মাদ্রাসার প্যাড ডিজাইন: নমুনা ও তৈরির নিয়ম
মাদ্রাসার প্যাডে উপরে থাকে মাদ্রাসার নাম (বড় অক্ষরে), পূর্ণ ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, স্থাপিত সাল ও লোগো, তার নিচে একটি রেখা এবং স্মারক নম্বর ও তারিখের ঘর। নিচে সরু রেখার তলায় যোগাযোগের তথ্য আবার দেওয়া যায়। মাঝের পুরো জায়গা লেখার জন্য ফাঁকা থাকে। নিচে তিন রকম সাজানোর নমুনা এবং বদলে নেওয়ার মতো ফ্রি Word ফাইল দেওয়া হলো।

প্যাডে কী কী থাকে?
| অংশ | কী দেবেন | খেয়াল রাখুন |
|---|---|---|
| মাদ্রাসার নাম | পূর্ণ নাম, সবচেয়ে বড় অক্ষরে | রেজিস্টার ও সীলের নামের সাথে হুবহু মিলবে |
| ঠিকানা | গ্রাম বা মহল্লা, ডাকঘর, উপজেলা, জেলা | সংক্ষেপে নয়, পূর্ণ ঠিকানা |
| যোগাযোগ | অফিসের মোবাইল, ইমেইল, ওয়েবসাইট (থাকলে) | স্থায়ী নম্বর দিন |
| স্থাপিত সাল | হিজরি বা ইংরেজি সাল | পুরনো প্রতিষ্ঠান হলে এটি আস্থা বাড়ায় |
| লোগো | মাদ্রাসার মনোগ্রাম | না থাকলে জায়গাটি বাদ দিন, খালি ঘর রাখবেন না |
| রেখা | উপরের অংশের নিচে একটি সরল রেখা | রেখার রঙ ও নামের রঙ এক রাখুন |
| স্মারক নং ও তারিখ | রেখার ঠিক নিচে, দুই পাশে | প্রতিটি চিঠিতে লাগে |
| নিচের লাইন | ঠিকানা ও যোগাযোগ ছোট অক্ষরে | লেখার জায়গা যেন না কমে |
তিন রকম প্যাডের নমুনা
| নকশা | কেমন দেখায় | কার জন্য মানানসই |
|---|---|---|
| ১। নাম মাঝখানে | নাম, ঠিকানা ও যোগাযোগ সব মাঝখানে, নিচে সবুজ রেখা | যাদের লোগো নেই, সবচেয়ে সহজ ও পরিচ্ছন্ন |
| ২। বাঁ পাশে লোগো | বাঁ পাশে লোগোর ঘর, ডান পাশে নাম ও ঠিকানা, নিচে মোটা রেখা | যাদের লোগো আছে |
| ৩। তিন ভাষায় নাম | উপরে আরবি, মাঝে বাংলা, নিচে ইংরেজি নাম, দুই রেখার বর্ডার, ইংরেজি ও হিজরি তারিখের ঘর | কওমি মাদ্রাসা ও যারা বিদেশি দাতার সাথে চিঠি লেখেন |
তিনটি নকশাই একই Word ফাইলে আলাদা পাতায় আছে। যেটি পছন্দ সেটি রেখে বাকি দুটি পাতা মুছে দিন, তারপর ফাইলটি “প্যাড” নামে সংরক্ষণ করুন। এরপর প্রতিটি নতুন চিঠির জন্য ঐ ফাইলের কপি খুলে লিখুন।
প্যাড ডিজাইনের সময় যা খেয়াল রাখবেন
- উপরের অংশ পাতার পাঁচ ভাগের এক ভাগের বেশি জায়গা যেন না নেয়।
- এক বা দুই রঙের বেশি ব্যবহার করবেন না। সবুজ ও কালো বহুল ব্যবহৃত এবং সাদা কালো ফটোকপিতেও পরিষ্কার থাকে।
- পুরো পাতায় হালকা ছবি বা জলছাপ দিলে লেখা পড়তে কষ্ট হয় এবং ফটোকপিতে দাগ পড়ে।
- অক্ষরের ধরন একটি বা দুটি রাখুন।
- চারপাশে অন্তত দুই সেন্টিমিটার ফাঁকা রাখুন, নইলে প্রিন্টারে কেটে যায়।
- নামের বানান সীল, সাইনবোর্ড ও ব্যাংক হিসাবের সাথে মিলিয়ে নিন।
Word ফাইল থেকে নিজের প্যাড বানানোর ধাপ
- টেমপ্লেট ডাউনলোড করে খুলুন এবং পছন্দের নকশাটি বেছে নিন।
- [মাদ্রাসার নাম], [ঠিকানা], [নম্বর] লেখা জায়গাগুলোতে নিজের তথ্য বসান।
- লোগো থাকলে লোগোর ঘরে ছবি বসান। না থাকলে নকশা ১ ব্যবহার করুন।
- পাতার নিচের লাইনে (ফুটারে) দুবার ক্লিক করে যোগাযোগের তথ্য বদলান।
- ধূসর রঙের নির্দেশনার লাইনটি মুছে দিন।
- একটি পাতা প্রিন্ট করে দেখুন সব ঠিক আছে কি না, তারপর ফাইলটি সংরক্ষণ করুন।
- হাতে লেখার প্যাড লাগলে এই ফাইল বা এর প্রিন্ট প্রেসে দিন।
প্যাডে কী কী কাগজ লেখা হয়?
প্যাড তৈরি হয়ে গেলে নিচের কাগজগুলো তাতেই লেখা হয়। প্রতিটির আলাদা নমুনা আমাদের সাইটে আছে: প্রত্যয়ন পত্র, ছাড়পত্র, নোটিশ, শিক্ষক নিয়োগ পত্র, দাওয়াত নামা ও সাহায্যের আবেদন। ঐ টেমপ্লেটগুলোর উপরের অংশে আপনার প্যাডের নকশাটি বসিয়ে নিলেই হবে।
সফটওয়্যারের প্রিন্টে প্যাডের কাজ কীভাবে হয়?
প্রতিটি কাগজে আলাদা করে নাম ঠিকানা বসানো সময়সাপেক্ষ। ছবক সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও লোগো একবার বসিয়ে দিলে রসিদ, ভর্তি ফর্ম, এডমিট কার্ড, মার্কশিট ও ছুটির আবেদনের প্রিন্টে তা নিজে থেকেই চলে আসে। রসিদের উপরে ও নিচে নিজস্ব হেডার ও ফুটারের ছবিও বসানো যায়। ফলে সফটওয়্যার থেকে বের হওয়া কাগজগুলো আলাদা প্যাডে ছাপাতে হয় না। আইডি কার্ড ও প্রিন্টের নকশা নিয়ে বিস্তারিত আইডি কার্ড ও প্রিন্ট ডিজাইন পাতায় আছে।
রসিদ, ভর্তি ফর্ম ও মার্কশিট মাদ্রাসার নাম লোগোসহ প্রিন্ট করতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে প্রতিষ্ঠানের নাম ও লোগো একবার বসালে সব প্রিন্টে তা চলে আসে। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।