মাদ্রাসার হাজিরা খাতা: নমুনা ও লেখার নিয়ম

হাজিরা খাতায় প্রতি মাসের জন্য একটি পাতা থাকে: বাঁ পাশে রোল ও নাম, উপরে ১ থেকে ৩১ তারিখ, আর ডান পাশে মাসের মোট উপস্থিতি, অনুপস্থিতি ও ছুটি। প্রতিদিন প্রথম ঘণ্টায় নাম ডেকে নির্দিষ্ট চিহ্ন বসাতে হয় এবং মাস শেষে যোগ করে শ্রেণি শিক্ষক স্বাক্ষর করেন। নিচে ছাত্র ও শিক্ষক দুই রকম খাতার নমুনা এবং প্রিন্ট করার মতো ফ্রি টেমপ্লেট দেওয়া হলো।

মাদ্রাসার ছাত্র হাজিরা খাতার মাসিক নমুনা (ফ্রি Word টেমপ্লেট)
ফ্রি ডাউনলোড (রেজিস্ট্রেশন লাগে না): মাদ্রাসার হাজিরা খাতার Word টেমপ্লেট (.docx)। প্রথম পাতায় ছাত্রদের মাসিক হাজিরার ছক (৩১ দিন, ২২ জন), দ্বিতীয় পাতায় শিক্ষক ও কর্মচারীর দৈনিক হাজিরা (আগমন ও প্রস্থানের সময়, স্বাক্ষরসহ)। A4 কাগজে আড়াআড়ি প্রিন্ট হয়। ছাত্র বেশি হলে একই পাতা আবার প্রিন্ট করে রোল চালিয়ে যান। টেমপ্লেট ডাউনলোড করুন

হাজিরা খাতার পাতায় কী কী থাকে?

অংশ কী লিখবেন কেন দরকার
উপরের লাইন মাদ্রাসার নাম, জামাত বা শ্রেণি, শাখা, মাস, সাল, শ্রেণি শিক্ষক পাতা আলাদা হয়ে গেলেও কোন শ্রেণির কোন মাসের তা বোঝা যায়
রোল ও নাম রোল অনুযায়ী ছাত্রের পূর্ণ নাম প্রতি মাসে একই ক্রম থাকলে মিলানো সহজ
১ থেকে ৩১ প্রতিদিনের ঘরে একটি চিহ্ন কোন দিন কে আসেনি তা এক নজরে দেখা যায়
উ, অ, ছু মাস শেষে মোট উপস্থিত, অনুপস্থিত ও ছুটির দিন ফলাফল, বৃত্তি ও অভিভাবককে জানানোর কাজে লাগে
স্বাক্ষর শ্রেণি শিক্ষক, নাজেমে তালিমাত, মুহতামিম হিসাবটি যাচাই করা হয়েছে তার প্রমাণ

হাজিরা খাতায় কোন চিহ্ন কখন বসাবেন?

চিহ্ন অর্থ কখন বসাবেন
উ উপস্থিত নাম ডাকার সময় ছাত্র শ্রেণিতে আছে
অ অনুপস্থিত আসেনি এবং কোনো আবেদনও নেই
ছু ছুটি আগে দরখাস্ত দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করানো আছে
দে দেরি নাম ডাকার পরে এসেছে
বন্ধ ছুটির দিন শুক্রবার বা ঘোষিত ছুটি, পুরো কলামে একবার

অনুপস্থিত আর ছুটি আলাদা রাখা জরুরি। যে ছাত্র ছুটির দরখাস্ত দিয়ে গেছে তার ঘরে অ বসালে মাস শেষে তার অনুপস্থিতি বেশি দেখাবে, যা তার প্রতি অবিচার।

হাজিরা খাতা লেখার নিয়ম

  1. মাসের প্রথম দিনেই নতুন পাতায় রোল অনুযায়ী সব ছাত্রের নাম তুলে নিন। মাসের মাঝখানে নতুন ছাত্র এলে নিচে যোগ করুন।
  2. প্রতিদিন প্রথম ঘণ্টায় নাম ডেকে হাজিরা নিন। মুখ দেখে আন্দাজে বসাবেন না।
  3. কলম দিয়ে লিখুন, পেনসিল নয়। ভুল হলে এক টানে কেটে পাশে সঠিক চিহ্ন লিখে ছোট স্বাক্ষর দিন।
  4. কোনো ঘর ফাঁকা রাখবেন না। ছুটির দিনের কলামে “বন্ধ” লিখুন।
  5. যে ছাত্র টানা তিন দিন আসেনি তার অভিভাবককে সেদিনই জানান।
  6. মাস শেষে প্রতিটি ছাত্রের উ, অ ও ছু গুনে ডান পাশের ঘরে লিখুন এবং স্বাক্ষর করুন।
  7. খাতাটি মুহতামিম বা নাজেমে তালিমাতকে দেখিয়ে স্বাক্ষর নিন।

শিক্ষক হাজিরা খাতা কীভাবে রাখবেন?

শিক্ষক ও কর্মচারীর হাজিরা ছাত্রদের মতো চিহ্ন দিয়ে নয়, স্বাক্ষর দিয়ে হয়। টেমপ্লেটের দ্বিতীয় পাতায় একটি দৈনিক ছক আছে। এতে আটটি ঘর: ক্রমিক, নাম, পদবি, আগমনের সময়, স্বাক্ষর, প্রস্থানের সময়, স্বাক্ষর এবং মন্তব্য। শিক্ষক এসে নিজ হাতে সময় লিখে স্বাক্ষর করেন, যাওয়ার সময় আবার করেন। কেউ ছুটিতে থাকলে অফিস মন্তব্যের ঘরে “ছুটি” লিখে দেয়। প্রতিদিন নতুন পাতা ব্যবহার করুন এবং তারিখ অনুযায়ী ফাইলে রাখুন। মাস শেষে এই পাতাগুলো থেকেই শিক্ষকদের বেতনের হিসাব মিলানো হয়।

মাস শেষে হাজিরা থেকে কী হিসাব বের করবেন?

  • মোট কার্যদিবস: মাসের দিন থেকে শুক্রবার ও ঘোষিত ছুটি বাদ দিয়ে।
  • প্রতি ছাত্রের উপস্থিতির হার: উপস্থিত দিনকে কার্যদিবস দিয়ে ভাগ করে ১০০ দিয়ে গুণ।
  • কারা পাঁচ দিনের বেশি অনুপস্থিত, তাদের আলাদা তালিকা।
  • কারা প্রতিদিন উপস্থিত, তাদের নাম (পুরস্কার বা প্রশংসার জন্য)।
  • শ্রেণির গড় উপস্থিতি, যা কমিটির সভায় দেখানো যায়।
হাজিরা খাতা বছর শেষে ফেলে দেবেন না। ছাত্রের প্রত্যয়ন পত্র, ছাড়পত্র বা পরে কোনো অভিযোগ উঠলে এই খাতাই প্রমাণ। অন্তত কয়েক বছর সংরক্ষণ করুন।

খাতার বদলে সফটওয়্যারে হাজিরা নিলে কী বদলায়?

খাতায় হাজিরা নেওয়া সহজ, কিন্তু মাস শেষে গোনার কাজটি সময় নেয় এবং অভিভাবক জানতে পারেন না সন্তান আজ এসেছে কি না। ছবক সফটওয়্যারে শ্রেণি, শাখা ও তারিখ বেছে নিয়ে এক চাপে সবাইকে উপস্থিত দিয়ে শুধু অনুপস্থিতদের বদলে দেওয়া যায়। চাইলে আঙুলের ছাপ, মুখ বা কার্ডের মেশিনেও হাজিরা নেওয়া যায়। মাস বা তারিখ ধরে কে কতদিন উপস্থিত, অনুপস্থিত বা দেরিতে এসেছে তার রিপোর্ট নিজে থেকে তৈরি হয়, ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মচারীর জন্য আলাদা। হাজিরার খবর অভিভাবকের ফোনের ছবক অ্যাপেও যায়। যারা খাতাতেই থাকতে চান তাদের জন্য সফটওয়্যার থেকে খালি হাজিরা শিটও প্রিন্ট করা যায়। কোন পদ্ধতি কার জন্য মানানসই তা মাদ্রাসার হাজিরা পদ্ধতি লেখায় তুলনা করে দেখানো আছে, আর মেশিনের বিস্তারিত হাজিরা ও বায়োমেট্রিক পাতায়।

মাস শেষে হাজিরা গোনার ঝামেলা কমাতে চান?

ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে হাজিরা নিলে মাসিক রিপোর্ট নিজে থেকে তৈরি হয় এবং অভিভাবক অ্যাপে খবর পান। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।

সাধারণ কিছু প্রশ্ন

হাজিরা খাতায় কোন চিহ্ন ব্যবহার করা উচিত?
যেকোনো চিহ্ন চলে, তবে পুরো মাদ্রাসায় একই চিহ্ন হতে হবে। প্রচলিত নিয়ম হলো উ বা টিক চিহ্ন উপস্থিতির জন্য, অ অনুপস্থিতির জন্য, ছু মঞ্জুর করা ছুটির জন্য এবং দে দেরিতে আসার জন্য। খাতার নিচে চিহ্নের অর্থ লিখে রাখুন।
হাজিরা দিনে কয়বার নিতে হয়?
অনাবাসিক মাদ্রাসায় প্রথম ঘণ্টায় একবার নেওয়াই যথেষ্ট। আবাসিক মাদ্রাসায় অনেকে সকাল ও বিকাল দুই বেলা নেন, যাতে দুপুরের পর কেউ চলে গেলে ধরা পড়ে। দুই বেলা নিলে প্রতিটি তারিখের ঘরকে দুই ভাগ করে নিন।
ছুটির দিনের ঘরে কী লিখব?
শুক্রবার বা ঘোষিত ছুটির দিনের পুরো কলামে উপর থেকে নিচে একটি দাগ টেনে “বন্ধ” লিখে দিন। এতে মাস শেষে মোট কার্যদিবস গুনতে সুবিধা হয় এবং ঘরটি ভুলে ফাঁকা থেকেছে বলে মনে হয় না।
শিক্ষক হাজিরা খাতা কি ছাত্রদের মতোই হবে?
না। শিক্ষকের খাতায় প্রতিদিনের জন্য আলাদা পাতা বা সারি থাকে, যেখানে তিনি নিজ হাতে আগমনের সময় লিখে স্বাক্ষর করেন এবং যাওয়ার সময় আবার স্বাক্ষর করেন। বেতন হিসাবের সময় এই স্বাক্ষরই প্রমাণ।
ছবক সফটওয়্যারে হাজিরা নিতে কত খরচ?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের দাম মাসিক ৫০০ টাকা, বাৎসরিক ৫,০০০ টাকা অথবা এককালীন ২০,০০০ টাকা। এর সাথে একবারের ইনস্টলেশন চার্জ ২,০০০ টাকা (২০০ জনের কম শিক্ষার্থী) বা ৫,০০০ টাকা (২০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী)। হাতে হাজিরা নেওয়ার জন্য আলাদা কোনো খরচ নেই। মেশিনে হাজিরা নিতে চাইলে মেশিনটি আলাদা কিনতে হয়। বিস্তারিত মূল্য তালিকা পাতায় আছে।

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

আমাদের আর্টিকেল শেয়ার করুন
Facebook
WhatsApp

মাত্র মাসিক ৫০০ টাকায় ব্যবহার করুন মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার

English: Read about Sabaq madrasa management software in English

কল করুন হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রি ডেমো