প্রতিদিন সন্তান পড়া পারছে কি না, অভিভাবককে জানাবেন কীভাবে
প্রতিদিনের পড়ার খবর অভিভাবকের কাছে পৌঁছানোর নিয়ম তিনটি: শিক্ষক শ্রেণিকক্ষেই প্রত্যেকের পাশে একটি মান বসাবেন, সেই মানগুলো প্রতিষ্ঠানের কাছেই জমা থাকবে, আর দিন শেষে সেদিনের ফল অভিভাবকের মোবাইলে যাবে। বছর শেষে পরীক্ষার ফল দেখে অভিভাবক চমকে ওঠেন, এই সমস্যাটি তখনই শেষ হয়।

এক নজরে
পড়ার খবর পৌঁছাতে যা লাগবে।
- সহজ মান, চার রকমেই যথেষ্ট
- শ্রেণিকক্ষেই এন্ট্রি, পরে মনে করে নয়
- রেকর্ড প্রতিষ্ঠানের কাছে, শিক্ষকের খাতায় নয়
- মাসের গণনা নিজে থেকেই
- অভিভাবককে জানানো প্রতিদিন একই সময়ে
- অভিভাবক নিজেও দেখতে পারেন
পরীক্ষার আগে অভিভাবক কেন কিছু জানেন না?
বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে অভিভাবকের কাছে খবর যায় তিনটি সময়ে: ভর্তির সময়, বেতন বাকি পড়লে, আর পরীক্ষার ফল বের হলে। মাঝখানে নয় দশ মাস অভিভাবক জানেন না সন্তান পড়ছে কি না। তাই ফল খারাপ হলে প্রথম অভিযোগটি আসে প্রতিষ্ঠানের দিকেই, আগে কেন জানানেনি।
শিক্ষকের দিক থেকে ব্যাপারটি অন্য রকম। তিনি জানেন কে পড়া পারে না, কিন্তু সেটি তাঁর মনে বা নিজের খাতায়। শিক্ষক বদল হলে সেই জানাটুকু প্রতিষ্ঠান হারায়। তাই পড়ার হিসাব লিখিত রাখা অভিভাবকের জন্য যতটা, প্রতিষ্ঠানের জন্যও ততটাই দরকারি।
মান কয় রকম রাখবেন?
বেশি ভাগ করলে শিক্ষক এন্ট্রি করতে বিরক্ত হন, আর কম রাখলে ছবিটা স্পষ্ট হয় না। প্রচলিত চারটি মানই বাস্তবে সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
ভালো
পুরো পড়া পেরেছে, আটকায়নি।
মধ্যম
পেরেছে, তবে কয়েক জায়গায় আটকেছে।
দুর্বল
পড়া হয়নি বা অনেকটাই বাকি।
অনুপস্থিত
সেদিন শ্রেণিতে ছিল না।
প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত নাম থাকলে সেটিই রাখুন। কেউ লেখেন উত্তম, মধ্যম, দুর্বল। কেউ লেখেন ক, খ, গ। নাম যাই হোক, সব শিক্ষক একই অর্থে ব্যবহার করছেন কি না সেটিই বড় কথা। তা না হলে দুই শ্রেণির হিসাব মিলবে না।
কে লিখবেন আর কখন লিখবেন?
এই দুটি প্রশ্নের উত্তর আগে ঠিক না করলে কয়েক সপ্তাহ পরেই কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। উত্তরটা সহজ: যিনি পড়া ধরেন তিনিই লিখবেন, আর পড়া ধরার সঙ্গে সঙ্গেই লিখবেন।
অফিসের কাউকে দিয়ে পরে তোলালে দুটি সমস্যা হয়। এক, শিক্ষকের কাগজ থেকে তুলতে গিয়ে ভুল হয়। দুই, একই কাজ দুবার হয়, তাই কেউই মন দিয়ে করেন না। তাই দায়িত্বটি শ্রেণির শিক্ষকের হাতেই থাকা উচিত।
সময়ের ব্যাপারে একটি নিয়ম যথেষ্ট: পড়া ধরার পর শ্রেণিকক্ষ ছাড়ার আগেই বসিয়ে দেওয়া। ছুটির দিন বা পরীক্ষার দিন ঘরগুলো ফাঁকা থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক, জোর করে ভরার দরকার নেই। ভুল হলে পরের দিন ওই তারিখের ঘরে গিয়ে বদলে দেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতের তারিখে আগাম মান বসানো যায় না, তাই হিসাবটি বিশ্বাসযোগ্য থাকে।
শিক্ষকের সময় যেন নষ্ট না হয়
এই কাজটি ব্যর্থ হয় একটি কারণেই: শিক্ষকের কাছে এটি বাড়তি বোঝা মনে হলে। তাই তিনটি শর্ত মানা দরকার।
- পুরো মাসের ছক এক পর্দায় খোলা থাকবে, প্রতিদিন নতুন করে খুঁজতে হবে না।
- এক চাপে মান বসবে, লিখতে হবে না।
- ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে বদলানো যাবে।
এই তিনটি ঠিক থাকলে এক শ্রেণির কাজ কয়েক সেকেন্ডে শেষ হয়। তখন শিক্ষক নিয়মিত করেন, আর নিয়মিত হলেই হিসাবটা কাজে লাগে।
হিফজ ও নাজেরা বিভাগে কীভাবে সাজাবেন?
হিফজ ও নাজেরা বিভাগে প্রতিদিনই পড়া ধরা হয়, তাই এখানে দৈনিক হিসাব সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। সাধারণ শ্রেণির সাথে পার্থক্য একটাই: এখানে বিষয়ের বদলে বই ধরে হিসাব রাখা বেশি স্বাভাবিক।
ছক তৈরির সময় শ্রেণি, বিষয় ও বই আলাদাভাবে বেছে নেওয়া যায়। তাই এক ছাত্রের নতুন পড়া আর পুরনো পড়ার হিসাব আলাদা রাখতে চাইলে দুটি আলাদা এন্ট্রি হিসেবে সাজিয়ে নিতে পারেন, আর মাস শেষে দুটির হিসাব আলাদা করেই দেখা যাবে।
দৈনিক রুটিন কীভাবে সাজালে হিফজ বিভাগে অগ্রগতি ধরে রাখা সহজ হয়, সেটি নিয়ে আলাদা লেখা আছে হিফজ বিভাগের দৈনিক রুটিন পাতায়।
অভিভাবককে কখন জানাবেন
প্রতিদিন একই সময়ে জানানো সবচেয়ে কাজে দেয়। সন্ধ্যার দিকে পাঠালে অভিভাবক বাসায় ফিরে সন্তানকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। সকালে পাঠালে আগের দিনের খবর পুরনো হয়ে যায়।
অভিভাবক আসলে কী দেখতে পান, আর কী পান না?
প্রত্যাশা পরিষ্কার থাকলে অফিসে অপ্রয়োজনীয় ফোন আসে না। তাই শুরুতেই অভিভাবককে বলে দিন কোনটা তিনি দেখতে পাবেন আর কোনটা পাবেন না।
- দেখতে পান: নিজের সন্তানের প্রতিদিনের মান ও মাসের হিসাব
- দেখতে পান: কোন বিষয় বা বইয়ের হিসাব, আর কোন মাসের
- দেখতে পান না: অন্য শিক্ষার্থীর মান বা শ্রেণির মেধাক্রম
- দেখতে পান না: শিক্ষকের ব্যক্তিগত মন্তব্য, যদি প্রতিষ্ঠান তা প্রকাশ না করে
- একটি সীমা: প্রতিদিনের এই হিসাবটি এখন ওয়েবের প্যানেলে দেখা যায়, মোবাইল অ্যাপে নয়। অ্যাপে হাজিরা, বেতন, ফলাফল ও নোটিশ দেখা যায়।
খাতায় রাখলে আর সফটওয়্যারে রাখলে
| বিষয় | শিক্ষকের খাতা | সফটওয়্যারে |
|---|---|---|
| শিক্ষক বদল হলে | হিসাব হারায় | প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকে |
| মাসের গণনা | হাতে গুনতে হয় | নিজে থেকেই হয় |
| অভিভাবক জানেন | পরীক্ষার পরে | প্রতিদিন |
| কমিটিকে দেখানো | আলাদা লিখতে হয় | প্রিন্ট করলেই হয় |
| বছরের হিসাব | বারো মাস যোগ করতে হয় | এক পাতায় পাওয়া যায় |
মাসের বা বছরের হিসাবটি শ্রেণি শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরের ঘরসহ প্রিন্ট করা যায়, তাই কমিটির সভায় বা অভিভাবক সমাবেশে সরাসরি দেখানো যায়।
আপনার প্রতিষ্ঠানে শুরু করতে চান?
আপনার শ্রেণি ও বিষয়ের তালিকা বলুন, সেইভাবে সাজিয়ে ডেমোতে দেখিয়ে দেব।