মাদ্রাসার নিয়মাবলী: নমুনা ও লেখার নিয়ম
মাদ্রাসার নিয়মাবলী সাধারণত তিন ভাগে লেখা হয়: সব ছাত্রের জন্য সাধারণ নিয়ম (উপস্থিতি, পোশাক, আচরণ, বেতন), আবাসিক ছাত্রদের জন্য বাড়তি নিয়ম (সময়সূচি, ছুটি, সাক্ষাৎ), এবং ভর্তির নিয়ম ও অভিভাবকের করণীয়। প্রতিটি ভাগে দশ থেকে বারোটি ছোট বাক্যের নিয়ম রাখাই যথেষ্ট। নিচে তিন ভাগেরই তৈরি নমুনা দেওয়া হলো।

লিখিত নিয়মাবলী কেন দরকার?
মুখে বলা নিয়ম শিক্ষকভেদে বদলে যায়। একজন যা নিষেধ করেন, অন্যজন তা মেনে নেন, আর ছাত্র ও অভিভাবক বিভ্রান্ত হন। লিখিত নিয়মাবলী থাকলে সবাই একই কথা জানেন। ভর্তির দিনই অভিভাবক বুঝে নেন মাদ্রাসা কী আশা করে, আর পরে কোনো সমস্যায় শিক্ষককে নতুন করে তর্ক করতে হয় না, কাগজটি দেখিয়ে দিলেই হয়।
নমুনা ১: ছাত্র/ছাত্রীদের সাধারণ নিয়মাবলী
ছাত্র/ছাত্রীদের সাধারণ নিয়মাবলী
১। দরস শুরুর অন্তত …….. মিনিট আগে মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে হবে।
২। মাদ্রাসার নির্ধারিত পোশাক পরে আসতে হবে এবং পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
৩। অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকা যাবে না। ছুটির প্রয়োজনে অভিভাবকের লিখিত দরখাস্ত দিতে হবে।
৪। টানা …….. দিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে অভিভাবককে মাদ্রাসায় এসে কারণ জানাতে হবে।
৫। উস্তাদ ও বড়দের সম্মান করতে হবে এবং সহপাঠীদের সাথে ভালো আচরণ করতে হবে।
৬। মোবাইল ফোন, গেম বা মাদ্রাসার নিষিদ্ধ করা কোনো জিনিস সাথে আনা যাবে না।
৭। কিতাব, খাতা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রতিদিন সাথে আনতে হবে।
৮। মাদ্রাসার আসবাব, দেয়াল, কিতাব ও সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না।
৯। দরস চলাকালীন অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষের বাইরে যাওয়া যাবে না।
১০। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করতে হবে।
১১। প্রতি মাসের …….. তারিখের মধ্যে মাসিক বেতন পরিশোধ করতে হবে।
১২। সকল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
উপরের নিয়ম ভঙ্গ করলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবককে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে নিয়ম পরিবর্তন করতে পারবেন।
নমুনা ২: আবাসিক ছাত্রদের নিয়মাবলী
আবাসিক ছাত্রের দায়িত্ব দিনরাত মাদ্রাসার উপর থাকে, তাই এখানে নিরাপত্তা ও সময়সূচির নিয়ম বেশি।
আবাসিক ছাত্রদের নিয়মাবলী
১। ঘুম থেকে ওঠা, নামাজ, খাবার, পড়া ও ঘুমের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে চলতে হবে।
২। অনুমতি ছাড়া মাদ্রাসার সীমানার বাইরে যাওয়া যাবে না।
৩। বাড়ি যেতে হলে অভিভাবক নিজে এসে অথবা লিখিত দরখাস্ত দিয়ে ছুটি নিতে হবে।
৪। ছুটি শেষে নির্ধারিত দিন ও সময়ে মাদ্রাসায় ফিরতে হবে।
৫। নিজের বিছানা, কাপড় ও থাকার জায়গা নিজে পরিষ্কার রাখতে হবে।
৬। অসুস্থ হলে সাথে সাথে দায়িত্বশীল উস্তাদকে জানাতে হবে।
৭। টাকা ও মূল্যবান জিনিস নিজের কাছে না রেখে অফিসে জমা রাখতে হবে।
৮। অভিভাবক নির্ধারিত দিন ও সময়ে সাক্ষাৎ করতে পারবেন: …….. বার, …….. টা থেকে …….. টা।
৯। বাইরের খাবার আনার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের নিয়ম মানতে হবে।
১০। অন্যের জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
১১। রাতে নির্ধারিত সময়ের পর বাতি নিভিয়ে ঘুমাতে হবে।
১২। প্রতি মাসের …….. তারিখের মধ্যে খোরাকি ও বেতন পরিশোধ করতে হবে।
আবাসিক ছাত্রের নিরাপত্তা ও পড়ালেখার স্বার্থেই এই নিয়ম। অভিভাবকদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
নমুনা ৩: ভর্তির নিয়মাবলী ও অভিভাবকদের জন্য নির্দেশনা
ভর্তির নিয়মাবলী ও অভিভাবকদের জন্য নির্দেশনা
১। ভর্তির সময় অভিভাবককে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।
২। জন্ম নিবন্ধনের ফটোকপি, ছবি ২ কপি এবং অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে।
৩। অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে এলে ছাড়পত্র বা প্রত্যয়ন পত্র জমা দিতে হবে।
৪। ভর্তি ফি ও প্রথম মাসের বেতন ভর্তির দিন পরিশোধ করতে হবে। ভর্তি ফি ফেরতযোগ্য নয়।
৫। ভর্তি ফরমে দেওয়া মোবাইল নম্বর চালু রাখতে হবে। নম্বর বদলালে অফিসে জানাতে হবে।
৬। মাদ্রাসার নোটিশ, ফলাফল ও বকেয়ার খবর ঐ নম্বরে জানানো হবে।
৭। মাসে অন্তত একবার সন্তানের পড়ালেখার খোঁজ নিতে মাদ্রাসায় আসার অনুরোধ রইল।
৮। অভিভাবক সভায় উপস্থিত থাকতে হবে।
৯। কোনো অভিযোগ বা পরামর্শ থাকলে সরাসরি মুহতামিম বা অফিসে জানাতে হবে।
১০। মাদ্রাসা ছাড়তে চাইলে লিখিত আবেদন করে বকেয়া পরিশোধের পর ছাড়পত্র নিতে হবে।
ভর্তির সময় ছাত্র ও অভিভাবক এই নিয়মাবলী পড়ে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করবেন।
নিয়মাবলী লেখার সময় যা খেয়াল রাখবেন
- প্রতিটি নিয়ম এক বাক্যে লিখুন, সহজ শব্দে।
- এমন নিয়ম দেবেন না যা মাদ্রাসা নিজে মানাতে পারবে না। না মানা নিয়ম বাকি নিয়মের গুরুত্বও কমায়।
- সংখ্যা ও সময় স্পষ্ট করে দিন: কত তারিখের মধ্যে বেতন, কয় দিন অনুপস্থিত থাকলে কী হবে।
- শুধু নিষেধ নয়, কেন নিয়মটি আছে তা শেষে এক লাইনে বলুন।
- শিক্ষকদের সাথে বসে চূড়ান্ত করুন, যাতে সবাই একইভাবে প্রয়োগ করেন।
- প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতে একবার পড়ে দেখুন কোনটি বদলানো দরকার।
নিয়মাবলী চালু করার ধাপ
- টেমপ্লেটের নিয়মগুলো পড়ে আপনার মাদ্রাসার জন্য প্রযোজ্য নয় এমনগুলো বাদ দিন।
- ফাঁকা জায়গায় সময়, তারিখ ও দিনের সংখ্যা বসান।
- শিক্ষকদের সভায় পড়ে শুনিয়ে মতামত নিন এবং মুহতামিমের স্বাক্ষর নিন।
- ভর্তির সময় প্রত্যেক অভিভাবককে এক কপি দিন এবং অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নিন।
- শ্রেণিকক্ষ, আবাসিক কক্ষ ও নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দিন।
- বছরের শুরুতে প্রথম সপ্তাহে প্রতিটি শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়মগুলো পড়ে বুঝিয়ে দিন।
নিয়ম মানা হচ্ছে কি না বুঝবেন কীভাবে?
নিয়মাবলীর বেশিরভাগ নিয়ম উপস্থিতি, বেতন ও পরীক্ষার সাথে যুক্ত, আর এগুলোর হিসাব থাকলেই বোঝা যায় কে নিয়ম মানছে। ছবক সফটওয়্যারে হাজিরা নিলে কে কতদিন অনুপস্থিত বা দেরিতে এসেছে তার রিপোর্ট পাওয়া যায় এবং হাজিরার খবর অভিভাবকের অ্যাপে যায়। বকেয়া বেতনের তালিকা আলাদাভাবে দেখা যায়। ভর্তি ফর্ম প্রিন্ট করলে তাতে অভিভাবকের জন্য নোটিশ ও অঙ্গীকারনামার অংশ থাকে, আর এডমিট কার্ডে পরীক্ষার নিয়মাবলী ছাপা হয়। ফলে নিয়মগুলো শুধু দেয়ালে নয়, প্রতিদিনের কাগজেও থাকে। হাজিরার বিস্তারিত হাজিরা খাতা লেখায় দেখুন।
উপস্থিতি, বেতন ও ফলাফলের হিসাব এক জায়গায় রাখতে চান?
ছবক মাদ্রাসা ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারে ভর্তি, হাজিরা, বেতন আদায় ও ফলাফল একই জায়গায় থাকে এবং অভিভাবক অ্যাপে খবর পান। ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে জানালে আমরা বিনামূল্যে ডেমো দেখিয়ে দিই।