মুচলেকা লেখার নিয়ম ও নমুনা

মুচলেকায় পাঁচটি অংশ থাকে: কে দিচ্ছেন তার পরিচয়, কোন তারিখে কী ঘটেছে তার স্বীকারোক্তি, দুঃখ প্রকাশ, ভবিষ্যতে আর না করার প্রতিশ্রুতি, এবং পুনরাবৃত্তি হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা। শেষে তারিখসহ স্বাক্ষর, ছাত্রের বেলায় অভিভাবকের স্বাক্ষরও লাগে। নিচে ছাত্রের মুচলেকা, শিক্ষকের মুচলেকা ও অভিভাবকের সম্মতি পত্রের নমুনা দেওয়া হলো।

মাদ্রাসার ছাত্রের মুচলেকার নমুনা (ফ্রি Word টেমপ্লেট)
ফ্রি ডাউনলোড (রেজিস্ট্রেশন লাগে না): মাদ্রাসার মুচলেকার Word টেমপ্লেট (.docx)। তিনটি পাতা: ছাত্র/ছাত্রীর মুচলেকা (অভিভাবকের বক্তব্যসহ), শিক্ষক বা কর্মচারীর মুচলেকা, এবং শিক্ষা সফর বা অনুষ্ঠানের জন্য অভিভাবকের সম্মতি পত্র। টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন

মুচলেকা কখন নেওয়া হয়?

মৌখিকভাবে বোঝানোর পরও যখন কোনো ছাত্র একই ভুল বারবার করে, অথবা বিষয়টি এমন যে লিখিত রেকর্ড থাকা দরকার, তখন মুচলেকা নেওয়া হয়। যেমন অনুমতি ছাড়া মাদ্রাসার বাইরে যাওয়া, মারামারি, মোবাইল ফোন রাখা বা মাদ্রাসার জিনিস নষ্ট করা। উদ্দেশ্য ছাত্রকে লজ্জা দেওয়া নয়, বরং তাকে নিজের কাজের দায় বুঝতে সাহায্য করা এবং অভিভাবককে বিষয়টি জানানো।

মুচলেকায় কী কী থাকে?

অংশ কী লিখবেন খেয়াল রাখুন
পরিচয় নাম, পিতার নাম, জামাত ও রোল (বা পদবি) পূর্ণ নাম লিখুন
ঘটনা কোন তারিখে কী করা হয়েছে সংক্ষেপে ও সত্যভাবে, বাড়িয়ে নয়
স্বীকারোক্তি কাজটি নিয়মের পরিপন্থী ছিল জোর করে মিথ্যা স্বীকারোক্তি লেখাবেন না
দুঃখ প্রকাশ ভুল বুঝতে পেরেছি, দুঃখিত
প্রতিশ্রুতি আর করব না, নিয়ম মেনে চলব দুই তিনটি নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি
পরিণতি পুনরাবৃত্তি হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নেব কী শাস্তি তা আগেই লিখে দেবেন না
স্বাক্ষর মুচলেকাদাতা, অভিভাবক বা সাক্ষী, শ্রেণি শিক্ষক, মুহতামিম তারিখসহ

নমুনা ১: ছাত্রের মুচলেকা

মুচলেকা (ছাত্র/ছাত্রী)

তারিখ: ……..

আমি …….., পিতা: …….., জামাত/শ্রেণি: …….., রোল নং …….., এই মর্মে স্বীকার করছি যে, গত …….. তারিখে আমি …….. করেছি, যা মাদ্রাসার নিয়মের পরিপন্থী।

আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি এবং এজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমি অঙ্গীকার করছি যে:
১। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ আর করব না।
২। মাদ্রাসার সকল নিয়ম কানুন মেনে চলব এবং উস্তাদদের নির্দেশ পালন করব।
৩। ……..

ভবিষ্যতে একই কাজের পুনরাবৃত্তি হলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমি ও আমার অভিভাবক তা মেনে নেব।

ছাত্র/ছাত্রীর স্বাক্ষর: ……..

অভিভাবকের বক্তব্য: আমি …….., উক্ত ছাত্র/ছাত্রীর …….., এই মুচলেকা পড়েছি/শুনেছি। আমি তাকে বুঝিয়ে বলব এবং তার আচরণের খোঁজ রাখব।

অভিভাবকের স্বাক্ষর ও মোবাইল | শ্রেণি শিক্ষক | মুহতামিম / অধ্যক্ষ

নমুনা ২: শিক্ষক বা কর্মচারীর মুচলেকা

কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবের পর, অথবা ছোট ত্রুটির ক্ষেত্রে নোটিশ ছাড়াই এই মুচলেকা নেওয়া হয়।

মুচলেকা (শিক্ষক / কর্মচারী)

আমি …….., পিতা: …….., পদবি: …….., এই মর্মে স্বীকার করছি যে, …….. তারিখে …….. বিষয়ে আমার ত্রুটি হয়েছে।

এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ আমাকে সতর্ক করেছেন। আমি আমার ত্রুটি স্বীকার করছি এবং অঙ্গীকার করছি যে:
১। ভবিষ্যতে এ ধরনের ত্রুটির পুনরাবৃত্তি করব না।
২। মাদ্রাসার নিয়মাবলি ও নিয়োগ পত্রের শর্ত মেনে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করব।
৩। ……..

ভবিষ্যতে একই ত্রুটির পুনরাবৃত্তি হলে কর্তৃপক্ষ মাদ্রাসার বিধি অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেবেন, তা মেনে নিতে আমি বাধ্য থাকব।

মুচলেকা প্রদানকারীর স্বাক্ষর | সাক্ষী | মুহতামিম / অধ্যক্ষ

নমুনা ৩: অভিভাবকের সম্মতি পত্র

শিক্ষা সফর, প্রতিযোগিতা বা বাইরের অনুষ্ঠানে ছাত্রকে নেওয়ার আগে।

অভিভাবকের সম্মতি পত্র

আমি …….., ঠিকানা: …….., মোবাইল: …….., আপনার মাদ্রাসার …….. জামাত/শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রী …….. (রোল নং ……..) এর পিতা / মাতা / অভিভাবক।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আগামী …….. তারিখে …….. (শিক্ষা সফর / প্রতিযোগিতা / অনুষ্ঠান / অন্যান্য) এর আয়োজন করেছেন বলে আমি জেনেছি। স্থান: ……..। যাওয়ার সময়: …….., ফেরার সময়: ……..।

আমি স্বেচ্ছায় আমার সন্তানকে এতে অংশ নেওয়ার সম্মতি দিচ্ছি। সে শিক্ষকদের নির্দেশ মেনে চলবে। এ বাবদ নির্ধারিত …….. টাকা আমি পরিশোধ করেছি / করব।

সন্তানের বিশেষ কোনো অসুস্থতা বা খাবারে নিষেধ থাকলে: ……..

জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগ: নাম …….. মোবাইল ……..

অভিভাবকের স্বাক্ষর | শ্রেণি শিক্ষক

মুচলেকা নেওয়ার সময় যা খেয়াল রাখবেন

  • আগে ঘটনাটি দুই পক্ষের কাছ থেকে শুনে নিশ্চিত হন। সন্দেহের বশে মুচলেকা নেবেন না।
  • রাগের মাথায় নয়, শান্ত পরিবেশে এবং অন্য ছাত্রদের সামনে নয়, একান্তে নিন।
  • ভাষা যেন অপমানজনক না হয়। ছাত্রকে “চোর” বা এ ধরনের শব্দে চিহ্নিত করবেন না।
  • ছাত্রের বেলায় অভিভাবককে ডেকে তার সামনে নিন।
  • মুচলেকাটি ছাত্রের ফাইলে রাখুন, নোটিশ বোর্ডে টানাবেন না।
  • মুচলেকার পর ছাত্রের সাথে স্বাভাবিক আচরণ করুন, বারবার ঘটনাটি মনে করিয়ে দেবেন না।
  1. ঘটনা যাচাই করুন এবং সংশ্লিষ্ট ছাত্রের বক্তব্য শুনুন।
  2. অভিভাবককে ফোনে জানিয়ে মাদ্রাসায় আসতে বলুন।
  3. টেমপ্লেটে ঘটনার তারিখ ও বিবরণ লিখে ছাত্র ও অভিভাবককে পড়ে শোনান।
  4. ছাত্র, অভিভাবক, শ্রেণি শিক্ষক ও মুহতামিমের স্বাক্ষর নিন।
  5. মূল কপি ছাত্রের ফাইলে রাখুন। অভিভাবক চাইলে একটি কপি দিন।
মুচলেকা শাস্তির বিকল্প, শাস্তির ভূমিকা নয়। বেশিরভাগ ছাত্র লিখিত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর সত্যিই সতর্ক হয়ে যায়। ভর্তির সময়ই নিয়মগুলো জানিয়ে দিতে নিয়মাবলী ও অঙ্গীকারনামা ব্যবহার করুন, তাহলে মুচলেকার প্রয়োজনই কম পড়ে।

অভিভাবককে দ্রুত জানাবেন কীভাবে?

মুচলেকা বা সম্মতি পত্র, দুই ক্ষেত্রেই অভিভাবকের সাথে দ্রুত যোগাযোগ দরকার। ছবক সফটওয়্যারে প্রতিটি ছাত্রের অভিভাবকের মোবাইল নম্বর ভর্তির তথ্যে থাকে, তাই খাতা ঘেঁটে নম্বর খুঁজতে হয় না। সেখান থেকে নির্দিষ্ট অভিভাবককে এসএমএস পাঠানো যায় এবং সবার জন্য নোটিশ দিলে তা অভিভাবকের ফোনের ছবক অ্যাপে চলে যায়। শিক্ষা সফরের মতো আয়োজনে আগে অ্যাপে নোটিশ দিয়ে পরে কাগজের সম্মতি পত্র সংগ্রহ করলে কেউ বাদ পড়ে না। বিস্তারিত এসএমএস সিস্টেম পাতায় আছে।

অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ সহজ করতে চান?

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ছাত্রের তথ্য, অভিভাবকের নম্বর, নোটিশ ও এসএমএস একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

মুচলেকা কী?
মুচলেকা হলো লিখিত স্বীকারোক্তি ও প্রতিশ্রুতি। কেউ কোনো নিয়ম ভঙ্গ করলে তিনি লিখে দেন যে কাজটি তিনি করেছেন, এজন্য দুঃখিত, এবং ভবিষ্যতে আর করবেন না। মাদ্রাসায় এটি শৃঙ্খলা রক্ষার একটি নরম পদ্ধতি।
মুচলেকা আর অঙ্গীকারনামার পার্থক্য কী?
অঙ্গীকারনামা নেওয়া হয় আগে, ভর্তি বা নিয়োগের সময়, সবার কাছ থেকে। মুচলেকা নেওয়া হয় পরে, নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার পর, কেবল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে। মুচলেকায় ঘটনার উল্লেখ থাকে, অঙ্গীকারনামায় থাকে না।
ছোট ছাত্রের মুচলেকা কে লিখবে?
শিক্ষক লিখে দেবেন বা ফরম পূরণ করবেন, ছাত্র নাম লিখবে বা স্বাক্ষর দেবে, এবং অভিভাবক পড়ে বা শুনে স্বাক্ষর করবেন। অভিভাবকের উপস্থিতি ছাড়া ছোট ছাত্রের মুচলেকা নেওয়া ঠিক নয়।
মুচলেকা নেওয়ার পর আবার একই কাজ করলে?
মুচলেকাতেই লেখা থাকে যে পুনরাবৃত্তি হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে। তখন অভিভাবককে ডেকে মুচলেকাটি দেখিয়ে মাদ্রাসার নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিন। শাস্তি যেন শারীরিক না হয়।
অভিভাবকের সম্মতি পত্র কখন লাগে?
ছাত্রকে মাদ্রাসার বাইরে নিয়ে যাওয়ার যেকোনো কাজে: শিক্ষা সফর, প্রতিযোগিতা, অন্য মাদ্রাসার অনুষ্ঠান। এতে অভিভাবক লিখিতভাবে জানান যে তিনি বিষয়টি জানেন এবং সম্মত। সম্মতি পত্র ছাড়া কোনো ছাত্রকে বাইরে নেওয়া উচিত নয়।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

আমাদের আর্টিকেল শেয়ার করুন
Facebook
WhatsApp

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

English: Read about Sabaq madrasa management software in English

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো