ দিন |
| স্বাক্ষর ও সীল | পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মুহতামিম, সভাপতি | মুহতামিমের স্বাক্ষরের সাথে সীল অবশ্যই |
নমুনা ১: জামাত বা শ্রেণি উত্তীর্ণের সনদপত্র
বার্ষিক পরীক্ষায় পাস করে যে ছাত্র পরের জামাতে যাচ্ছে বা মাদ্রাসা ছেড়ে যাচ্ছে, তার জন্য।
সনদপত্র
সনদ নং: …….. তারিখ: ……..
এই মর্মে সনদ প্রদান করা যাচ্ছে যে, …….., পিতা: …….., মাতা: …….., ঠিকানা: …….., এই মাদ্রাসা থেকে …….. শিক্ষাবর্ষে …….. জামাত/শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে …….. বিভাগ/গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার রোল নং …….., প্রাপ্ত মোট নম্বর …….. এবং মেধাক্রম ……..।
অধ্যয়নকালে তার আচার আচরণ সন্তোষজনক ছিল। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক / নাজেমে তালিমাত | মুহতামিম / অধ্যক্ষ (সীল) | সভাপতি
নমুনা ২: হিফজুল কুরআন সমাপনী সনদ
যে ছাত্র পুরো কুরআন মাজিদ হিফজ শেষ করেছে তার জন্য। এখানে উস্তাদের নাম ও হিজরি সাল উল্লেখ করা হয়।
হিফজুল কুরআন সমাপনী সনদ
এই মর্মে সনদ প্রদান করা যাচ্ছে যে, …….., পিতা: …….., মাতা: …….., ঠিকানা: …….., এই মাদ্রাসার হিফজ বিভাগে অধ্যয়ন করে …….. সালে (…….. হিজরি) পবিত্র কুরআনুল কারীম সম্পূর্ণ হিফজ সম্পন্ন করেছে। তার উস্তাদ: ……..।
আল্লাহ তাআলা তাকে কুরআনের খাদেম হিসেবে কবুল করুন এবং আজীবন কুরআন ধরে রাখার তাওফিক দিন।
হিফজ বিভাগের উস্তাদ | মুহতামিম / অধ্যক্ষ (সীল) | সভাপতি
নমুনা ৩: প্রশংসাপত্র
পরীক্ষায় মেধাস্থান, প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বা সারা বছর নিয়মিত উপস্থিতির জন্য।
প্রশংসাপত্র
…….. জামাত/শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রী …….., পিতা: …….., রোল নং …….., …….. শিক্ষাবর্ষের …….. পরীক্ষায়/প্রতিযোগিতায় …….. স্থান অধিকার করায় তাকে এই প্রশংসাপত্র দেওয়া হলো।
আমরা তার এই সাফল্যে আনন্দিত এবং তার আরও উন্নতি কামনা করি।
সনদপত্র ডিজাইনের সময় যা খেয়াল রাখবেন
- কাগজ আড়াআড়ি রাখুন। এতে লেখার লাইন লম্বা হয় এবং তিনটি স্বাক্ষর পাশাপাশি বসে।
- চারপাশে একটি বর্ডার দিন। সাধারণ দুই রেখার বর্ডারই সনদকে আলাদা মর্যাদা দেয়।
- মাদ্রাসার নাম ও “সনদপত্র” শব্দটি বাকি লেখার চেয়ে বড় রাখুন।
- এক বা দুই রঙের বেশি ব্যবহার করবেন না। বেশি রঙ সনদকে হালকা দেখায়।
- ফাঁকা জায়গাগুলো হাতে না লিখে কম্পিউটারে টাইপ করে প্রিন্ট করুন, দেখতে পরিচ্ছন্ন লাগে।
- লোগো থাকলে নামের উপরে বা পাশে বসান।
সনদ দেওয়ার ধাপ
- রেজাল্ট শিট দেখে উত্তীর্ণদের তালিকা চূড়ান্ত করুন।
- সনদ রেজিস্টারে প্রতিজনের জন্য ক্রমিক নম্বর বসান।
- টেমপ্লেটে নাম, পিতার নাম, ফলাফল টাইপ করে প্রিন্ট করুন।
- প্রিন্ট করা সনদ রেজাল্ট শিটের সাথে আরেকবার মিলিয়ে নিন।
- তিনজনের স্বাক্ষর ও সীল নিন।
- সনদ হাতে দেওয়ার সময় রেজিস্টারে গ্রহণকারীর স্বাক্ষর রাখুন।
সফটওয়্যার থেকে সনদ প্রিন্ট করলে কী সুবিধা?
ছবক সফটওয়্যারে “সনদ ও প্রত্যায়ন পত্র” অংশ থেকে শিক্ষার্থীর সনদ প্রিভিউ দেখে সংরক্ষণ ও প্রিন্ট করা যায়। ছাত্রের নাম, পিতার নাম ও শ্রেণি ভর্তির সময়েই সফটওয়্যারে তোলা থাকে, আর পরীক্ষার নম্বর থাকে ফলাফলের অংশে, তাই প্রতিটি সনদের জন্য আলাদা করে টাইপ করতে হয় না। সনদের জন্য ফি নিলে সেই আদায়ের হিসাবও থেকে যায়। ফলাফল ও মার্কশিট কীভাবে তৈরি হয় তা পরীক্ষা ও রেজাল্ট পাতায় দেখতে পারেন, আর চলতি ছাত্রের জন্য প্রত্যয়ন পত্রের নমুনা আলাদা পাতায় আছে।
সনদ, মার্কশিট ও প্রত্যয়ন পত্র এক জায়গা থেকে প্রিন্ট করতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ভর্তির তথ্য ও পরীক্ষার ফলাফল থেকেই মার্কশিট, সনদ ও প্রত্যয়ন পত্র তৈরি হয়। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।