মাদ্রাসার ছুটির দরখাস্ত: নমুনা ও লেখার নিয়ম

ছুটির দরখাস্তে সাতটি জিনিস থাকে: তারিখ, বরাবর (মুহতামিম বা অধ্যক্ষ, মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা), বিষয়, সম্বোধন, মূল বক্তব্য (কে, কোন জামাত, কী কারণে, কোন তারিখ থেকে কোন তারিখ পর্যন্ত, মোট কত দিন), বিনীত নিবেদন এবং আবেদনকারীর নাম, মোবাইল ও স্বাক্ষর। নিচে ছাত্রের অগ্রিম ছুটি, অসুস্থতার পরের আবেদন এবং শিক্ষকের ছুটির তিনটি নমুনা দেওয়া হলো।

মাদ্রাসার ছুটির দরখাস্তের নমুনা (ফ্রি Word টেমপ্লেট)
ফ্রি ডাউনলোড (রেজিস্ট্রেশন লাগে না): মাদ্রাসার ছুটির দরখাস্তের Word টেমপ্লেট (.docx)। এক ফাইলে তিনটি দরখাস্ত: ছাত্রের অগ্রিম ছুটি, অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিতি এবং শিক্ষক বা কর্মচারীর ছুটি। প্রতিটির নিচে অফিসের জন্য মঞ্জুর বা নামঞ্জুরের ঘর আছে। টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন

ছুটির দরখাস্তে কী কী থাকতে হবে?

অংশ কী লিখবেন
তারিখ যেদিন দরখাস্ত জমা দিচ্ছেন
বরাবর মুহতামিম / অধ্যক্ষ, মাদ্রাসার নাম ও ঠিকানা
বিষয় কত দিনের ছুটির আবেদন, এক লাইনে
সম্বোধন জনাব,
মূল বক্তব্য ছাত্রের নাম, জামাত, রোল, ছুটির কারণ, শুরুর তারিখ, শেষের তারিখ, মোট দিন
নিবেদন ছুটি মঞ্জুরের অনুরোধ এবং ফিরে এসে পড়া পূরণ করার প্রতিশ্রুতি
আবেদনকারী অভিভাবকের নাম, ছাত্রের সাথে সম্পর্ক, মোবাইল, স্বাক্ষর

কারণ স্পষ্ট করে লিখুন। শুধু “বিশেষ প্রয়োজনে” লিখলে মুহতামিম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আর তারিখ লেখার সময় শুরু ও শেষ দুটিই দিন, সাথে মোট দিন, যাতে হাজিরা খাতায় তুলতে ভুল না হয়।

নমুনা ১: ছাত্রের অগ্রিম ছুটির দরখাস্ত

অভিভাবকের পক্ষ থেকে, ছুটি শুরুর আগে জমা দেওয়ার জন্য।

বিষয়: …….. দিনের ছুটির জন্য আবেদন।

বরাবর, মুহতামিম / অধ্যক্ষ, [মাদ্রাসার নাম], [ঠিকানা]

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমার ছেলে/মেয়ে …….. আপনার মাদ্রাসার …….. জামাত/শ্রেণির ছাত্র/ছাত্রী, রোল নং ……..। …….. কারণে সে আগামী …….. তারিখ থেকে …….. তারিখ পর্যন্ত মোট …….. দিন মাদ্রাসায় উপস্থিত থাকতে পারবে না।

অতএব, উক্ত …….. দিনের ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি। ছুটি শেষে সে নির্ধারিত দিনে মাদ্রাসায় উপস্থিত হবে এবং পিছিয়ে পড়া সবক পূরণ করে নেবে।

বিনীত নিবেদক, অভিভাবকের নাম: …….. সম্পর্ক: …….. মোবাইল: …….. স্বাক্ষর: ……..

নমুনা ২: অসুস্থতার কারণে অনুপস্থিতির দরখাস্ত

হঠাৎ অসুস্থ হলে আগে থেকে দরখাস্ত দেওয়া যায় না। সুস্থ হয়ে মাদ্রাসায় ফেরার দিন এই আবেদন জমা দিন।

বিষয়: অসুস্থতার কারণে …….. দিনের অনুপস্থিতির ছুটি মঞ্জুরের আবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমার ছেলে/মেয়ে …….., জামাত/শ্রেণি: …….., রোল নং …….., গত …….. তারিখ থেকে …….. তারিখ পর্যন্ত …….. রোগে আক্রান্ত থাকায় মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে পারেনি।

অতএব, উক্ত …….. দিনের অনুপস্থিতি ছুটি হিসেবে গণ্য করে বাধিত করতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি। (চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র থাকলে সংযুক্ত করুন।)

বিনীত নিবেদক, অভিভাবকের নাম: …….. মোবাইল: …….. স্বাক্ষর: ……..

নমুনা ৩: শিক্ষক বা কর্মচারীর ছুটির দরখাস্ত

শিক্ষকের দরখাস্তে বাড়তি একটি বিষয় থাকে: তার অনুপস্থিতিতে দরস বা ঘণ্টা কে নেবেন।

বিষয়: …….. দিনের নৈমিত্তিক / অসুস্থতাজনিত ছুটির জন্য আবেদন।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমি …….., আপনার মাদ্রাসায় …….. পদে কর্মরত। …….. কারণে আগামী …….. তারিখ থেকে …….. তারিখ পর্যন্ত মোট …….. দিন আমার ছুটি প্রয়োজন।

আমার অনুপস্থিতিতে আমার দায়িত্বে থাকা ঘণ্টা/দরস জনাব …….. পরিচালনা করবেন বলে সম্মত হয়েছেন।

অতএব, উক্ত …….. দিনের ছুটি মঞ্জুর করে বাধিত করতে আপনার সদয় মর্জি কামনা করছি।

বিনীত নিবেদক, নাম: …….. পদবি: …….. মোবাইল: …….. স্বাক্ষর: ……..

অফিস ছুটির দরখাস্ত নিয়ে কী করবে?

দরখাস্ত শুধু জমা নিলেই কাজ শেষ হয় না। টেমপ্লেটের প্রতিটি দরখাস্তের নিচে “অফিসের জন্য” একটি ঘর আছে। সেখানে মঞ্জুর না নামঞ্জুর, কোন তারিখ থেকে কোন তারিখ এবং মোট কত দিন তা লিখে স্বাক্ষর করতে হয়।

  1. দরখাস্ত হাতে পেয়ে তারিখ ও কারণ পড়ে দেখুন। পরীক্ষার সময় বা জরুরি দরসের দিন পড়ছে কি না মিলিয়ে নিন।
  2. মঞ্জুর বা নামঞ্জুরে টিক দিন, মঞ্জুর করা দিনের সংখ্যা লিখুন এবং স্বাক্ষর করুন।
  3. শ্রেণি শিক্ষককে জানান, যাতে হাজিরা খাতায় ঐ দিনগুলো অনুপস্থিত নয়, ছুটি হিসেবে ওঠে।
  4. আবাসিক ছাত্র হলে বোর্ডিংয়ের দায়িত্বশীলকে জানান এবং কার সাথে যাচ্ছে তা লিখে রাখুন।
  5. দরখাস্তটি ছুটির ফাইলে তারিখ অনুযায়ী রেখে দিন।
  6. ছুটি শেষে ছাত্র ফিরেছে কি না দেখুন। না ফিরলে অভিভাবককে ফোন করুন।
ছুটি শেষ হওয়ার পরও ছাত্র না ফিরলে সেটিই ঝরে পড়ার প্রথম লক্ষণ। তাই মঞ্জুর করা ছুটির শেষ তারিখ একটি খাতায় লিখে রাখুন এবং পরদিন মিলিয়ে দেখুন।

সফটওয়্যারে ছুটির আবেদন রাখলে কী সুবিধা?

ছবক সফটওয়্যারে ছুটির আবেদন জমা থাকে এবং সেটি অনুমোদিত, অপেক্ষমাণ না প্রত্যাখ্যাত তা দেখা যায়। আবেদন প্রিন্ট করলে মাদ্রাসার লেটারহেড, স্মারক নম্বর, সিদ্ধান্তের সীল, শিক্ষার্থী ও ছুটির বিস্তারিত এবং তিনটি স্বাক্ষরের ঘরসহ এক পাতার কপি বের হয়। ছুটির সিদ্ধান্ত হলে অভিভাবকের ফোনের ছবক অ্যাপে বার্তা চলে যায়, তাই তাকে আলাদা করে ফোন করে জানাতে হয় না। হাজিরার হিসাব কীভাবে থাকে তা হাজিরা পাতায় দেখতে পারেন।

ছুটি, হাজিরা ও অভিভাবকের সাথে যোগাযোগ এক জায়গায় রাখতে চান?

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে হাজিরা, ছুটির আবেদন, নোটিশ ও ফলাফল একই জায়গায় থাকে এবং অভিভাবক অ্যাপে খবর পান। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

ছুটির দরখাস্ত কে লিখবেন, ছাত্র না অভিভাবক?
ছোট ছাত্রের ক্ষেত্রে অভিভাবকই লিখবেন এবং স্বাক্ষর করবেন। বড় জামাতের ছাত্র নিজে লিখতে পারে, তবে আবাসিক ছাত্রের বাড়ি যাওয়ার ছুটিতে অভিভাবকের সম্মতি বা ফোনে নিশ্চিত হওয়া দরকার।
ছুটির দরখাস্ত কত দিন আগে দিতে হয়?
আগে থেকে জানা কারণ, যেমন বিয়ের অনুষ্ঠান বা সফর, হলে অন্তত দুই তিন দিন আগে দিন। হঠাৎ অসুস্থতার ক্ষেত্রে সেদিন ফোনে জানিয়ে পরে ফিরে এসে লিখিত আবেদন জমা দিন।
অসুস্থতার ছুটিতে কি ডাক্তারের কাগজ লাগে?
এক দুই দিনের জন্য সাধারণত লাগে না। তিন দিনের বেশি হলে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের কপি সাথে দিলে ভালো, এতে অনুপস্থিতি ছুটি হিসেবে গণ্য করা সহজ হয়।
শিক্ষকের ছুটির দরখাস্তে বদলি শিক্ষকের নাম লিখতে হয় কেন?
যাতে তার দরস বা ঘণ্টা খালি না যায়। দরখাস্তেই লেখা থাকলে মুহতামিম জানেন ঐ দিনগুলোতে কে পড়াবেন, আর ছাত্রদের পড়ার ক্ষতি হয় না।
ছুটির দরখাস্ত কি জমা রাখা দরকার?
হ্যাঁ। মাস শেষে হাজিরা খাতার অনুপস্থিতির সাথে মিলিয়ে দেখতে এবং বছর শেষে কে কত দিন ছুটি নিয়েছে তার হিসাব করতে কাজে লাগে। একটি ফাইলে তারিখ অনুযায়ী সাজিয়ে রাখুন।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

আমাদের আর্টিকেল শেয়ার করুন
Facebook
WhatsApp

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

English: Read about Sabaq madrasa management software in English

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো