পাঠ পরিকল্পনা তৈরির নিয়ম ও নমুনা
একটি পাঠ পরিকল্পনায় থাকে: তারিখ, জামাত, বিষয় ও সময়, পাঠের শিরোনাম, শিখনফল (পাঠ শেষে ছাত্র কী পারবে), উপকরণ, এবং পাঠের পাঁচটি ধাপ: আগের পাঠ যাচাই, নতুন পাঠ উপস্থাপন, অনুশীলন, মূল্যায়ন ও বাড়ির কাজ। শেষে শিক্ষকের মন্তব্য। নিচে দৈনিক, মাসিক ও বার্ষিক তিন রকম পাঠ পরিকল্পনার ছক এবং ফ্রি Word ফাইল দেওয়া হলো।

পাঠ পরিকল্পনা কেন দরকার?
পরিকল্পনা ছাড়া ক্লাসে ঢুকলে প্রায়ই দেখা যায় একটি বিষয় বোঝাতে পুরো ঘণ্টা চলে গেল, অনুশীলন বা যাচাইয়ের সময় রইল না। বছর শেষে কিতাবের শেষ অংশ তাড়াহুড়ো করে শেষ করতে হয়। পাঠ পরিকল্পনা শিক্ষককে সময় ভাগ করতে সাহায্য করে এবং মুহতামিমকে জানায় কোন জামাত কতদূর এগিয়েছে। শিক্ষক অসুস্থ হলে বদলি শিক্ষকও এই কাগজ দেখে পড়া চালিয়ে নিতে পারেন।
দৈনিক পাঠ পরিকল্পনায় কী কী থাকে?
| অংশ | কী লিখবেন | আনুমানিক সময় |
|---|---|---|
| পাঠের শিরোনাম | কোন অধ্যায়, কোন পাতা | |
| শিখনফল | পাঠ শেষে ছাত্ররা কী পারবে, দুই তিনটি | |
| উপকরণ | বোর্ড, কিতাব, চার্ট বা অন্য কিছু | |
| ১। আগের পাঠ যাচাই | গত দিনের পড়া থেকে দুই তিনটি প্রশ্ন | ৫ মিনিট |
| ২। নতুন পাঠ উপস্থাপন | কীভাবে বোঝাবেন, কোন উদাহরণ দেবেন | ১৫ মিনিট |
| ৩। অনুশীলন | ছাত্ররা নিজে পড়বে, লিখবে বা বলবে | ১০ মিনিট |
| ৪। মূল্যায়ন | কোন প্রশ্নে বুঝবেন পাঠ হয়েছে | ৫ মিনিট |
| ৫। বাড়ির কাজ | কী পড়ে বা লিখে আনবে | ২ মিনিট |
| পাঠ শেষে মন্তব্য | কী ভালো হলো, কী বাকি রইল | ক্লাসের পরে |
সময়গুলো ৪০ মিনিটের একটি ঘণ্টা ধরে দেওয়া একটি ধারণা মাত্র। আপনার ঘণ্টার দৈর্ঘ্য অনুযায়ী ভাগ করে নিন।
একটি পাঠ পরিকল্পনার উদাহরণ
উদাহরণ: নূরানী দ্বিতীয় শ্রেণি, আরবি শব্দার্থ
পাঠের শিরোনাম: ঘরের পাঁচটি জিনিসের আরবি নাম
শিখনফল: ছাত্ররা পাঁচটি শব্দ দেখে পড়তে পারবে এবং অর্থ বলতে পারবে।
উপকরণ: বোর্ড, ছবিসহ চার্ট
১। আগের পাঠ যাচাই: গত দিনের পাঁচটি শব্দ তিনজনকে জিজ্ঞেস করা।
২। নতুন পাঠ: প্রতিটি শব্দ বোর্ডে লিখে উচ্চারণ করা, ছবি দেখিয়ে অর্থ বলা, সবাই মিলে তিনবার পড়া।
৩। অনুশীলন: জোড়ায় জোড়ায় একজন শব্দ বলবে, অন্যজন অর্থ বলবে।
৪। মূল্যায়ন: ছবি দেখিয়ে পাঁচজনকে আরবি নাম জিজ্ঞেস করা।
৫। বাড়ির কাজ: পাঁচটি শব্দ খাতায় তিনবার করে লেখা।
মাসিক ও বার্ষিক পরিকল্পনা কীভাবে করবেন?
দৈনিক পরিকল্পনার আগে বড় ছবিটি ঠিক করতে হয়। টেমপ্লেটের তৃতীয় পাতায় বার্ষিক পাঠ বণ্টনের ছক আছে: বারো মাসের জন্য বারোটি সারি, প্রতি মাসে কিতাবের কোন অংশ, কোন পৃষ্ঠা থেকে কোন পৃষ্ঠা, এবং কোন মাসে কোন পরীক্ষা। দ্বিতীয় পাতার মাসিক ছকে সেই মাসের অংশটি পাঁচ সপ্তাহে ভাগ করা হয়, সাথে “সম্পন্ন” কলামে টিক দেওয়ার ব্যবস্থা।
- কিতাবের মোট পৃষ্ঠা বা অধ্যায় গুনে নিন।
- শিক্ষাবর্ষের মোট কার্যদিবস থেকে পরীক্ষা ও ছুটির দিন বাদ দিন।
- পরীক্ষার আগে পুনরালোচনার জন্য কয়েক দিন আলাদা রাখুন।
- বাকি দিনগুলোতে কিতাব ভাগ করে বার্ষিক ছকে মাসওয়ারি বসান।
- প্রতি মাসের শুরুতে সেই মাসের অংশ সপ্তাহে ভাগ করে মাসিক ছকে লিখুন।
- প্রতিদিনের পাঠের জন্য দৈনিক ছক পূরণ করুন।
- মাস শেষে দেখুন পরিকল্পনার কতটুকু সম্পন্ন হলো এবং পরের মাসে সমন্বয় করুন।
পাঠ পরিকল্পনা লেখার সময় যা খেয়াল রাখবেন
- এক ঘণ্টায় একটি বা দুটি মূল বিষয়ই রাখুন। বেশি নিলে কোনোটিই পাকা হয় না।
- শিখনফল এমনভাবে লিখুন যা যাচাই করা যায়।
- শিক্ষকের বলার চেয়ে ছাত্রের করার সময় বেশি রাখুন।
- দুর্বল ছাত্রদের জন্য আলাদা কী করবেন তা এক লাইনে লিখে রাখুন।
- পাঠ শেষে মন্তব্যের ঘরটি পূরণ করুন, পরের বছর এটিই সবচেয়ে কাজে লাগে।
- পরিকল্পনা ছোট রাখুন। এক পাতার বেশি হলে তা আর কেউ লেখে না।
পরিকল্পনার সাথে অভিভাবককে যুক্ত করবেন কীভাবে?
পাঠ পরিকল্পনা শিক্ষকের কাগজ, কিন্তু এর দুটি অংশ অভিভাবকেরও জানা দরকার: কোন পরীক্ষায় কতটুকু পড়া আসবে এবং আজকের বাড়ির কাজ কী। ছবক সফটওয়্যারে পরীক্ষা, শ্রেণি ও শিক্ষাবর্ষ অনুযায়ী সিলেবাস ঠিক করে প্রকাশ করা যায় এবং প্রতিটি শ্রেণির বইয়ের তালিকা প্রিন্ট করা যায়। মাদ্রাসা চাইলে অভিভাবকও সিলেবাস দেখতে পান। শিক্ষক আজকের বা আগামীকালের বাড়ির কাজ লিখে দিলে তা অভিভাবকের প্যানেলে চলে যায় এবং চাইলে এসএমএসও পাঠানো যায়। দৈনিক পাঠ মূল্যায়ন মডিউলে শিক্ষক প্রতিদিন প্রতিটি ছাত্রের পাশে ভালো, মধ্যম, দুর্বল বা অনুপস্থিত দিতে পারেন (এই অংশটি ওয়েবে)। বিস্তারিত দৈনিক পাঠ মূল্যায়ন পাতায় আছে।
সিলেবাস, বাড়ির কাজ ও প্রতিদিনের পড়ার খবর অভিভাবককে জানাতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে সিলেবাস, বাড়ির কাজ, হাজিরা ও ফলাফল একই জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।