মাদ্রাসার প্রবেশপত্র: নমুনা ও ডিজাইন
মাদ্রাসার প্রবেশপত্রে থাকতে হয় মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা, পরীক্ষার নাম ও শিক্ষাবর্ষ, ছাত্রের নাম ও পিতার নাম, জামাত ও শাখা, রোল, সিট ও কক্ষ নম্বর, ছবির ঘর, পরীক্ষার নিয়মাবলি এবং দায়িত্বশীলদের স্বাক্ষর। নিচে এক পাতায় দুটি কার্ডের নমুনা, পরীক্ষার রুটিনের ছক এবং ফ্রি Word টেমপ্লেট দেওয়া হলো।

প্রবেশপত্র কেন দরকার?
প্রবেশপত্র শুধু পরীক্ষার কক্ষে ঢোকার অনুমতি নয়। এটি দিয়ে তিনটি কাজ হয়। ছাত্র জানতে পারে সে কোন কক্ষে কোন সিটে বসবে। পরিদর্শক মিলিয়ে নিতে পারেন সঠিক ছাত্রই সঠিক আসনে বসেছে কি না। আর অফিস পরীক্ষার আগেই নিশ্চিত হয় কারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এবং কার ফি বাকি আছে। তাই ছোট মাদ্রাসাতেও বার্ষিক পরীক্ষায় প্রবেশপত্র দেওয়া একটি ভালো অভ্যাস।
প্রবেশপত্রে কী কী তথ্য থাকে?
| তথ্য | উদাহরণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা | কার্ডের উপরে, মাঝখানে | লোগো থাকলে নামের পাশে বসান |
| পরীক্ষার নাম | প্রথম সাময়িক, অর্ধ বার্ষিক, বার্ষিক | সাথে সাল বা শিক্ষাবর্ষ |
| ছাত্রের নাম ও পিতার নাম | ভর্তি রেজিস্টার অনুযায়ী | বানান মিলিয়ে নিন |
| জামাত/শ্রেণি ও শাখা | যেমন: মিজান, শাখা ক | শাখা না থাকলে ঘর ফাঁকা রাখুন |
| রোল নং | শ্রেণির রোল | হাজিরা খাতার সাথে মিলবে |
| সিট নং ও কক্ষ নং | পরীক্ষার আসন বিন্যাস অনুযায়ী | আগে সিট প্ল্যান তৈরি করে নিন |
| পরীক্ষা শুরুর তারিখ | প্রথম পরীক্ষার দিন | পুরো রুটিন আলাদা পাতায় |
| ছবি | পাসপোর্ট সাইজ | ছবির উপর সীল দিলে বদলানো যায় না |
| স্বাক্ষর | শ্রেণি শিক্ষক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মুহতামিম | অন্তত একজনের স্বাক্ষর ও সীল |
প্রবেশপত্রের নিয়মাবলিতে কী লিখবেন?
কার্ডের নিচের দিকে ছোট অক্ষরে তিন থেকে পাঁচটি নিয়ম লিখে দিন। বেশি লিখলে কেউ পড়ে না। আমাদের টেমপ্লেটে এই চারটি নিয়ম আছে, দরকারমতো বদলে নিন।
নিয়মাবলি
১) প্রবেশপত্র ছাড়া পরীক্ষার কক্ষে ঢোকা যাবে না।
২) পরীক্ষা শুরুর ১৫ মিনিট আগে আসনে বসতে হবে।
৩) মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত কাগজ সঙ্গে রাখা যাবে না।
৪) বকেয়া বেতন পরিশোধ করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
প্রবেশপত্র ডিজাইনের সময় যা খেয়াল রাখবেন
- A4 কাগজে দুটি কার্ড রাখুন। এতে কাগজ বাঁচে, লেখাও পড়ার মতো বড় থাকে।
- রোল ও সিট নম্বর একটু বড় ও মোটা অক্ষরে দিন, কারণ পরিদর্শক এই দুটিই বেশি দেখেন।
- চারপাশে একটি সরু বর্ডার দিন, তাহলে কাটার পরও কার্ডটি গোছানো দেখায়।
- রঙিন ডিজাইনের দরকার নেই। সাদা কালো প্রিন্টেই স্পষ্ট দেখায় এমন ডিজাইন করুন।
- ছবির ঘর ডান পাশে রাখুন, যাতে বাঁ পাশে তথ্য লেখার জায়গা থাকে।
- কার্ডের পেছনে বা আলাদা কাগজে পরীক্ষার রুটিন দিন, যাতে অভিভাবকও জানতে পারেন।
পরীক্ষার রুটিন প্রবেশপত্রের সাথে কীভাবে দেবেন?
টেমপ্লেটের দ্বিতীয় পাতায় পরীক্ষার রুটিনের একটি ছক আছে। এতে পাঁচটি কলাম: ক্রমিক, তারিখ, বার, বিষয় বা কিতাব এবং সময় (শুরু থেকে শেষ)। শেষের সময় লিখে দিলে অভিভাবক আগে থেকেই জানতে পারেন কখন সন্তানকে নিতে আসতে হবে। প্রবেশপত্রের পেছনে এই রুটিন ছাপিয়ে দিতে পারেন, অথবা আলাদা কাগজে দিয়ে নোটিশ বোর্ডেও টানিয়ে দিন। পরীক্ষার মৌসুমে আর কী কী প্রস্তুতি লাগে তা পরীক্ষা ও রেজাল্ট মৌসুমের করণীয় লেখায় আছে।
প্রবেশপত্র তৈরি ও বিতরণের ধাপ
- পরীক্ষার তারিখ ও রুটিন চূড়ান্ত করুন।
- কোন কক্ষে কোন জামাতের কতজন বসবে তা ঠিক করে সিট নম্বর বসান।
- ভর্তি রেজিস্টার থেকে নাম, পিতার নাম ও রোল নিয়ে কার্ড পূরণ করুন।
- প্রিন্ট করে মাঝখান থেকে কেটে নিন, ছবি লাগিয়ে স্বাক্ষর ও সীল দিন।
- পরীক্ষার অন্তত তিন দিন আগে বিতরণ শুরু করুন এবং কে নিয়েছে তার তালিকা রাখুন।
- পরীক্ষার দিন কক্ষের দরজায় সিট প্ল্যান টানিয়ে দিন।
সফটওয়্যার থেকে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করলে কী সুবিধা?
ছাত্র সংখ্যা বেশি হলে হাতে বা Word ফাইলে একটি একটি করে কার্ড পূরণ করা সময়সাপেক্ষ। ছবক সফটওয়্যারে শ্রেণি ও পরীক্ষা বেছে নিলে পরীক্ষার্থীদের এডমিট কার্ড তৈরি ও প্রিন্ট করা যায়। কার্ডে নাম, পিতার নাম, শ্রেণি, রোল, সিট নম্বর, শিক্ষাবর্ষ, পরীক্ষার নিয়মাবলি ও স্বাক্ষরের ঘর থাকে। সিট নম্বর এক চাপে সবার জন্য বসিয়ে দেওয়া যায়। পরীক্ষার রুটিনে প্রতিটি বিষয়ের শুরু ও শেষের সময় থাকে এবং সেই সময় এডমিট কার্ডেও দেখা যায়। বিস্তারিত পরীক্ষা ও রেজাল্ট পাতায় আছে।
সব ছাত্রের প্রবেশপত্র একসাথে প্রিন্ট করতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে পরীক্ষার রুটিন, সিট নম্বর, এডমিট কার্ড, নম্বর তোলা ও মার্কশিট এক জায়গায় থাকে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।